২৯/২২. অধ্যায়ঃ
যেই গৃহে স্ত্রীকে তালাক দেয়া হয় সে গৃহে ইদ্দত পালন করা
বায়েন তালাকের ইদ্দত: স্বামীর ঘরে থাকার বিধান
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১২০১
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১২০১
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ وَسُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ أَنَّهُ سَمِعَهُمَا يَذْكُرَانِ أَنَّ يَحْيَى بْنَ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ طَلَّقَ ابْنَةَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَكَمِ الْبَتَّةَ فَانْتَقَلَهَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْحَكَمِ فَأَرْسَلَتْ عَائِشَةُ أُمُّ الْمُؤْمِنِينَ إِلَى مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ وَهُوَ يَوْمَئِذٍ أَمِيرُ الْمَدِينَةِ فَقَالَتْ اتَّقِ اللهَ وَارْدُدْ الْمَرْأَةَ إِلَى بَيْتِهَا فَقَالَ مَرْوَانُ فِي حَدِيثِ سُلَيْمَانَ إِنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ غَلَبَنِي وَقَالَ مَرْوَانُ فِي حَدِيثِ الْقَاسِمِ أَوَ مَا بَلَغَكِ شَأْنُ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ فَقَالَتْ عَائِشَةُ لَا يَضُرُّكَ أَنْ لَا تَذْكُرَ حَدِيثَ فَاطِمَةَ. فَقَالَ مَرْوَانُ إِنْ كَانَ بِكِ الشَّرُّ فَحَسْبُكِ مَا بَيْنَ هَذَيْنِ مِنْ الشَّرِّ.
ইয়াহইয়া ইবনু সা’ঈদ ইবনুল আ’স (রা) হতে বর্ণিতঃ
আবদুর রহমান ইবনু হাকাম (র)-এর কন্যাকে তালাকে আল-বাত্তা (বায়েন তালাক) দিলেন। আবদুর রহমান ইবনু হাকাম কন্যাকে (স্বামীর গৃহ হতে নিজ গৃহে) সরিয়ে নিলেন। উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রা) মারওয়ান ইবন হাকামের নিকট লোক প্রেরণ করলেন। মারওয়ান তখন মদীনার গভর্নর। আয়িশা (রা) বললেন : আল্লাহকে ভয় করুন এবং (ইদ্দত পালনরতা) স্ত্রীকে তার স্বামীর গৃহে ফেরত পাঠান। সুলায়মানের রেওয়ায়ত সম্পর্কে মারওয়ান বললেন : আপনার নিকট ফাতেমা বিনত কায়েসের ব্যাপার পৌঁছে নাই কি? আয়িশা (রা) বললেন : ফাতেমার ঘটনা [১] উল্লেখ না করলে আপনার কোন ক্ষতি নেই (অর্থাৎ ইহাতে কোন দলীল নাই)। মারওয়ান বললেন : যদি আপনার দৃষ্টিতে স্বামীর গৃহে ফাতেমার ইদ্দত পালনে কোন অসুবিধা থাকে তবে যেহেতু উভয়ের মধ্যে (আবূ আমর ও তার স্ত্রী আমরা) যথেষ্ট অসুবিধা রয়েছে (যে কারণে স্বামীগৃহ ত্যাগ করে অন্যত্র ইদ্দত পালন করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে) তাই ইহা আপনার সন্তুষ্টির জন্য যথেষ্ট। (সহীহ, বুখারী ৫৩২২)
[১] ফাতেমা বিন্ত কায়স ইব্নু খালিদ ছিলেন ইরাকের গভর্নর যাহ্হাক ইবনু কায়স-এর বোন। তাকে বিবাহ করেন আবূ ‘আমর ইবনু হাযম (রা)। আবূ ‘আমর ছিলেন খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রা)-এর চাচাতো ভাই। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ‘আলী ইবনু আবি তালিবের সাথে ইয়ামানে প্রেরণ করেন। সেই সময় তিনি তার স্ত্রীকে অবশিষ্ট তৃতীয় তালাক প্রদান করেন। ইদ্দতকালীন সময়ে আবূ ‘আমর ইয়ামানে ইন্তিকাল করেন। বিশেষ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি স্বামীগৃহ ত্যাগ করে অন্যত্র ইদ্দত পালনের জন্য রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট অনুমতি চাইলেন। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অনুমতি দিলেন এবং তাকে অন্ধ সাহাবী ইবনু উম্মে মাকতুম (রা)-এর গৃহে উদ্দত পালন করার নির্দেশ দিলেন।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১২০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বায়েন তালাকের পর ইদ্দত পালনকারী নারীর অবস্থান নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা এসেছে। আবদুর রহমান ইবনু হাকাম তাঁর কন্যাকে স্বামীর ঘর থেকে নিজ গৃহে নিয়ে যান। তখন উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রা) মদীনার গভর্নর মারওয়ানের কাছে বার্তা পাঠিয়ে বলেন, আল্লাহকে ভয় করুন এবং স্ত্রীকে তার স্বামীর ঘরে ফিরিয়ে দিন। এখানে মূল শিক্ষা হলো, তালাকের পর ইদ্দত একটি নিয়মতান্ত্রিক সময়, যা অবহেলা করে নিজের ইচ্ছামতো বদলে ফেলা উচিত নয়। ফাতিমা বিনত কায়েসের ঘটনা নিয়ে মারওয়ান দলিল দিতে চাইলে আয়িশা (রা) ইঙ্গিত করেন যে, সেটি সব অবস্থার সাধারণ দলিল নয়। তাই বায়েন তালাক, ইদ্দত পালন এবং স্বামীর ঘরে থাকা—এসব বিষয়ে সতর্কভাবে ফয়সালা করা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইদ্দত পালনকারী নারীর থাকার জায়গা নিয়ে শরিয়তের নির্দেশকে গুরুত্ব দিতে হবে।
- তালাকের বিষয়ে ব্যক্তিগত আবেগের চেয়ে তাকওয়া ও ন্যায়কে সামনে রাখা উচিত।
- একটি বিশেষ ঘটনা সব অবস্থার সাধারণ নিয়ম বানানোর আগে সতর্ক থাকা দরকার।
- পারিবারিক বিবাদে দায়িত্বশীল ব্যক্তি ন্যায়ভিত্তিক সিদ্ধান্ত দেবেন।
