২৯/২. অধ্যায়ঃ
খালিয়্যা, বারিয়্যা এবং অনুরূপ অন্যান্য কিনায়া তালাকের জন্য প্রযোজ্য শব্দসমূহের বর্ণনা
দায়িত্বমুক্ত, পৃথক ও বায়েন শব্দে তালাকের বিস্তারিত আলোচনা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১১৪৭
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১১৪৭
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ شِهَابٍ يَقُولُ فِي الرَّجُلِ يَقُولُ لِامْرَأَتِهِ بَرِئْتِ مِنِّي وَبَرِئْتُ مِنْكِ إِنَّهَا ثَلَاثُ تَطْلِيقَاتٍ بِمَنْزِلَةِ الْبَتَّةِ. قَالَ مَالِك فِي الرَّجُلِ يَقُولُ لِامْرَأَتِهِ أَنْتِ خَلِيَّةٌ أَوْ بَرِيَّةٌ أَوْ بَائِنَةٌ إِنَّهَا ثَلَاثُ تَطْلِيقَاتٍ لِلْمَرْأَةِ الَّتِي قَدْ دَخَلَ بِهَا وَيُدَيَّنُ فِي الَّتِي لَمْ يَدْخُلْ بِهَا أَوَاحِدَةً أَرَادَ أَمْ ثَلَاثًا فَإِنْ قَالَ وَاحِدَةً أُحْلِفَ عَلَى ذَلِكَ وَكَانَ خَاطِبًا مِنْ الْخُطَّابِ لِأَنَّهُ لَا يُخْلِي الْمَرْأَةَ الَّتِي قَدْ دَخَلَ بِهَا زَوْجُهَا وَلَا يُبِينُهَا وَلَا يُبْرِيهَا إِلَّا ثَلَاثُ تَطْلِيقَاتٍ وَالَّتِي لَمْ يَدْخُلْ بِهَا تُخْلِيهَا وَتُبْرِيهَا وَتُبِينُهَا الْوَاحِدَةُ قَالَ مَالِك وَهَذَا أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي ذَلِكَ.
মালিক (র) হতে বর্ণিতঃ
তিনি ইবন শিহাব (র)-কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলল : “আমি তোমার হতে দায়িত্বমুক্ত হয়েছি। তুমিও আমার হতে দায়িত্বমুক্ত।” এটা দ্বারা তালাক-ই আল-বাত্তা-এর মতো তিন তালাক প্রযোজ্য হবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)যে ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে বলল : “তুমি দায়িত্বমুক্ত” “তুমি আমা হতে পৃথক”। মালিক (র) বলেন : সে স্ত্রী যার সাথে সহবাস করা হয়েছে এরূপ হলে তবে তার স্বামীর উপরিউক্ত বাক্যগুলোর দ্বারা তার উপর তিন তালাক বর্তাবে। আর যদি স্ত্রী এমন হয় যার সাথে সহবাস করা হয়নি, তবে ধর্মত স্বামীকে বিশ্বাস করা হবে এবং তার কাছে জিজ্ঞেস করা হবে সে উপরিউক্ত বাক্যগুলো দ্বার এক তালাক উদ্দেশ্য করেছে, না তিন তালাক। যদি সে এক তালাক উদ্দেশ্য করেছে বলে প্রকাশ করে তা হলে এই বিষয়ে সেই ব্যক্তিকে হলফ দেয়া হবে। (যেহেতু স্বামীর উক্তির দ্বারা স্ত্রীর প্রতি এক তালাক বায়েন প্রযোজ্য হয়েছে, তাই পুনর্বিবাহ ছাড়া স্বামী সেই স্ত্রীকে গ্রহণ করতে পারবে না) তাই সে বিবাহের প্রস্তাবকারী হিসেবে অন্য লোকদের মতো একজন বলে গণ্য হবে। এর কারণ এই যে, যে স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করা হয়েছে সে স্ত্রী তিন তালাক ছাড়া দায়িত্বমুক্ত বা স্বামী হতে পৃথক হবে না। আর যার সাথে সঙ্গম হয়নি সে স্ত্রী এক তালাক দ্বারা দায়িত্বমুক্ত ও পৃথক হয়ে যায়। মালিক (র) বলেছেন : এ বিষয়ে যা আমি শুনেছি তন্মধ্যে এটাই আমার কাছে উত্তম।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১১৪৭-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় ইবনু শিহাব (র)-এর বক্তব্য এসেছে যে, কেউ স্ত্রীকে বলে ‘আমি তোমার হতে দায়িত্বমুক্ত, তুমিও আমার হতে দায়িত্বমুক্ত’—তাহলে তা তালাক-ই আল-বাত্তার মতো তিন তালাক। এরপর ইমাম মালিক (র) বলেন, স্ত্রী যদি এমন হয় যার সঙ্গে সহবাস হয়েছে, তাহলে ‘তুমি খালিয়্যা’, ‘বারিয়্যা’ বা ‘বায়েনা’ বললে তিন তালাক হবে। আর যার সঙ্গে সহবাস হয়নি, সেখানে স্বামীর উদ্দেশ্য জিজ্ঞেস করা হবে—এক তালাক না তিন তালাক। এক তালাক বললে তাকে হলফ করানো হবে। এই বর্ণনা তালাকের শব্দ, নিয়ত, সহবাসের অবস্থা এবং পুনর্বিবাহের বিষয়কে আলাদা করে দেখিয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দায়িত্বমুক্ত বা পৃথক করার শব্দ তালাকের গুরুতর অর্থ বহন করতে পারে।
- সহবাস হয়েছে কি না—এ বিষয় ফয়সালায় প্রভাব ফেলতে পারে।
- অস্পষ্ট ক্ষেত্রে স্বামীর উদ্দেশ্য জিজ্ঞেস করা হয়েছে।
- এক তালাক বায়েন হলে নতুন বিবাহ ছাড়া ফিরে নেওয়া যায় না—এ কথা বর্ণনায় এসেছে।
