২৯/১০. অধ্যায়ঃ
আযাদীর ইখতিয়ার অর্থাৎ স্ত্রী কর্তৃক তালাকের অধিকার প্রাপ্তির পর নিজের অধিকার প্রয়োগ সম্পর্কিত
স্ত্রীকে ইখতিয়ার দেওয়া: স্বামীকে বেছে নেওয়া ও তালাকের বিধান
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১১৬৮
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১১৬৮
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُوْلُ: إِذَا خَيَّرَ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ فَاخْتَارَتْهُ فَلَيْسَ ذَلِكَ بِطَلَاقٍ قَالَ مَالِك وَذَلِكَ أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ.قَالَ مَالِك فِي الْمُخَيَّرَةِ إِذَا خَيَّرَهَا زَوْجُهَا فَاخْتَارَتْ نَفْسَهَا فَقَدْ طَلُقَتْ ثَلَاثًا وَإِنْ قَالَ زَوْجُهَا لَمْ أُخَيِّرْكِ إِلَّا وَاحِدَةً فَلَيْسَ لَهُ ذَلِكَ وَذَلِكَ أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُهُ.قَالَ مَالِك وَإِنْ خَيَّرَهَا فَقَالَتْ قَدْ قَبِلْتُ وَاحِدَةً وَقَالَ لَمْ أُرِدْ هَذَا وَإِنَّمَا خَيَّرْتُكِ فِي الثَّلَاثِ جَمِيعًا أَنَّهَا إِنْ لَمْ تَقْبَلْ إِلَّا وَاحِدَةً أَقَامَتْ عِنْدَهُ عَلَى نِكَاحِهَا وَلَمْ يَكُنْ ذَلِكَ فِرَاقًا إِنْ شَاءَ اللهُ تَعَالَى.
মালিক (র) হতে বর্ণিতঃ
ইবনু শিহাব (র)-কে বলতে শুনেছেন যে, যখন কোন পুরুষ তার স্ত্রীকে অধিকার প্রদান করে এবং স্ত্রী নিজেকেই গ্রহণ করে তা হলে ইহা তালাক বলে গণ্য হবে না। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (র) বলেন : আমি যা শুনেছি তন্মধ্যে এটাই উত্তম। মালিক (র) অধিকার প্রাপ্ত মহিলা সম্পর্কে বলেন : যখন কোন মহিলাকে তার স্বামী অধিকার প্রদান করে, অতঃপর সেই স্ত্রী নিজ সত্তাকেই গ্রহণ করে তা হলে ইহা তিন তালাক বলে গণ্য হবে। আর যদি স্বামী বলে যে, তোমাকে শুধুমাত্র এক তালাকের অধিকার প্রদান করছি, তবে এইরূপ কথা বলার অধিকার স্বামীর নেই।মালিক (র) বলেন, এটাই উত্তম এ ব্যাপারে যা আমি শুনেছি। মালিক (র) বলেন : যদি স্ত্রীকে অধিকার প্রদান করে, অতঃপর স্ত্রী বলল : আমি এক তালাক গ্রহণ করলাম এবং স্বামী বলল : আমি এরূপ ইচ্ছা করিনি বরং আমি তোমাকে পূর্ণ তিন তালাকের অধিকার প্রদান করেছি। স্ত্রী যদি এক তালাক ব্যতীত গ্রহণ না করে তবে সে এই স্বামীর বিবাহে থাকবে। এই অবস্থায় বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটবে না।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১১৬৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে স্ত্রীকে ইখতিয়ার দেওয়া হলে তার ফল কী হবে, তা আলোচনা করা হয়েছে। ইবনু শিহাব (র) বলেন, কোনো পুরুষ স্ত্রীকে অধিকার দিলে স্ত্রী যদি স্বামীকেই বেছে নেয়, তাহলে তা তালাক হবে না। ইমাম মালিক (র) বলেন, এটিই তিনি উত্তম শুনেছেন। এরপর তিনি বলেন, যদি স্ত্রী নিজেকেই বেছে নেয়, তাহলে তা তিন তালাক বলে গণ্য হবে। আবার যদি স্ত্রী বলে, সে এক তালাক গ্রহণ করেছে, আর স্বামী বলে সে তিন তালাকের ইখতিয়ার দিয়েছিল, তখন স্ত্রী এক তালাক ছাড়া গ্রহণ না করলে সে স্বামীর বিবাহে থাকবে এবং বিচ্ছেদ হবে না। এই বর্ণনা ইখতিয়ার, তালাক এবং কথার উদ্দেশ্য—এই তিন বিষয়ে সতর্কতা শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- স্ত্রী ইখতিয়ার পেয়ে স্বামীকে বেছে নিলে তা তালাক হয় না—এ কথা বর্ণনায় এসেছে।
- স্ত্রী নিজেকে বেছে নিলে তালাকের বিধান যুক্ত হয়।
- ইখতিয়ার দেওয়ার কথা ও উদ্দেশ্য দাম্পত্য আইনে গুরুত্বপূর্ণ।
- তালাকের মতো বিষয়ে অস্পষ্ট কথা বড় ফল আনতে পারে, তাই সতর্ক থাকা দরকার।
