২৮/১৭. অধ্যায়ঃ
সাধবী [১] -এর বর্ণনা
স্বামীযুক্ত নারী ও ব্যভিচার হারাম হওয়ার শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১১২০
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১১২০
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّهُ قَالَ: { الْمُحْصَنَاتُ مِنْ النِّسَاءِ }هُنَّ أُولَاتُ الْأَزْوَاجِ وَيَرْجِعُ ذَلِكَ إِلَى أَنَّ اللهَ حَرَّمَ الزِّنَا.
ইবনু শিহাব (র) হতে বর্ণিতঃ
সা‘ঈদ ইবনু মাসায়্যাব (র) বলেন : কুরআনের আয়াতে উল্লিখিত الْمُحْصَنَاتُ مِنْ النِّسَاءِ সাধ্বী রমণিগণ “এরা হলেন ঐ সকল নারী যাদের স্বামী আছে।” এটা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ তা‘আলা ব্যভিচারকে হারাম করেছেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
[১] ইহসানের অভিধানিক অর্থ দুর্ভেদ্য করা। হিসন বলা হয় দুর্গকে। শরীয়তের পরিভাষায় পূত-পবিত্র চরিত্রের অধিকারী পুরুষ ও নারী, বিবাহিত পুরুষ ও নারীকে যথাক্রমে মুহসান এবং মুহসানা বলা হয়।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১১২০-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় সাঈদ ইবনু মুসায়্যাব (র) কুরআনের আয়াতে উল্লিখিত ‘الْمُحْصَنَاتُ مِنَ النِّسَاءِ’ কথার ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, এর অর্থ হলো সেই নারীরা, যাদের স্বামী আছে। এরপর বলেন, এর দ্বারা বোঝা যায় যে আল্লাহ তা‘আলা ব্যভিচারকে হারাম করেছেন। এখানে মূল বিষয় হলো ‘স্বামীযুক্ত নারী’, ‘ব্যভিচার হারাম’ এবং ‘কুরআনের শব্দের ব্যাখ্যা’। বর্ণনাটি খুব সংক্ষিপ্ত, কিন্তু এর শিক্ষা স্পষ্ট: বিবাহিত নারীর মর্যাদা ও বৈবাহিক সম্পর্কের সীমা রক্ষা করতে হবে। ব্যভিচারকে এখানে আল্লাহর হারাম করা কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই এই হাদিস ব্যাখ্যার ধরনে হলেও নৈতিক ও শরয়ি সীমা বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাখ্যায় এর বাইরে কোনো অতিরিক্ত ঘটনা বা শাস্তির আলোচনা যোগ করা হয়নি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- الْمُحْصَنَاتُ مِنَ النِّسَاءِ বলতে স্বামীযুক্ত নারী বোঝানো হয়েছে।
- বর্ণনায় ব্যভিচারকে আল্লাহর হারাম করা কাজ বলা হয়েছে।
- বৈবাহিক সম্পর্কের সীমা ও মর্যাদা রক্ষা করা জরুরি।
- কুরআনের শব্দ বুঝতে সাহাবি-তাবেঈদের ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ।
