২৮/১৩. অধ্যায়ঃ
যে ব্যক্তি এমন মহিলার মালিক হয় পূর্বে যে মহিলা তার স্ত্রী ছিল এবং তাকে তালাক দিয়েছে এ সম্পর্কে হুকুম
তিন তালাকের পর দাসীর মালিকানা পেলেও হালাল হবে কি
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১১১২
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১১১২
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ وَسُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ سُئِلَا عَنْ رَجُلٍ زَوَّجَ عَبْدًا لَهُ جَارِيَةً فَطَلَّقَهَا الْعَبْدُ الْبَتَّةَ ثُمَّ وَهَبَهَا سَيِّدُهَا لَهُ فَهَلْ تَحِلُّ لَهُ بِمِلْكِ الْيَمِينِ فَقَالَا لَا تَحِلُّ لَهُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ.
মালিক (র) হতে বর্ণিতঃ
সা‘ঈদ ইবনু মুসায়্যাব ও সুলায়মান ইবনু ইয়াসার (র)-কে প্রশ্ন করা হল এক ব্যক্তি সম্পর্কে যে ব্যক্তি তার এক ক্রীতদাসের নিকট তার দাসীকে বিবাহ দিয়েছে। অতঃপর ক্রীতদাস (স্বামী) উহাকে তিন তালাক দিয়েছে। তারপর সেই দাসীকে তার কর্তা হিবা (দান) করলেন তালাকদাতা ক্রীতদাসের নিকট। তবে দাসীর স্বত্বাধিকারী হওয়ার কারণে এই দাসী সেই ক্রীতদাসের জন্য হালাল হবে কি? তাঁরা উভয়ে বললেন : না, যাবত স্ত্রীলোকটি অন্য স্বামী গ্রহণ না করে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১১১২-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় সা‘ঈদ ইবনু মুসায়্যাব (র) ও সুলায়মান ইবনু ইয়াসার (র)-কে একটি প্রশ্ন করা হয়। এক ব্যক্তি তার ক্রীতদাসের সঙ্গে নিজের দাসীর বিবাহ দেন। পরে ক্রীতদাস সেই দাসীকে তিন তালাক দেয়। এরপর মালিক দাসীটিকে তালাকদাতা ক্রীতদাসের কাছে দান করে দেন। প্রশ্ন ছিল, এখন মালিকানার কারণে কি সেই দাসী তার জন্য হালাল হবে? তাঁরা বলেন, না; যতক্ষণ না স্ত্রীলোকটি অন্য স্বামী গ্রহণ করে। এখানে মূল বিষয় হলো ‘তিন তালাকের পর মালিকানা’, ‘মিলকে ইয়ামীন’ এবং ‘অন্য স্বামী ছাড়া হালাল নয়’। বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, তিন তালাকের বিধান শুধু মালিকানা বদলে শেষ হয়ে যায় না। তাই হাদিসটি তালাক ও মালিকানার সম্পর্ক বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তিন তালাকের পর মালিকানা পেলেও স্ত্রী হালাল হয়ে যায় না।
- অন্য স্বামী গ্রহণ না করা পর্যন্ত বৈধতার কথা বলা হয়নি।
- মিলকে ইয়ামীন তিন তালাকের প্রভাব বাতিল করে না।
- ফিকহি প্রশ্নে পূর্ববর্তী আলিমদের স্পষ্ট উত্তর দেওয়ার ধারা দেখা যায়।
