২৯/৪. অধ্যায়ঃ
যে অধিকার প্রদানে এক তালাক ওয়াজিব হয়
স্ত্রীকে ক্ষমতা দেওয়ার পর বিচ্ছেদ: এক তালাক ও ফিরে নেওয়ার অধিকার
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১১৫০
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১১৫০
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ سَعِيدِ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ خَارِجَةَ بْنِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ كَانَ جَالِسًا عِنْدَ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ فَأَتَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عَتِيقٍ وَعَيْنَاهُ تَدْمَعَانِ فَقَالَ لَهُ زَيْدٌ مَا شَأْنُكَ فَقَالَ مَلَّكْتُ امْرَأَتِي أَمْرَهَا فَفَارَقَتْنِي فَقَالَ لَهُ زَيْدٌ مَا حَمَلَكَ عَلَى ذَلِكَ قَالَ الْقَدَرُ فَقَالَ زَيْدٌ ارْتَجِعْهَا إِنْ شِئْتَ فَإِنَّمَا هِيَ وَاحِدَةٌ وَأَنْتَ أَمْلَكُ بِهَا.
খারিজা ইবনু যায়দ ইবনু সাবিত (র) হতে বর্ণিতঃ
তিনি যায়দ ইবনু সাবিত (রা)-এর কাছে বসা ছিলেন। এই সময় তার কাছে মুহাম্মাদ ইবনু আবী আতীক এলেন। তার চক্ষুদ্বয় অশ্র“সিক্ত ছিল, যায়দ তাঁর উদ্দেশ্যে বললেন : তোমার ব্যাপার কি? তিনি বললেন : আমার স্ত্রীকে আমি ক্ষমতা প্রদান করেছিলাম। সে আমাকে পরিত্যাগ করেছে। যায়দ বললেন : এইরূপ ক্ষমতা কি জন্য প্রদান করলে? তিনি বললেন : তকদীর। যায়দ বললেন : তুমি স্ত্রীর দিকে প্রত্যাবর্তন কর যদি তোমার ইচ্ছা হয়, কারণ উহা এক তালাক মাত্র। তুমি সেই স্ত্রীর অধিক হকদার। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১১৫০-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় মুহাম্মাদ ইবনু আবী আতীক কান্নারত অবস্থায় যায়দ ইবনু সাবিত (রা)-এর কাছে আসেন। তিনি জানান, তিনি নিজের স্ত্রীকে ক্ষমতা দিয়েছিলেন, আর স্ত্রী তাকে পরিত্যাগ করেছে। যায়দ (রা) জিজ্ঞেস করেন, কেন এমন ক্ষমতা দিলে? তিনি বলেন, তকদীর। তখন যায়দ (রা) বলেন, তুমি চাইলে স্ত্রীর দিকে ফিরে যাও; কারণ এটি এক তালাক মাত্র, আর তুমি তার বেশি হকদার। এখানে স্ত্রীর হাতে ক্ষমতা দেওয়া, তার বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত, এবং এক তালাক হিসেবে বিবেচনা—এই বিষয়গুলো এসেছে। বর্ণনাটি খুব মানবিকও, কারণ লোকটি অনুতপ্ত ছিল। তাই দাম্পত্য সিদ্ধান্তে আবেগ নয়, চিন্তা ও দায়িত্ব দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- স্ত্রীকে ক্ষমতা দেওয়ার ফল বাস্তব হতে পারে।
- এই ঘটনায় বিচ্ছেদকে এক তালাক হিসেবে ধরা হয়েছে।
- ইচ্ছা থাকলে স্বামীকে ফিরে নেওয়ার সুযোগের কথা বলা হয়েছে।
- গুরুতর পারিবারিক সিদ্ধান্ত আবেগে নেওয়া উচিত নয়।
