২৮/৯. অধ্যায়ঃ
আপন স্ত্রীর জননীর সাথে বিবাহ বৈধ না হওয়া
স্ত্রীকে তালাকের পর তার মাকে বিবাহ করা কি বৈধ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১১০৩
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১১০৩
و حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّهُ قَالَ سُئِلَ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ عَنْ رَجُلٍ تَزَوَّجَ امْرَأَةً ثُمَّ فَارَقَهَا قَبْلَ أَنْ يُصِيبَهَا هَلْ تَحِلُّ لَهُ أُمُّهَا فَقَالَ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ لَا الْأُمُّ مُبْهَمَةٌ لَيْسَ فِيهَا شَرْطٌ وَإِنَّمَا الشَّرْطُ فِي الرَّبَائِبِ.
ইয়াহ্ইয়া ইব্নু সাঈদ (র) হতে বর্ণিতঃ
যাইদ ইব্নু সাবিত (রা)-কে প্রশ্ন করা হল এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তি একজন মহিলাকে বিবাহ করেছে। অতঃপর তার সাথে সহবাস করার পূর্বে উহাকে তালাক দিয়েছে। উক্ত ব্যক্তির জন্য সে মহিলার মাতাকে বিবাহ করা বৈধ হবে কি? উত্তরে যাইদ ইব্নু সাবিত (রা) বললেন : না, বৈধ হবে না। কারণ জননীর ব্যাপারে (কুরআনুল করীমে) কোন শর্ত আরোপ করা হয়নি। বরং শর্ত রয়েছে স্ত্রীর সৎ কন্যাদের ব্যাপারে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১১০৩-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় যাইদ ইব্নু সাবিত (রা)-কে এমন এক ব্যক্তির বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল, যে একজন নারীকে বিবাহ করেছে, কিন্তু সহবাসের আগেই তাকে তালাক দিয়েছে। প্রশ্ন ছিল, এখন কি সে ওই নারীর মাকে বিবাহ করতে পারবে? যাইদ ইব্নু সাবিত (রা) উত্তর দেন, না, তা বৈধ হবে না। কারণ স্ত্রীর মায়ের ব্যাপারে কোনো শর্ত আরোপ করা হয়নি। শর্ত রয়েছে স্ত্রীর সৎ কন্যাদের বিষয়ে। এখানে মূল বিষয় হলো ‘স্ত্রীর মা বিবাহ নিষিদ্ধ’ এবং ‘বিবাহের কারণে হারাম সম্পর্ক’। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার পর স্ত্রীর মা নির্দিষ্ট বিধানের অন্তর্ভুক্ত হন; সহবাস হয়েছে কি হয়নি—এখানে সেটি শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। তাই ব্যাখ্যায় বাড়তি দাবি না করে মূল উত্তরের ওপরই থাকা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিবাহের পর স্ত্রীর মা ওই পুরুষের জন্য বৈধ থাকে না।
- সহবাসের আগে স্ত্রীকে তালাক দিলেও তার মাকে বিবাহ বৈধ বলা হয়নি।
- সৎ কন্যার বিধান ও স্ত্রীর মায়ের বিধান এক নয়।
- বিবাহের সম্পর্ক তৈরি হলে কিছু আত্মীয়তা শরয়ি সীমার মধ্যে পড়ে।
