২৮/৭. অধ্যায়ঃ
মুহাল্লিল [১] -এর বিবাহ এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিবাহ
তিন তালাকের পর প্রথম স্বামীর কাছে ফেরা: সহবাসের শর্ত
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১০৯৮
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১০৯৮
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ الْمِسْوَرِ بْنِ رِفَاعَةَ الْقُرَظِيِّ عَنْ الزُّبَيْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الزَّبِيرِ أَنَّ رِفَاعَةَ بْنَ سِمْوَالٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ تَمِيمَةَ بِنْتَ وَهْبٍ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلَاثًا فَنَكَحَتْ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الزَّبِير فَاعْتَرَضَ عَنْهَا فَلَمْ يَسْتَطِعْ أَنْ يَمَسَّهَا فَفَارَقَهَا فَأَرَادَ رِفَاعَةُ أَنْ يَنْكِحَهَا وَهُوَ زَوْجُهَا الْأَوَّلُ الَّذِي كَانَ طَلَّقَهَا فَذَكَرَ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنَهَاهُ عَنْ تَزْوِيجِهَا وَقَالَ لَا تَحِلُّ لَكَ حَتَّى تَذُوقَ الْعُسَيْلَةَ.
যুবাইর ইব্নু আবদুর রহমান ইব্নু যুবাইর (র) হতে বর্ণিতঃ
রিফা’আ ইবনু সিমওয়াল (র) তাঁর স্ত্রী তামীমা বিন্তে ওয়াহ্ব-কে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ে তিন তালাক দিলেন। অতঃপর তামীমা আবদুর রহমান ইব্ন যুবাইরকে বিবাহ করলেন। কিন্তু তাঁর সাথে মিলিত হতে বিপত্তি [২] ঘটল যদ্দরুন আবদুর রহমান তাঁকে স্পর্শ করতে পারল না। তাই তিনি তামীমাকে ত্যাগ করলেন। অতঃপর রিফা’আ তাকে বিবাহ করতে ইচ্ছা করলেন। এই রিফা’আ তার প্রথম স্বামী যিনি তাঁকে তালাক দিয়েছিলেন। রিফা’আ এই বিষয়টি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উত্থাপন করলেন। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তামীমাকে বিবাহ করতে তাঁকে নিষেধ করলেন এবং বললেন, لَا تَحِلُّ لَكَ حَتَّى تَذُوقَ الْعُسَيْلَةَ ‘(অন্য স্বামী) সহবাস না করা পর্যন্ত তামীমা তোমার জন্য হালাল হবে না।” (বুখারী ৫৭৯২, মুসলিম ৪১৩৩)
[১] তিন তালাকপ্রাপ্তা মহিলাকে তার তালাকদাতা পূর্ব স্বামীর সাথে বিবাহ হালাল করার জন্য যে ব্যক্তি বিবাহ করে এবং পরে তালাক দেয় এইরূপ ব্যক্তিকে মুহাল্লিল বলা হয়।[২] বিপত্তি: রোগ উন্মাদনা বা অন্য কোন বাধা।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১০৯৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রিফা‘আ ইবনু সিমওয়াল তাঁর স্ত্রী তামীমা বিন্তে ওয়াহ্ব-কে তিন তালাক দেন। এরপর তামীমা আবদুর রহমান ইবনু যুবাইরকে বিবাহ করেন। কিন্তু তাঁর সঙ্গে মিলিত হতে সমস্যা হয় এবং আবদুর রহমান তাঁকে স্পর্শ করতে পারেননি। পরে তিনি তাঁকে ছেড়ে দেন। এরপর প্রথম স্বামী রিফা‘আ তাঁকে আবার বিবাহ করতে চান। বিষয়টি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উঠলে তিনি নিষেধ করেন এবং বলেন, অন্য স্বামী সহবাস না করা পর্যন্ত তিনি তোমার জন্য হালাল হবেন না। এখানে “তিন তালাক”, “প্রথম স্বামীর কাছে ফেরা”, “দ্বিতীয় স্বামীর সহবাস” এবং “হালাল হওয়ার শর্ত”—এসব বিষয় সরাসরি এসেছে। হাদিসটি তালাককে হালকা বিষয় বানায় না; বরং চূড়ান্ত তালাকের পর ফেরার পথকে নির্দিষ্ট শর্তের সঙ্গে যুক্ত করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তিন তালাকের পর প্রথম স্বামীর জন্য সরাসরি ফিরে আসা বৈধ নয় বলা হয়েছে।
- দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে বাস্তব সহবাসের শর্ত এসেছে।
- শুধু দ্বিতীয় বিবাহ হওয়া যথেষ্ট নয়—এই ঘটনায় তা পরিষ্কার।
- তালাকের সিদ্ধান্ত গুরুতর; হাদিসটি এ বিষয়ে সতর্কতা দেয়।
