২৯/১৫. অধ্যায়ঃ
বাকিরা (কুমারী) স্ত্রীলোকের তালাক
সহবাসের আগে তিন তালাক: সাহাবীদের কাছে কঠিন মাসআলা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১১৭৭
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১১৭৭
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ الْأَشَجِّ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي عَيَّاشٍ الْأَنْصَارِيِّ أَنَّهُ كَانَ جَالِسًا مَعَ عَبْدِ اللهِ بْنِ الزُّبَيْرِ وَعَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ فَجَاءَهُمَا مُحَمَّدُ بْنُ إِيَاسِ بْنِ الْبُكَيْرِ فَقَالَ إِنَّ رَجُلًا مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ ثَلَاثًا قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ بِهَا فَمَاذَا تَرَيَانِ فَقَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ الزُّبَيْرِ إِنَّ هَذَا الْأَمْرَ مَا لَنَا فِيهِ قَوْلٌ فَاذْهَبْ إِلَى عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ فَإِنِّي تَرَكْتُهُمَا عِنْدَ عَائِشَةَ فَسَلْهُمَا ثُمَّ ائْتِنَا فَأَخْبِرْنَا فَذَهَبَ فَسَأَلَهُمَا فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لِأَبِي هُرَيْرَةَ أَفْتِهِ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ فَقَدْ جَاءَتْكَ مُعْضِلَةٌ فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ الْوَاحِدَةُ تُبِينُهَا وَالثَّلَاثَةُ تُحَرِّمُهَا حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ مِثْلَ ذَلِكَ.قَالَ مَالِك وَعَلَى ذَلِكَ الْأَمْرُ عِنْدَنَا ২১১১-وَالثَّيِّبُ إِذَا مَلَكَهَا الرَّجُلُ فَلَمْ يَدْخُلْ بِهَا إِنَّهَا تَجْرِي مَجْرَى الْبِكْرِ الْوَاحِدَةُ تُبِينُهَا وَالثَّلَاثُ تُحَرِّمُهَا حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ
মু’আবিয়া ইবনু আবি ‘আইয়াশ আনসারী (রা) হতে বর্ণিতঃ
আবদুল্লাহ্ ইবনু যুবায়র (রা) ও আসিম ইবনু উমার (রা)-এর সাথে বসা ছিলেন। এমন সময় তাদের কাছে মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াস ইবনু বুকাইর উপস্থিত হলেন এবং বললেন : এক বেদুঈন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে সঙ্গমের পূর্বে তিন তালাক দিয়েছে সে ব্যাপারে আপনাদের অভিমত কি? আবদুল্লাহ্ ইবনু যুবায়র বললেন : এ বিষয়ে আমাদের নিকট কোন রেওয়ায়ত পৌঁছেনি, তাই তুমি আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আব্বাস ও আবূ হুরায়রা (রা)-এর কাছে যাও এবং তাদের উভয়ের নিকট প্রশ্ন কর। আমি তাদের উভয়কে ‘আয়িশা সিদ্দীকা (রা)-এর নিকট দেখে এসেছি। তাদের নিকট হতে ফতোয়া জিজ্ঞেস করার পর আমার কাছে এসে বলে যাবে। মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াস সেখানে গেলেন এবং উভয়কে প্রশ্ন করলেন। ইবনু ‘আব্বাস আবূ হুরায়রা (রা)-কে বললেন, হে আবূ হুরায়রা! আপনি ফতোয়া বলুন। আপনার নিকট কঠিন মাস’আলা উপস্থিত হয়েছে। আবূ হুরায়রা (রা) বললেন : এক তালাক স্ত্রীকে স্বামী হতে পৃথক করবে (বিচ্ছেদ ঘটাবে), তিন তালাক তাকে হারাম করে দিবে যতক্ষণ না সে অন্য স্বামীর পাণি গ্রহণ না করে। ইবনু আব্বাসও অনুরূপ বললেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (র) বলেন, এই বিষয়ে আমাদের সিদ্ধান্তও অনুরূপ।মালিক (র) বলেন : অকুমারী নারীর কেউ মালিক হলে এবং উহার সাথে সংগত না হলে তবে তালাকের ব্যাপারে তারও কুমারীর মতো মাস’আলা হবে। এক তালাক তাকে পৃথক করবে এবং তিন তালাক তাকে হারাম করবে যতক্ষণ না সে অন্য স্বামীর পাণি গ্রহণ না করে।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১১৭৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক বেদুঈন ব্যক্তির ঘটনা এসেছে, যে সহবাসের আগে স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়েছিল। মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াস বিষয়টি নিয়ে আব্দুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রা) ও আসিম ইবনু উমার (রা)-এর কাছে যান। আব্দুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রা) বলেন, এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো রেওয়ায়ত নেই; তাই ইবনু আব্বাস (রা) ও আবূ হুরায়রা (রা)-এর কাছে যেতে বলেন। প্রশ্ন করা হলে আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, এক তালাক স্ত্রীকে পৃথক করে, আর তিন তালাক তাকে হারাম করে, যতক্ষণ না সে অন্য স্বামী গ্রহণ করে। ইবনু আব্বাস (রা) একই কথা বলেন। ইমাম মালিক (র) বলেন, তাদের সিদ্ধান্তও অনুরূপ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাহাবীরা অজানা বিষয়ে অনুমান না করে অন্য জ্ঞানী সাহাবীর কাছে পাঠিয়েছেন।
- এক তালাক পৃথক করে এবং তিন তালাক হারাম করে—এই ফতোয়া এসেছে।
- সহবাসের আগে তালাক হলেও তালাকের সংখ্যা গুরুত্ব রাখে।
- কঠিন মাসআলায় তাড়াহুড়া না করে নির্ভরযোগ্য জ্ঞান নেওয়া উচিত।
