২৩/৫. অধ্যায়ঃ
কুরবানীর মধ্যে শরীক লওয়া এবং গরু ও উট কত জনের পক্ষ হতে যবেহ করা যাবে
এক পরিবারের পক্ষ থেকে এক কুরবানীর সহজ শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১০২৭
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১০২৭
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عُمَارَةَ بْنِ صَيَّادٍ أَنَّ عَطَاءَ بْنَ يَسَارٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَا أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيَّ أَخْبَرَهُ قَالَ: كُنَّا نُضَحِّي بِالشَّاةِ الْوَاحِدَةِ يَذْبَحُهَا الرَّجُلُ عَنْهُ وَعَنْ أَهْلِ بَيْتِهِ ثُمَّ تَبَاهَى النَّاسُ بَعْدُ فَصَارَتْ مُبَاهَاةً. ১৭৭১-قَالَ مَالِك وَأَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي الْبَدَنَةِ وَالْبَقَرَةِ وَالشَّاةِ أَنَّ الرَّجُلَ يَنْحَرُ عَنْهُ وَعَنْ أَهْلِ بَيْتِهِ الْبَدَنَةَ وَيَذْبَحُ الْبَقَرَةَ وَالشَّاةَ الْوَاحِدَةَ هُوَ يَمْلِكُهَا وَيَذْبَحُهَا عَنْهُمْ وَيَشْرَكُهُمْ فِيهَا فَأَمَّا أَنْ يَشْتَرِيَ النَّفَرُ الْبَدَنَةَ أَوْ الْبَقَرَةَ أَوْ الشَّاةَ يَشْتَرِكُونَ فِيهَا فِي النُّسُكِ وَالضَّحَايَا فَيُخْرِجُ كُلُّ إِنْسَانٍ مِنْهُمْ حِصَّةً مِنْ ثَمَنِهَا وَيَكُونُ لَهُ حِصَّةٌ مِنْ لَحْمِهَا فَإِنَّ ذَلِكَ يُكْرَهُ وَإِنَّمَا سَمِعْنَا الْحَدِيثَ أَنَّهُ لَا يُشْتَرَكُ فِي النُّسُكِ وَإِنَّمَا يَكُونُ عَنْ أَهْلِ الْبَيْتِ الْوَاحِدِ.
উমারা ইবনু সাইয়্যাদ (র) হতে বর্ণিতঃ
আতা ইবনু ইয়াসার (র) তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন : আবূ আইয়ুব [১] আনসারী (রা) তাঁকে বলেছেন, আমরা এক এক পরিবারের তরফ হতে এক একটি বকরী কুরবানী করতাম। পরে লোকজন গর্ব ও অহংকারের বশবর্তী হয়ে পরিবারের প্রত্যেকের তরফ হতে এক একটি বকরী কুরবানী করা শুরু করে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (র) বলেন : এই বিষয়ে সবচাইতে ভাল বর্ণনা যা আমি শুনেছি, তা হল এক ব্যক্তি নিজের এবং পরিবারের অন্যদের তরফ হতে নিজস্ব একটি উট, গরু বা বকরী কুরবানী করতে পারবে এবং সওয়াবের মধ্যে অন্যদেরকেও শামিল করে নেবে। কিন্তু একটি উট, গরু বা বকরী খরিদ করে অন্য কাউকে এর কুরবানীতে শরীক করা অর্থাৎ শরীকদের নিকট হতে টাকা নিয়ে তদনুসারে তাদের গোশত দেয়া মাকরূহ। আমরা শুনেছি কুরবানীতে শরীক নেয়া যেতে পারে না বরং এক পরিবারের পক্ষ হতে এক একটি কুরবানী করতে হবে।
[১] আবূ আইয়ুব আনসারী (রা) প্রসিদ্ধ সাহাবী। তাঁর নাম খালিদ ইবনু যাইদ। -আওজায
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১০২৭-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আবূ আইয়ুব আনসারী (রা) বলেন, তাঁরা এক এক পরিবারের পক্ষ থেকে একটি বকরী কুরবানী করতেন। পরে লোকজন গর্ব ও অহংকারের কারণে পরিবারের প্রত্যেকের পক্ষ থেকে আলাদা বকরী কুরবানী করতে শুরু করে। এতে কুরবানীর মূল উদ্দেশ্য নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা আছে। কুরবানী আল্লাহর জন্য ইবাদত; এটি মানুষের সামনে বড় দেখানোর কাজ নয়। ইমাম মালিক (র) এখানে বলেন, একজন ব্যক্তি নিজের এবং পরিবারের অন্যদের পক্ষ থেকে নিজের মালিকানাধীন উট, গরু বা বকরী কুরবানী করতে পারে এবং সওয়াবে তাদের শামিল করতে পারে। কিন্তু টাকা নিয়ে শরীক বানিয়ে গোশত ভাগ করে দেওয়ার বিষয়কে তিনি পছন্দ করেননি। তাই এই হাদিসে পরিবার, নিয়ত ও অহংকার এড়ানোর কথা জোর দিয়ে বোঝা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- এক পরিবারের পক্ষ থেকে একটি বকরী কুরবানীর বর্ণনা এসেছে।
- কুরবানীতে গর্ব ও দেখানো মনোভাব থেকে বাঁচা দরকার।
- নিজের কুরবানীর সওয়াবে পরিবারকে শামিল করার কথা এসেছে।
- টাকা নিয়ে শরীক বানানোর বিষয়ে ইমাম মালিক অপছন্দ প্রকাশ করেছেন।
