২৮/১. অধ্যায়ঃ

বিবাহ সম্পর্কিত অধ্যায়

বিবাহের প্রস্তাব: কখন অন্য প্রস্তাব দেওয়া নিষেধ

মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১০৮৩

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَخْطُبُ أَحَدُكُمْ عَلَى خِطْبَةِ أَخِيْهِ ১৯১১-قَالَ مَالِك وَتَفْسِيرُ قَوْلِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيمَا نُرَى وَاللهُ أَعْلَمُ لَا يَخْطُبُ أَحَدُكُمْ عَلَى خِطْبَةِ أَخِيهِ أَنْ يَخْطُبَ الرَّجُلُ الْمَرْأَةَ فَتَرْكَنَ إِلَيْهِ وَيَتَّفِقَانِ عَلَى صَدَاقٍ وَاحِدٍ مَعْلُومٍ وَقَدْ تَرَاضَيَا فَهِيَ تَشْتَرِطُ عَلَيْهِ لِنَفْسِهَا فَتِلْكَ الَّتِي نَهَى أَنْ يَخْطُبَهَا الرَّجُلُ عَلَى خِطْبَةِ أَخِيهِ وَلَمْ يَعْنِ بِذَلِكَ إِذَا خَطَبَ الرَّجُلُ الْمَرْأَةَ فَلَمْ يُوَافِقْهَا أَمْرُهُ وَلَمْ تَرْكَنْ إِلَيْهِ أَنْ لَا يَخْطُبَهَا أَحَدٌ فَهَذَا بَابُ فَسَادٍ يَدْخُلُ عَلَى النَّاسِ.

আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা) হতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কেউ যেন তার ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না দেয়। (বুখারী ৫১৪৪, মুসলিম ১৪১৩)

মালিক (র) বলেন : আমাদের মতে (আল্লাহ সর্বজ্ঞ) রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী “কেউ যেন তার ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না দেয়। এর ব্যাখ্যা এই যদি কোন পুরুষ কোন মহিলাকে বিবাহের প্রস্তাব দেয়।” মহিলাটি তার প্রস্তাবের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং উভয়ে একটি নির্দিষ্ট মোহরের উপর ঐকমত্যে পৌঁছে। উভয়ে এইভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার উপর রাজি হয়েছে এবং উক্ত মহিলা তাকে বিবাহ করার জন্য প্রস্তাবকারীর উপর শর্ত করেছেন। এমতাবস্থায় কোন পুরুষের পক্ষে তার ভাইয়ের এই প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব দেওয়া নিষেধ। এক ব্যক্তি কোন মহিলাকে বিবাহের প্রস্তাব দিল। কিন্তু উক্ত মহিলা তার এই প্রস্তাবের প্রতি সম্মতি জ্ঞাপন করেনি এবং তার দিকে আকৃষ্টও হয়নি। এরূপ মহিলার বিবাহের জন্য কেউ প্রস্তাব দিবে না। এই হাদীসের অর্থ ইহা নয়। কারণ এতে লোকের মধ্যে ফাসাদ সৃষ্টির দরজা উন্মুক্ত হবে।

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১০৮৩-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আগের নির্দেশের সঙ্গে ইমাম মালিক (র)-এর ব্যাখ্যাও এসেছে। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ যেন তার ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না দেয়। মালিক (র) ব্যাখ্যা করেছেন, বিষয়টি তখন প্রযোজ্য যখন কোনো পুরুষ কোনো নারীকে প্রস্তাব দিয়েছে, নারী তার দিকে ঝুঁকেছে, তারা নির্দিষ্ট মহরের উপর একমত হয়েছে এবং দু’পক্ষের সন্তুষ্টি তৈরি হয়েছে। এমন অবস্থায় তৃতীয় কেউ প্রস্তাব দিলে তা সম্পর্কের মধ্যে অশান্তি আনতে পারে। তবে যদি প্রথম প্রস্তাবে নারী সন্তুষ্ট না হয় বা তার দিকে ঝুঁকে না থাকে, তাহলে অন্য কেউ প্রস্তাব দিলে সেটিকে এই নিষেধের মধ্যে ধরা হয়নি। তাই হাদিসটি বিবাহের প্রস্তাবের আদব, সম্মতি, মহর নির্ধারণ এবং পারস্পরিক সন্তুষ্টির বিষয়কে পরিষ্কার করে। এটি অতিরঞ্জিত নিষেধ নয়; বরং নির্দিষ্ট অবস্থার জন্য সতর্ক শিক্ষা।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নারী রাজি হয়ে গেলে এবং মহর ঠিক হলে অন্যের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব দেওয়া উচিত নয়।
  • প্রথম প্রস্তাবে সম্মতি না থাকলে বিষয়টি ভিন্ন বলে ব্যাখ্যা এসেছে।
  • বিবাহের আলোচনায় পারস্পরিক সন্তুষ্টি ও নির্দিষ্ট মহর গুরুত্বপূর্ণ।
  • অন্যের সম্পর্কের আলোচনায় ঢোকার আগে অবস্থাটা বোঝা দরকার।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন