২৯/২৩. অধ্যায়ঃ
তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর খোরপোশের বর্ণনা
ফাতিমা বিনত কায়েসের ঘটনা: বায়েন তালাক ও ইদ্দতের শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১২০৫
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১২০৫
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ يَزِيدَ مَوْلَى الْأَسْوَدِ بْنِ سُفْيَانَ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ أَنَّ أَبَا عَمْرِو بْنَ حَفْصٍ طَلَّقَهَا الْبَتَّةَ وَهُوَ غَائِبٌ بِالشَّامِ فَأَرْسَلَ إِلَيْهَا وَكِيلُهُ بِشَعِيرٍ فَسَخِطَتْهُ فَقَالَ وَاللهِ مَا لَكِ عَلَيْنَا مِنْ شَيْءٍ فَجَاءَتْ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ لَيْسَ لَكِ عَلَيْهِ نَفَقَةٌ وَأَمَرَهَا أَنْ تَعْتَدَّ فِي بَيْتِ أُمِّ شَرِيكٍ ثُمَّ قَالَ تِلْكَ امْرَأَةٌ يَغْشَاهَا أَصْحَابِي اعْتَدِّي عِنْدَ عَبْدِ اللهِ بْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ فَإِنَّهُ رَجُلٌ أَعْمَى تَضَعِينَ ثِيَابَكِ عِنْدَهُ فَإِذَا حَلَلْتِ فَآذِنِينِي قَالَتْ فَلَمَّا حَلَلْتُ ذَكَرْتُ لَهُ أَنَّ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ وَأَبَا جَهْمِ بْنَ هِشَامٍ خَطَبَانِيفَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَّا أَبُو جَهْمٍ فَلَا يَضَعُ عَصَاهُ عَنْ عَاتِقِهِ وَأَمَّا مُعَاوِيَةُ فَصُعْلُوكٌ لَا مَالَ لَهُ انْكِحِي أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ قَالَتْ فَكَرِهْتُهُ ثُمَّ قَالَ انْكِحِي أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ فَنَكَحْتُهُ فَجَعَلَ اللهُ فِي ذَلِكَ خَيْرًا وَاغْتَبَطْتُ بِهِ.
ফাতেমা বিনত কায়েস হতে বর্ণিত, আবূ আমর ইবনু হাফস (রা) হতে বর্ণিতঃ
তাকে তালাকে আল-বাত্তা দিলেন। তার স্বামী তখন সিরিয়াতে ছিলেন। অতঃপর তার উকীলকে গমসহ তাঁর নিকট পাঠালেন। তিনি তাকে অতি অল্প মনে করলেন। তাঁর উকীল বললেন, আমাদের কাছে তোমার প্রাপ্য আর কিছু নেই। তিনি (ফাতেমা) রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে উপস্থিত হলেন এবং এই ঘটনা উল্লেখ করলে রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার জন্য তোমার খোরপোশ প্রদান জরুরী নয় এবং ফাতেমাকে উম্মে শারীকের গৃহে ইদ্দত পালন করতে তিনি নির্দেশ দিলেন। তারপর বললেন : (উম্মে শারীক এমন একজন মহিলা) যার গৃহে আমার সাহাবিগণ সর্বদা যাতায়াত করে থাকেন। তুমি ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু উম্মে মকতুমের গৃহে ইদ্দত পালন কর, কারণ তিনি একজন অন্ধ ব্যক্তি। তোমার বস্ত্র তার নিকট উন্মুক্ত হলেও (এতে তোমার কোন অসুবিধা হবে না)। ইদ্দত শেষ হওয়ার পর তুমি অন্যের জন্য হালাল হয়ে গেলে আমাকে খবর দিও। ফাতেমা বললেন : আমি হালাল হওয়ার পর রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আমার বিষয় উল্লেখ করলাম এবং বললাম, মুয়াবিয়া ইবনু আবি সুফিয়ান (রা) ও আবূ জাহম ইবনু হিশাম (রা) তারা উভয়ে আমার কাছে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছেন। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবূ জাহম তার গর্দান হতে লাঠি নামায় না। আর মুয়াবিয়া দরিদ্র ব্যক্তি। তার ধন-সম্পদ নাই। তুমি উসামা ইবনু যায়দ (রা)-কে বিবাহ কর। ফাতেমা বললেন, আমি উসামাকে অপছন্দ করি। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় বললেন : তুমি উসামা ইবনু যায়দ (রা)-কে বিবাহ কর। তারপর আমি তাকে বিবাহ করি এবং আল্লাহ্ ইহাতে অনেক মঙ্গল দান করেছেন, যার কারণে আমার প্রতি ঈর্ষা করা হত। (সহীহ, মুসলিম ১৪৮০)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১২০৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ফাতিমা বিনত কায়েস (রা)-এর ঘটনা এসেছে। তাঁর স্বামী সিরিয়ায় থাকা অবস্থায় তাঁকে তালাকে আল-বাত্তা দেন। পরে স্বামীর উকিল কিছু গম পাঠালে তিনি তা কম মনে করেন। বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জানালে তিনি বলেন, তাঁর জন্য খোরপোশ জরুরি নয়। এরপর তিনি ইদ্দত কোথায় পালন করবেন, সে বিষয়ে নির্দেশ দেন। প্রথমে উম্মে শারীকের ঘরের কথা বলা হলেও পরে সাহাবিদের যাতায়াতের কারণে তাঁকে আবদুল্লাহ ইবনু উম্মে মকতুমের ঘরে ইদ্দত পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়। ইদ্দত শেষে বিয়ের প্রস্তাব নিয়েও তিনি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরামর্শ নেন। হাদিসটি বায়েন তালাক, ইদ্দত, নিরাপদ অবস্থান এবং বিয়ের ক্ষেত্রে ভালো পরামর্শ নেওয়ার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বায়েন তালাকের পর খোরপোশের বিষয়ে নির্দিষ্ট বিধান থাকতে পারে।
- ইদ্দত পালনের জায়গা বেছে নেওয়ার সময় নিরাপত্তা ও শালীনতা দেখা দরকার।
- বিয়ের প্রস্তাব এলে জ্ঞানী ও বিশ্বস্ত ব্যক্তির পরামর্শ নেওয়া ভালো।
- অপছন্দ থাকলেও ভালো পরামর্শে মঙ্গল থাকতে পারে।
