২৭/৮. অধ্যায়ঃ
দাদী ও নানীর অংশ প্রসঙ্গ
দাদী ও নানীর মীরাস: ষষ্ঠাংশের ফয়সালা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১০৬৯
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১০৬৯
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ إِسْحَقَ بْنِ خَرَشَةَ عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ ذُؤَيْبٍ أَنَّهُ قَالَ جَاءَتْ الْجَدَّةُ إِلَى أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيْقِ تَسْأَلُهُ مِيرَاثَهَا فَقَالَ لَهَا أَبُو بَكْرٍ مَا لَكِ فِي كِتَابِ اللهِ شَيْءٌ وَمَا عَلِمْتُ لَكِ فِي سُنَّةِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيْئًا فَارْجِعِي حَتَّى أَسْأَلَ النَّاسَ فَسَأَلَ النَّاسَ فَقَالَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ حَضَرْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَعْطَاهَا السُّدُسَ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ هَلْ مَعَكَ غَيْرُكَ فَقَامَ مُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ الْأَنْصَارِيُّ فَقَالَ مِثْلَ مَا قَالَ الْمُغِيرَةُ فَأَنْفَذَهُ لَهَا أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ ثُمَّ جَاءَتْ الْجَدَّةُ الْأُخْرَى إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ تَسْأَلُهُ مِيرَاثَهَا فَقَالَ لَهَا مَا لَكِ فِي كِتَابِ اللهِ شَيْءٌ وَمَا كَانَ الْقَضَاءُ الَّذِي قُضِيَ بِهِ إِلَّا لِغَيْرِكِ وَمَا أَنَا بِزَائِدٍ فِي الْفَرَائِضِ شَيْئًا وَلَكِنَّهُ ذَلِكَ السُّدُسُ فَإِنْ اجْتَمَعْتُمَا فَهُوَ بَيْنَكُمَا وَأَيَّتُكُمَا خَلَتْ بِهِ فَهُوَ لَهَا.
কুরাইসা ইবনু যুয়াইব হতে বর্ণিতঃ
এক মৃত ব্যক্তির দাদী তার মীরাসের জন্য আবূ বাকর সিদ্দীক (রা)-এর নিকট আসল। তিনি বললেন, তোমাদের হিস্যা সম্বন্ধে কিতাবুল্লাহতেও কোন উল্লেখ নাই এবং রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতেও কোন হাদীস শুনি নাই। এখন তুমি চলে যাও। আমি লোকের নিকট জিজ্ঞেস করে তা বলে দিব। অবশেষে আবূ বাকর সিদ্দীক (রা) সাহাবীদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, মুগীরা ইবনু শু‘বা (রা) বললেন, আমার সম্মুখে রসূল করীম (সা) দাদীকে ষষ্ঠাংশ দিয়েছেন। আবূ বকর (রা) বললেন, তোমার কোন সাক্ষী আছে কি? তখন মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামা আনসারী দাঁড়িয়ে মুগীরা যেইরূপ বলেছিলেন তদ্রূপ বললেন। এই সাক্ষীর পর আবূ বকর (রা) দাদীকে ষষ্ঠাং দিয়েছেন। আবূ বকর (রা) বললেন, তোমার কোন সাক্ষী আছে কি? তখন মুহাম্মাদ মাসলামা আনসারী দাঁড়িয়ে মুগীরা যেরূপ বলেছিলেন তদ্রূপ বললেন। এই সাক্ষীর পর আবূ বাকর (রা) দাদীকে এক-ষষ্ঠাংশ দিয়ে দিলেন।অতঃপর উমার ইবনু খাত্তাব (রা)-এর খিলাফতকালে এক দাদী মীরাসের জন্য তাঁর নিকট এলে। উমার ইবনু খাত্তাব (রা) বললেন, কুরআনে তোমাদের কোন হিস্যার উল্লেখ নেই। তুমি ব্যতীত অন্যদের সম্বন্ধে কিছু সিদ্ধান্ত পূর্বে হয়েছে আমি স্বীয় পক্ষ হতে কারো জন্য মীরাসের হিস্যা বাড়াতে পারি না। তবে তুমিও ষষ্ঠাংশ নিয়ে নাও। যদি দাদী আরও অথবা নানীও থাকে তবে উভয়ে মিলে ষষ্ঠাংশ বন্টন করে দিও। আর তোমরা কেউ একজন থাকলে সে ষষ্ঠাংশ পাবে। (যয়ীফ, আবূ দাঊদ ২৮৯৪, তিরমিযী ২১০০, ২১০১, ইবনু মাজাহ ২৭২৪, আলবানী হাদীসটি যয়ীফ বলেছেন [ইরওয়া, ১৬৮০])
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১০৬৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দাদী ও নানীর মীরাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এসেছে। এক দাদী আবূ বকর সিদ্দীক (রা)-এর কাছে মীরাস চাইলে তিনি বলেন, কিতাবুল্লাহতে তোমার অংশ জানি না এবং রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেও কিছু শুনিনি। তাই তিনি সাহাবীদের জিজ্ঞেস করেন। মুগীরা ইবনু শু‘বা (রা) জানান, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাদীকে ষষ্ঠাংশ দিয়েছেন। মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামা (রা) একই কথা সাক্ষ্য দিলে আবূ বকর (রা) দাদীকে ষষ্ঠাংশ দেন। পরে উমার (রা) বলেন, দুই দাদী-নানী থাকলে তারা ষষ্ঠাংশ ভাগ করবে, একজন থাকলে সে নেবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মীরাসের ফয়সালায় আবূ বকর (রা) সাক্ষ্য যাচাই করেছেন।
- দাদীর জন্য ষষ্ঠাংশের কথা এই বর্ণনায় এসেছে।
- দুই দাদী-নানী একত্র হলে ষষ্ঠাংশ ভাগ করার কথা বলা হয়েছে।
- উত্তরাধিকার বিষয়ে না জানলে জিজ্ঞেস করা ও প্রমাণ দেখা জরুরি।
