২৮/৩. অধ্যায়ঃ

মহর ও উপঢৌকন

বিবাহে রোগ গোপন হলে মহর ও অভিভাবকের দায়

মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১০৯০

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّهُ قَالَ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أَيُّمَا رَجُلٍ تَزَوَّجَ امْرَأَةً وَبِهَا جُنُونٌ أَوْ جُذَامٌ أَوْ بَرَصٌ فَمَسَّهَا فَلَهَا صَدَاقُهَا كَامِلًا وَذَلِكَ لِزَوْجِهَا غُرْمٌ عَلَى وَلِيِّهَا ১৯২২-قَالَ مَالِك وَإِنَّمَا يَكُونُ ذَلِكَ غُرْمًا عَلَى وَلِيِّهَا لِزَوْجِهَا إِذَا كَانَ وَلِيُّهَا الَّذِي أَنْكَحَهَا هُوَ أَبُوهَا أَوْ أَخُوهَا أَوْ مَنْ يُرَى أَنَّهُ يَعْلَمُ ذَلِكَ مِنْهَا فَأَمَّا إِذَا كَانَ وَلِيُّهَا الَّذِي أَنْكَحَهَا ابْنَ عَمٍّ أَوْ مَوْلًى أَوْ مِنْ الْعَشِيرَةِ مِمَّنْ يُرَى أَنَّهُ لَا يَعْلَمُ ذَلِكَ مِنْهَا فَلَيْسَ عَلَيْهِ غُرْمٌ وَتَرُدُّ تِلْكَ الْمَرْأَةُ مَا أَخَذَتْهُ مِنْ صَدَاقِهَا وَيَتْرُكُ لَهَا قَدْرَ مَا تُسْتَحَلُّ بِهِ.

সাঈদ ইবনু মুসায়্যাব (র) হতে বর্ণিতঃ

উমার ইবনু খাত্তাব (রা) বলেছেন : যে ব্যক্তি কোন মহিলাকে বিবাহ করল যে মহিলার পাগলামী, কুষ্ঠ ও শ্বেত রোগ রয়েছে, উক্ত ব্যক্তি সে মহিলার সাথে সহবাস করলে সে মহিলা পূর্ণ মোহরানার হকদার হবে এবং উক্ত মহিলার অভিভাবকের উপর সেই মোহরানার অর্থ দণ্ড বর্তাবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (র) বলেন : যদি উক্ত মহিলার অভিভাবক, যে তাকে বিবাহ দিয়েছে তার পিতা বা ভাই অথবা এমন কোন আত্মীয় হয়, যে মহিলার রোগের খবর জানে, তবে তার স্বামীকে মোহরানার অর্থ ফেরৎ দিতে হবে। পক্ষান্তরে যদি উক্ত মহিলার অভিভাবক তার চাচাত ভাই অথবা তার আযাদকৃত গোলাম অথবা তার গোত্রের অন্য কোন লোক হয়, যার সম্পর্কে ধারণা করা যায় যে, সে তার রোগের খবর জানে না। তবে তার উপর অর্থদন্ড বর্তাবে না। উক্ত মহিলা মোহরানার নিম্নতম পরিমাণ অর্থ রেখে মোহরানার অবশিষ্ট অংশ স্বামীকে ফেরৎ দিবে।

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১০৯০-এর সারসংক্ষেপ

এই বর্ণনায় উমার ইবনু খাত্তাব (রা)-এর ফায়সালা এসেছে। কোনো পুরুষ এমন নারীকে বিবাহ করল যার পাগলামী, কুষ্ঠ বা শ্বেত রোগ আছে, এরপর সে তার সঙ্গে সহবাস করল—তাহলে নারী পূর্ণ মহরের হকদার হবে। কিন্তু যদি রোগের বিষয়টি অভিভাবক জানত এবং সে-ই বিবাহ দেয়, তাহলে স্বামীর জন্য সেই মহরের দায় অভিভাবকের উপর বর্তাবে। ইমাম মালিক (র) আরও ব্যাখ্যা করেছেন, পিতা, ভাই বা রোগ জানার সম্ভাবনা থাকা ঘনিষ্ঠ অভিভাবক হলে দায় আসবে। কিন্তু চাচাত ভাই, আযাদকৃত গোলাম বা গোত্রের এমন কেউ হলে, যার রোগ জানার কথা নয়, তার উপর অর্থদণ্ড নেই। তখন নারী ন্যূনতম মহর রেখে বাকি অংশ ফেরত দেবে। এখানে “রোগ গোপন”, “পূর্ণ মহর”, “অভিভাবকের দায়” এবং “বিবাহের স্বচ্ছতা”—এসব মূল বিষয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সহবাসের পর নারী পূর্ণ মহরের হকদার হবে বলে ফায়সালা এসেছে।
  • রোগের খবর জানা অভিভাবক বিবাহ দিলে তার উপর দায় আসতে পারে।
  • যে অভিভাবকের রোগ জানার কথা নয়, তার উপর অর্থদণ্ড নেই বলা হয়েছে।
  • বিবাহে তথ্য গোপন না করা ও দায়িত্ব বোঝা জরুরি।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন