২২/৯. অধ্যায়ঃ
কসম সম্পর্কীয় বিবিধ আহকাম
তাওবার পর সাদকা: আবূ লুবাবা (রা)-এর ঘটনায় নববী ভারসাম্য
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১০১৬
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১০১৬
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عُثْمَانَ بْنِ حَفْصِ بْنِ عُمَرَ بْنِ خَلْدَةَ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ أَبَا لُبَابَةَ بْنَ عَبْدِ الْمُنْذِرِ حِينَ تَابَ اللهُ عَلَيْهِ قَالَ يَا رَسُولَ اللهِ أَهْجُرُ دَارَ قَوْمِي الَّتِي أَصَبْتُ فِيهَا الذَّنْبَ وَأُجَاوِرُكَ وَأَنْخَلِعُ مِنْ مَالِي صَدَقَةً إِلَى اللهِ وَإِلَى رَسُولِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُجْزِيكَ مِنْ ذَلِكَ الثُّلُثُ.
ইবনু শিহাব (র) হতে বর্ণিতঃ
আবূ লুবাবা ইবনু আবদুল মুনজির (রা)-এর তাওবা যখন আল্লাহ তা’আলা কবূল করেন তখন তিনি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে আরয করলেন : হে আল্লাহর রসূল! আমার আত্মীয়-স্বজনের সাথে আমি যেখানে বাস করি, আমার যে বাড়িটিতে আমি গুনাহ করেছিলাম, যেখানে আমার এ গুনাহ হয়েছিল, উহা ত্যাগ করে আপনার নিকট এসে থাকব কি? আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওয়াস্তে এই বাড়িটি সাদকা করব কি? রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমার ধন-সম্পদের এক তৃতীয়াংশ সাদকা দিয়ে দিলেই যথেষ্ট হবে। [১] (সহীহ, আবূ দাঊদ ৩৩১৯, আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন [মিশকাত ৩৪৩৯, তবে ইমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল])
[১] আবূ লুবাবা (রা) মদীনার ইহুদী বসতি বনূ কুরায়যায় বসবাস করতেন। এদের সাথে মুসলমানদের যুদ্ধ শুরু হলে ইনি মুসলমানদের তরফ হতে আলোচনা করতে যান এবং এদের সহানুভূতিতে ইশারায় ইহাদের সম্পর্কে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোপন সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। পরে এই জন্য অত্যন্ত অনুতপ্ত হন এবং মসজিদে নববীর একটি স্তম্ভের সাথে নিজেকে বেঁধে রাখেন ও বলেন, যতদিন আল্লাহ আমার এই গুনাহ মাফ না করবেন ততদিন এই অবস্থায়ই আমি থাকব। শুধু প্রশ্রাব-পায়খানার সময় তাঁর স্ত্রী বাঁধন খুলে দিতেন, পরে আবার বেঁধে রাখতেন। শেষে আল্লাহ তা’আলা তাঁর ক্ষমার ঘোষণা করেন। তখন তিনি আনন্দে সকল কিছু সদকা করে দিতে চেয়েছিলেন।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১০১৬-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আবূ লুবাবা ইবনু আবদুল মুনজির (রা)-এর তাওবা কবুল হওয়ার পর তিনি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসেন। তিনি জানতে চান, যেখানে তাঁর গুনাহ হয়েছিল সেই বাড়ি ছেড়ে নবীজির কাছে এসে থাকবেন কি না, এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য নিজের সম্পদ সাদকা করবেন কি না। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এক তৃতীয়াংশ সাদকা দিলেই যথেষ্ট হবে। এখানে তাওবা, অনুশোচনা ও সাদকার মধ্যে ভারসাম্য শেখানো হয়েছে। আবেগে সব ছেড়ে দেওয়া নয়; বরং নবীজির নির্দেশিত পরিমাণে কাজ করাই নিরাপদ পথ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাওবার পর ভালো কাজে এগিয়ে আসা প্রশংসনীয়।
- সাদকার ক্ষেত্রেও ভারসাম্য রাখা দরকার।
- আবেগের চেয়ে নববী দিকনির্দেশনা অনুসরণ করা নিরাপদ।
- সব সম্পদ দিয়ে দেওয়া নয়, এক তৃতীয়াংশ যথেষ্ট বলা হয়েছে।
