২৫/৫. অধ্যায়ঃ
যে সকল প্রাণী খাওয়া মাকরূহ্
ঘোড়া, খচ্চর ও গাধার গোশত সম্পর্কে ইমাম মালিকের মত
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১০৫৪
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১০৫৪
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك أَنَّ أَحْسَنَ مَا سَمِعَ فِي الْخَيْلِ وَالْبِغَالِ وَالْحَمِيرِ أَنَّهَا لَا تُؤْكَلُ لِأَنَّ اللهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى قَالَ { وَالْخَيْلَ وَالْبِغَالَ وَالْحَمِيرَ لِتَرْكَبُوهَا وَزِينَةً } وَقَالَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى فِي الْأَنْعَامِ { لِتَرْكَبُوا مِنْهَا وَمِنْهَا تَأْكُلُونَ } وَقَالَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى { لِيَذْكُرُوا اسْمَ اللهِ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ مِنْ بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِ } { فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْقَانِعَ وَالْمُعْتَرَّ } ১৮২৫-قَالَ مَالِك و سَمِعْت أَنَّ الْبَائِسَ هُوَ الْفَقِيرُ وَأَنَّ الْمُعْتَرَّ هُوَ الزَّائِرُ ১৮২৬-قَالَ مَالِك فَذَكَرَ اللهُ الْخَيْلَ وَالْبِغَالَ وَالْحَمِيرَ لِلرُّكُوبِ وَالزِّينَةِ وَذَكَرَ الْأَنْعَامَ لِلرُّكُوبِ وَالْأَكْلِ ১৮২৭-قَالَ مَالِك وَالْقَانِعُ هُوَ الْفَقِيرُ أَيْضًا.
মালিক (র) হতে বর্ণিতঃ
ঘোড়া, খচ্চর এবং গাধার গোশ্ত আহার করা সম্পর্কে উত্তম যা শুনেছি তা এই- উহা আহার করা যাবে না। কারণ আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন : অশ্ব, অশ্বতর ও গর্দভ আমি আরোহণ এবং শোভার জন্য সৃষ্টি করেছি। (সহীহ, মুসলিম ১৯৩৩)আল্লাহ তা‘আলা আন‘আম সম্বন্ধে ইরশাদ করেন : যাতে তোমরা এগুলোর উপর আরোহণ কর এবং এগুলো আহার কর। আল্লাহ তা‘আলা আরো ইরশাদ করেন : আল্লাহ তাদেরকে জীবনোপকরণস্বরূপ যেসব চতুষ্পদ আন’আম দান করেছেন সেই সব প্রাণী যবেহ কালে আল্লাহর নাম নেয়। তখন এগুলো হতে তোমরা আহার কর এবং প্রার্থীকে আহার করাও।মালিক (র) বলেন : আমি আহলে ইলমের নিকট শুনেছি উপরিউক্ত আয়াতে উল্লেখিত ‘বা-ইস’ শব্দের অর্থ ফকির এবং মু’তার শব্দের অর্থ আগন্তুক। মালিক (র) বলেন : (এই আয়াতগুলো দ্বারা বুঝা গেল) আল্লাহ্ তা‘আলা ঘোড়া, খচ্চর এবং গাধা আরোহণ করার জন্য সৃষ্টি করেছেন। আর আন’আম জন্তুসমূহ আহার এবং আরোহণ উভয় কাজের জন্যই সৃষ্টি করেছেন।মালিক (র) বলেন : কানি’ ভিক্ষুককেও বলা হয়।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১০৫৪-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় ইমাম মালিক (র) বলেন, ঘোড়া, খচ্চর ও গাধার গোশত খাওয়া যাবে না—এ কথাই তিনি উত্তম হিসেবে শুনেছেন। তিনি কুরআনের আয়াত উল্লেখ করেন, যেখানে ঘোড়া, খচ্চর ও গাধাকে আরোহণ ও সৌন্দর্যের জন্য সৃষ্টি বলা হয়েছে। আবার আন‘আম জন্তু সম্পর্কে বলা হয়েছে, এগুলোতে আরোহণও করা হয় এবং এগুলো থেকে খাওয়াও করা হয়। ইমাম মালিক (র) এই দুই ধরনের বর্ণনার পার্থক্য দেখিয়েছেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো—প্রাণীর ব্যবহার নিয়ে কুরআনের ভাষা থেকে আলিমরা বিধান বুঝেছেন। হাদিসে ফকির, আগন্তুক ও আহার করানোর কথাও এসেছে, যা আন‘আম জন্তুর ব্যবহারকে আরও স্পষ্ট করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঘোড়া, খচ্চর ও গাধাকে আরোহণ ও শোভার জন্য বলা হয়েছে।
- আন‘আম জন্তু সম্পর্কে খাওয়া ও আরোহণ—উভয় ব্যবহারের কথা এসেছে।
- আলিমরা কুরআনের ভাষা থেকে খাদ্য-বিধানের পার্থক্য বুঝেছেন।
