২৯/২. অধ্যায়ঃ
খালিয়্যা, বারিয়্যা এবং অনুরূপ অন্যান্য কিনায়া তালাকের জন্য প্রযোজ্য শব্দসমূহের বর্ণনা
তালাকে নিয়ত: অস্পষ্ট কথার অর্থ কীভাবে ধরা হয়
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১১৪৩
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১১৪৩
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّهُ كُتِبَ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ مِنْ الْعِرَاقِ أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِامْرَأَتِهِ حَبْلُكِ عَلَى غَارِبِكِ فَكَتَبَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ إِلَى عَامِلِهِ أَنْ مُرْهُ يُوَافِينِي بِمَكَّةَ فِي الْمَوْسِمِ فَبَيْنَمَا عُمَرُ يَطُوفُ بِالْبَيْتِ إِذْ لَقِيَهُ الرَّجُلُ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَقَالَ عُمَرُ مَنْ أَنْتَ فَقَالَ أَنَا الَّذِي أَمَرْتَ أَنْ أُجْلَبَ عَلَيْكَ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ أَسْأَلُكَ بِرَبِّ هَذِهِ الْبَنِيَّةِ مَا أَرَدْتَ بِقَوْلِكَ حَبْلُكِ عَلَى غَارِبِكِ فَقَالَ لَهُ الرَّجُلُ لَوْ اسْتَحْلَفْتَنِي فِي غَيْرِ هَذَا الْمَكَانِ مَا صَدَقْتُكَ أَرَدْتُ بِذَلِكَ الْفِرَاقَ فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ هُوَ مَا أَرَدْتَ.
মালিক (র) হতে বর্ণিতঃ
ইরাক হতে ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রা)-এর নিকট লেখা হল যে, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলেছে حَبْلُكِ عَلَى غَارِبِكِ [তোমার রজ্জু তোমার ঘাড়ে] ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রা) তার নিযুক্ত ইরাকের প্রশাসকের নিকট পত্র লিখলেন হজ্জ মওসুমে সে ব্যক্তিকে আমার সাথে মিলিত হতে নির্দেশ দাও। উমার যখন বায়তুল্লাহর তওয়াফ করেছিলেন তখন এক ব্যক্তি তাঁর সম্মুখে এসে সালাম করল। ‘উমার বললেন, তুমি কে? সে ব্যক্তি বলল, আমি সেই ব্যক্তি, যে ব্যক্তিকে আপনার নিকট (হজ্জ মওসুমে) উপস্থিত হতে নির্দেশ প্রদান করেছিলেন। তারপর ‘উমার (রা) বললেন, এই (পবিত্র কাবা) গৃহের মালিকের কসম দিয়ে তোমাকে আমি প্রশ্ন করছি যে, তুমি তোমার সেই বক্তব্য حَبْلُكِ عَلَى غَارِبِكِ হবে এর দ্বারা কি উদ্দেশ্য করেছ? সেই ব্যক্তি বলল, এই স্থান ব্যতীত অন্য কোথাও আপনি আমাকে হলফ করালে আমি সত্য কথা বলতাম না। আমি (এই বক্তব্য দ্বারা স্ত্রীকে) বিদায় (দেয়া)-এর নিয়্যত করেছি। ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রা) বললেন, তুমি যা নিয়্যত করেছ তাই। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১১৪৩-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় এক ব্যক্তি স্ত্রীকে বলেছিল, ‘তোমার রজ্জু তোমার ঘাড়ে।’ কথাটি সরাসরি তালাক শব্দ নয়, কিন্তু বিচ্ছেদের ইঙ্গিত বহন করতে পারে। ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রা) তাকে হজ্জের সময় মক্কায় উপস্থিত হতে বলেন এবং কাবার মালিকের কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করেন, সে কথার দ্বারা কী উদ্দেশ্য করেছিল। লোকটি স্বীকার করে যে সে বিদায় বা বিচ্ছেদই উদ্দেশ্য করেছিল। তখন ‘উমার (রা) বলেন, যা তুমি নিয়্যত করেছ তাই হবে। এই বর্ণনা তালাকে নিয়ত, ইশারায় তালাক এবং অস্পষ্ট তালাকের শব্দ বুঝতে সাহায্য করে। এখানে শিক্ষা হলো, কথার বাহ্যিক রূপের পাশাপাশি বলার উদ্দেশ্যও বিবেচিত হতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অস্পষ্ট কথার ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য ও নিয়ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
- তালাকের ইঙ্গিতপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করাও ঝুঁকিপূর্ণ।
- সত্য কথা বলার জন্য গুরুতর পরিবেশে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
- বিচ্ছেদ বোঝাতে ব্যবহৃত কথার ফল হালকা নয়।
