২৯/২৪. অধ্যায়ঃ

তালাকপ্রাপ্তা বাদীর ইদ্দতের বর্ণনা ও বিধান

ক্রীতদাসী স্ত্রীর তালাক ও ইদ্দত: মুক্তির পর নিয়ম বদলায় কি?

মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১২০৭

قَالَ مَالِك الْأَمْرُ عِنْدَنَا فِي طَلَاقِ الْعَبْدِ الْأَمَةَ إِذَا طَلَّقَهَا وَهِيَ أَمَةٌ ثُمَّ عَتَقَتْ بَعْدُ فَعِدَّتُهَا عِدَّةُ الْأَمَةِ لَا يُغَيِّرُ عِدَّتَهَا عِتْقُهَا كَانَتْ لَهُ عَلَيْهَا رَجْعَةٌ أَوْ لَمْ تَكُنْ لَهُ عَلَيْهَا رَجْعَةٌ لَا تَنْتَقِلُ عِدَّتُهَا قَالَ مَالِك وَمِثْلُ ذَلِكَ الْحَدُّ يَقَعُ عَلَى الْعَبْدِ ثُمَّ يَعْتِقُ بَعْدَ أَنْ يَقَعَ عَلَيْهِ الْحَدُّ فَإِنَّمَا حَدُّهُ حَدُّ عَبْدٍ.২১৫৯قَالَ مَالِك وَالْحُرُّ يُطَلِّقُ الْأَمَةَ ثَلَاثًا وَتَعْتَدُّ بِحَيْضَتَيْنِ وَالْعَبْدُ يُطَلِّقُ الْحُرَّةَ تَطْلِيقَتَيْنِ وَتَعْتَدُّ ثَلَاثَةَ قُرُوء، ২১৬قَالَ مَالِك فِي الرَّجُلِ تَكُونُ تَحْتَهُ الْأَمَةُ ثُمَّ يَبْتَاعُهَا، فَيَعْتِقُهَا إِنَّهَا تَعْتَدُّ عِدَّةَ الْأَمَةِ حَيْضَتَيْنِ مَا لَمْ يُصِبْهَا فَإِنْ أَصَابَهَا بَعْدَ مِلْكِهِ إِيَّاهَا قَبْلَ عِتَاقِهَا لَمْ يَكُنْ عَلَيْهَا إِلَّا الْاسْتِبْرَاءُ بِحَيْضَةٍ.

মালিক (র) হতে বর্ণিতঃ

ক্রীতদাস তার ক্রীতদাসী স্ত্রীকে ক্রীতদাসী থাক অবস্থায় তালাক দিল। তারপর স্ত্রী মুক্তিলাভ করল। এমতাবস্থায় আমাদের মতে তার ইদ্দত হবে ক্রীতদাসীর ইদ্দত। মুক্তিলাভ তার ইদ্দতে কোন পরিবর্তন আনবে না। তাঁর স্বামী তার দিকে প্রত্যাবর্তন করার অধিকার থাকুক আর না থাকুক কোন অবস্থাতেই ইদ্দত পরিবর্তিত হবে না। মালিক (র) বলেন : (ইসলামী বিধান মুতাবিক অপরাধের শাস্তি)-এর ব্যাপারও অনুরূপ। ক্রীতদাসের উপর হদ এর শাস্তি নির্ধারণ করা হল। অতঃপর তাকে মুক্তি দেয়া হল। তার ক্ষেত্রেও হদ ক্রীতদাসের মতোই হবে। মালিক (র) বলেন : আযাদ ব্যক্তি ক্রীতদাসীকে তিন তালাক দিতে পারবে। সে দুই হায়য (মাসিক ঋতু) ইদ্দত পালন করবে আর ক্রীতদাস আযাদ রমনীকে দুই তালাক দিতে পারবে, সে ইদ্দত পালন করবে তিন কুরূ।মালিক (র) বলেন : যে ব্যক্তির স্ত্রী ক্রীতদাসী, অতঃপর উহাকে সে ক্রয় করল এবং আযাদ করে দিল, সেও ক্রীতদাসীর মতো দুই হায়য ইদ্দত পালন করবে যাবৎ তার সাথে সহবাস না করা হয়। আর যদি মালিক হওয়ার পর স্বামী তার সাথে সহবাস করে থাকে মুক্তি প্রদানের পূর্বে, তবে ইস্তিবরা (জরায়ূকে অন্যের বীর্য হতে মুক্ত করা) তার উপর এক হায়য ব্যতীত অন্য কিছু নাই।

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১২০৭-এর সারসংক্ষেপ

এই বর্ণনায় ইমাম মালিক (র) ক্রীতদাস ও ক্রীতদাসী স্ত্রীর তালাক ও ইদ্দত সম্পর্কে তাঁর এলাকার প্রচলিত ফয়সালা তুলে ধরেছেন। ক্রীতদাস তার ক্রীতদাসী স্ত্রীকে ক্রীতদাসী থাকা অবস্থায় তালাক দিলে, পরে স্ত্রী মুক্ত হলেও তার ইদ্দত ক্রীতদাসীর ইদ্দতই থাকবে। মুক্তিলাভ তার ইদ্দত পরিবর্তন করবে না। তিনি হদের শাস্তির উদাহরণও দিয়েছেন—শাস্তি ক্রীতদাস অবস্থায় নির্ধারিত হলে পরে মুক্ত হলেও সে বিধান বদলায় না। আরও বলা হয়েছে, স্বাধীন ব্যক্তি ক্রীতদাসী স্ত্রীকে তিন তালাক দিতে পারে, আর সে দুই হায়য ইদ্দত পালন করবে। ক্রীতদাস স্বাধীন নারীকে দুই তালাক দিতে পারে, আর সে তিন কুরূ ইদ্দত পালন করবে। এই হাদিসে ইদ্দত, তালাকের সংখ্যা এবং অবস্থার ভিত্তিতে বিধান বোঝানো হয়েছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • তালাক যে অবস্থায় দেওয়া হয়, ইদ্দতের হিসাব সেই অবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
  • মুক্তিলাভ সব ক্ষেত্রে আগের বিধান বদলে দেয় না।
  • ক্রীতদাস ও স্বাধীন ব্যক্তির তালাকের সংখ্যায় পার্থক্য বলা হয়েছে।
  • ইদ্দতের বিধান বুঝতে নারীর অবস্থা ও সম্পর্কের ধরন দেখা হয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন