২/১৮. অধ্যায়ঃ

দুই লজ্জাস্থানের স্পর্শে গোসল ওয়াজিব হওয়া

বীর্যপাত না হলেও গোসল ওয়াজিব: জানাবতের গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা

মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১০৩

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّ أَبَا مُوسَى الْأَشْعَرِيَّ أَتَى عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لَهَا لَقَدْ شَقَّ عَلَيَّ اخْتِلَافُ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي أَمْرٍ إِنِّي لَأُعْظِمُ أَنْ أَسْتَقْبِلَكِ بِهِ فَقَالَتْ مَا هُوَ مَا كُنْتَ سَائِلًا عَنْهُ أُمَّكَ فَسَلْنِي عَنْهُ فَقَالَ الرَّجُلُ يُصِيبُ أَهْلَهُ ثُمَّ يُكْسِلُ وَلَا يُنْزِلُ فَقَالَتْ إِذَا جَاوَزَ الْخِتَانُ الْخِتَانَ فَقَدْ وَجَبَ الْغُسْلُ فَقَالَ أَبُو مُوسَى الْأَشْعَرِيُّ لَا أَسْأَلُ عَنْ هَذَا أَحَدًا بَعْدَكِ أَبَدًا.

সাঈদ ইবনু মুসায়্যাব (র) হতে বর্ণিতঃ

আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ) নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ)-এর কাছে উপস্থিত হলেন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবাদের মতানৈক্য আমার কাছে খুব ভারী ও কষ্টদায়ক হয়েছে এবং তা এমন একটি বিষয় যা আপনার কাছে উল্লেখ করা আমি মহাব্যাপার মনে করি। ‘আয়েশা সিদ্দীকা (রাঃ) বললেন, কি বিষয় উহা? তুমি যে বিষয় তোমার মাতার কাছে প্রশ্ন করতে পার, সে বিষয়ে আমার কাছেও প্রশ্ন করতে পার। তারপর আবূ মূসা (রাঃ) বললেন, কোন লোক তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করার পর সে ক্লান্ত হয়েছে কিন্তু বীর্য নির্গত হয়নি। সে কি করবে? তিনি বললেন, (পুরুষের) লজ্জাস্থান (স্ত্রীলোকের) লজ্জাস্থান অতিক্রম করলে গোসল ওয়াজিব হবে। আবূ মূসা (রা) বললেন, আপনাকে জিজ্ঞেস করার পর আমি এই বিষয়ে অন্য করো কাছে আর কখনও জিজ্ঞেস করব না। (সহীহ [মারফু] ইমাম মুসলিম মারফু সনদে বর্ণনা করেছেন ৩৪৯)

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১০৩-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) আয়েশা (রাঃ)-এর কাছে এমন একটি বিষয়ে প্রশ্ন করেন, যাতে সাহাবীদের মধ্যে মতানৈক্য ছিল। বিষয়টি ছিল, কোনো ব্যক্তি স্ত্রীর সাথে সহবাস করল, কিন্তু বীর্য নির্গত হলো না—তখন কী করবে? আয়েশা (রাঃ) জবাবে বলেন, যখন পুরুষের লজ্জাস্থান স্ত্রীর লজ্জাস্থান অতিক্রম করে, তখন গোসল ওয়াজিব হয়। এই বর্ণনার মূল শিক্ষা হলো, গোসল ফরজ হওয়ার জন্য শুধু বীর্যপাতের দিক দেখা নয়; সহবাসের বাস্তব মিলনও গুরুত্বপূর্ণ। আবূ মূসা (রাঃ) উত্তর পেয়ে বলেন, এরপর এ বিষয়ে আর কাউকে জিজ্ঞেস করবেন না। এতে বোঝা যায়, প্রশ্নটি জটিল হলেও উত্তরটি স্পষ্ট ও কার্যকর।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • বীর্য নির্গত না হলেও সহবাস হলে গোসল ওয়াজিব হতে পারে।
  • জটিল মাসআলায় জ্ঞানী ব্যক্তির কাছে প্রশ্ন করা উচিত।
  • পবিত্রতার বিধান জানলে ইবাদত সঠিকভাবে করা সহজ হয়।
  • আয়েশা (রাঃ)-এর জ্ঞান থেকে সাহাবীরাও উপকৃত হয়েছেন।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন