২৯/৪. অধ্যায়ঃ
যে অধিকার প্রদানে এক তালাক ওয়াজিব হয়
ইখতিয়ার তালাকে হলফ: এক তালাক না একাধিক তালাক
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১১৫১
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১১৫১
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيْهِ أَنَّ رَجُلًا مِنْ ثَقِيفٍ مَلَّكَ امْرَأَتَهُ أَمْرَهَا فَقَالَتْ أَنْتَ الطَّلَاقُ فَسَكَتَ ثُمَّ قَالَتْ أَنْتَ الطَّلَاقُ فَقَالَ بِفِيكِ الْحَجَرُ ثُمَّ قَالَتْ أَنْتَ الطَّلَاقُ فَقَالَ بِفَاكِ الْحَجَرُ فَاخْتَصَمَا إِلَى مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ فَاسْتَحْلَفَهُ مَا مَلَّكَهَا إِلَّا وَاحِدَةً وَرَدَّهَا إِلَيْهِ قَالَ مَالِك قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ فَكَانَ الْقَاسِمُ يُعْجِبُهُ هَذَا الْقَضَاءُ وَيَرَاهُ أَحْسَنَ مَا سَمِعَ فِي ذَلِكَ قَالَ مَالِك وَهَذَا أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي ذَلِكَ وَأَحَبُّهُ إِلَيَّ.
কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ ইবন আবী বাকর (র) হতে বর্ণিতঃ
সাকীফ গোত্রের এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে (তালাকের) ক্ষমতা প্রদান করল। সেই স্ত্রী বলল : তোমাকে তালাক। স্বামী চুপ রইল। স্ত্রী পুনরায় বলল : তোমাকে তালাক। সে ব্যক্তি বলল : তোমার মুখে প্রস্তর (পতিত হোক)। স্ত্রী পুনরায় বলল : তোমাকে তালাক। সে বলল : তোমার মুখে পাথর। উভয়ে বিচার প্রার্থী হয়ে মারওয়ান ইবন হাকামের কাছে উপস্থিত হল। মারওয়ান স্বামীর নিকট হতে এই বিষয়ে হলফ তলব করল যে, সে স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা প্রয়োগের দ্বারা এক তালাক ব্যতীত অন্য কিছু উদ্দেশ্য করেনি। অতঃপর স্ত্রীকে তার কাছে ফিরিয়ে দিলেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (র) বলেন : ‘আবদুর রহমান (র) বলেছেন : কাসিম (র) এই ফয়সালা খুব পছন্দ করতেন এবং এই বিষয়ে যা শুনেছেন তন্মধ্যে এটাকে উত্তম বলে গণ্য করতেন। মালিক (র) বলেন : আমি এই বিষয়ে যা শুনেছি তন্মধ্যে এটাই সর্বোত্তম এবং আমার নিকট সর্বাপেক্ষা পছন্দনীয়।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১১৫১-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় সাকীফ গোত্রের এক ব্যক্তি স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা দেয়। স্ত্রী কয়েকবার বলে, ‘তোমাকে তালাক।’ স্বামী প্রথমে চুপ থাকে, পরে বিরক্তির ভাষায় প্রতিক্রিয়া করে। তারা মারওয়ান ইবনু হাকামের কাছে গেলে তিনি স্বামীর কাছ থেকে হলফ নেন যে, সে স্ত্রীকে ক্ষমতা দেওয়ার সময় এক তালাক ছাড়া অন্য কিছু উদ্দেশ্য করেনি। এরপর স্ত্রীকে তার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ইমাম মালিক (র) এই ফয়সালাকে তাঁর শোনা মতগুলোর মধ্যে পছন্দনীয় বলেছেন। এখানে ইখতিয়ার, স্ত্রীর উচ্চারণ, স্বামীর নিয়ত, হলফ এবং ফিরিয়ে নেওয়া—সবই এসেছে। এটি দেখায়, তালাকের ক্ষমতা বিষয়ে নিয়ত ও প্রমাণ খুব গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- স্ত্রীকে ক্ষমতা দেওয়ার সময় স্বামীর উদ্দেশ্য বিবেচিত হয়েছে।
- এক তালাক উদ্দেশ্য করলে হলফ নেওয়ার কথা এসেছে।
- তালাকের কথাবার্তায় চুপ থাকা বা অস্পষ্টতা জটিলতা বাড়াতে পারে।
- বিচারিক ফয়সালায় নিয়ত ও কথার পরিস্থিতি দেখা হয়েছে।
