২৯/২২. অধ্যায়ঃ
যেই গৃহে স্ত্রীকে তালাক দেয়া হয় সে গৃহে ইদ্দত পালন করা
রুজূর আগে সতর্কতা: তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর মর্যাদা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১২০৩
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১২০৩
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ طَلَّقَ امْرَأَةً لَهُ فِي مَسْكَنِ حَفْصَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَ طَرِيقَهُ إِلَى الْمَسْجِدِ فَكَانَ يَسْلُكُ الطَّرِيقَ الْأُخْرَى مِنْ أَدْبَارِ الْبُيُوتِ كَرَاهِيَةَ أَنْ يَسْتَأْذِنَ عَلَيْهَا حَتَّى رَاجَعَهَا.
নাফি’ (র) হতে বর্ণিতঃ
আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা) তার জনৈকা স্ত্রীকে নবী-পত্নী হাফসা (রা)-এর গৃহে তালাক দিলেন। এই গৃহ তাহার মসজিদে গমনের পথে অবস্থিত ছিল। তাই তিনি অন্য পথে গৃহের পেছন দিয়ে মসজিদে গমন করতেন। এটা এজন্য যে, স্ত্রীর দিকে রুজূ’ না করা পর্যন্ত অনুমতি নিয়ে তাহার নিকট যাওয়াকে তিনি ভাল মনে করতেন না। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১২০৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা)-এর একটি সূক্ষ্ম আচরণ তুলে ধরা হয়েছে। তিনি তাঁর এক স্ত্রীকে হাফসা (রা)-এর ঘরে তালাক দেন। সেই ঘরটি তাঁর মসজিদে যাওয়ার পথে ছিল। কিন্তু তিনি অন্য পথ দিয়ে, ঘরের পেছন দিক দিয়ে মসজিদে যেতেন। কারণ, রুজূ না করা পর্যন্ত অনুমতি নিয়ে স্ত্রীর কাছে যাওয়াকেও তিনি ভালো মনে করতেন না। এখানে তালাকের বিধানের সঙ্গে আদব ও সতর্কতার শিক্ষা আছে। তালাক হয়ে গেলে সম্পর্কের অবস্থায় পরিবর্তন আসে। তাই রুজূ করার আগে স্বামী-স্ত্রীর আচরণে সীমা মানা প্রয়োজন। এই হাদিসে রুজূ, ইদ্দত এবং তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর সম্মান—এই তিনটি বিষয় খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রুজূ করার আগে স্বামীকে আচরণে সতর্ক থাকতে হয়।
- তালাকের পর স্ত্রীর ব্যক্তিগত মর্যাদা ও সীমা রক্ষা করা জরুরি।
- ইবনু উমার (রা)-এর আচরণ থেকে আদব ও সাবধানতার শিক্ষা পাওয়া যায়।
- শুধু আইন নয়, তালাকের বিষয়ে ভালো আচরণও গুরুত্বপূর্ণ।
