২২/১. অধ্যায়ঃ
কোথাও হেঁটে যাওয়ার মানত করা
মসজিদে কোবায় হেঁটে যাওয়ার মানত: অপূর্ণ অঙ্গীকারের শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১০০২
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১০০২
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ عَنْ عَمَّتِهِ أَنَّهَا حَدَّثَتْهُ عَنْ جَدَّتِهِ أَنَّهَا كَانَتْ جَعَلَتْ عَلَى نَفْسِهَا مَشْيًا إِلَى مَسْجِدِ قُبَاءٍ فَمَاتَتْ وَلَمْ تَقْضِهِ فَأَفْتَى عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبَّاسٍ ابْنَتَهَا أَنْ تَمْشِيَ عَنْهَا ১৭১২-قَالَ يَحْيَى و سَمِعْت قَوْله تَعَالَى يَقُولُ لَا يَمْشِي أَحَدٌ عَنْ أَحَدٍ.
আবদুল্লাহ্ ইবনু আবূ বাকর (রা) হতে বর্ণিতঃ
তার ফুফু বর্ণনা করেছেন, তাঁর দাদী মসজিদ-ই কোবায় হেঁটে যাওয়ার মানত করেছিলেন, কিন্তু ইহা পূরণ করার পূর্বেই তাঁর ইন্তেকাল হয়ে যায়। তখন আবদুল্লাহ্ ইবনু আব্বাস (রা) ঐ মানত [১] আদায় করে দেওয়ার জন্য তাঁর কন্যাকে নির্দেশ দেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (র) বলেন, কারো তরফ হতে হেঁটে যাওয়ার মানত পূরণ করা জরুরী নয়।
[১] মসজিদ-ই কোবা মদীনা হতে তিন মাইল দূরে অবস্থিত। রসূলুল্লাহ্ (সা) পদব্রজে ও আরোহী অবস্থায় সেখানে গমন করতেন। আবদুল্লাহ্ ইবনু আব্বাস (রা) এ দিকে লক্ষ্য করে মানত পুরা করার নির্দেশ দিয়াছিলেন।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১০০২-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় একজন নারী তাঁর দাদীর মানতের কথা বলেছেন। দাদী মসজিদে কোবায় হেঁটে যাওয়ার মানত করেছিলেন, কিন্তু তা পূরণ করার আগে তাঁর মৃত্যু হয়। তখন আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা) তাঁর কন্যাকে সেই মানত আদায় করতে বলেন। তবে ইমাম মালিক (র) এখানে একটি মত উল্লেখ করেছেন যে, কারো পক্ষ থেকে হেঁটে যাওয়ার মানত পূরণ করা জরুরি নয়। তাই এই হাদিসে মানত আদায়ের বিষয়টি যেমন এসেছে, তেমনি আলিমদের ফিকহি মতের পার্থক্যের ইঙ্গিতও আছে। মূল কথা হলো, মানত করার আগে ভাবতে হয় এবং অপূর্ণ মানত নিয়ে হালকা মনোভাব রাখা ঠিক নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানত করার আগে নিজের সামর্থ্য ও পরিণতি ভাবা দরকার।
- মৃত ব্যক্তির অপূর্ণ মানত নিয়ে জ্ঞানীদের মতামত নেওয়া উচিত।
- হেঁটে যাওয়ার মানত নিয়ে আলিমদের মধ্যে ফিকহি আলোচনা আছে।
- ইবাদতের নামে অঙ্গীকার করলে তা অবহেলা করা ঠিক নয়।
