১১/৩৫. অধ্যায়ঃ
জুমার দিন খুতবায় বৃষ্টির জন্য দোয়া পাঠ করা।
বৃষ্টির দোয়া: অভাব ও অতিরিক্ততার মাঝে ভারসাম্য
সহীহ বুখারী : ৯৩৩
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৯৩৩
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ، قَالَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرٍو، قَالَ حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ أَصَابَتِ النَّاسَ سَنَةٌ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَبَيْنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ فِي يَوْمِ جُمُعَةٍ قَامَ أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلَكَ الْمَالُ وَجَاعَ الْعِيَالُ، فَادْعُ اللَّهَ لَنَا. فَرَفَعَ يَدَيْهِ، وَمَا نَرَى فِي السَّمَاءِ قَزَعَةً، فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا وَضَعَهَا حَتَّى ثَارَ السَّحَابُ أَمْثَالَ الْجِبَالِ، ثُمَّ لَمْ يَنْزِلْ عَنْ مِنْبَرِهِ حَتَّى رَأَيْتُ الْمَطَرَ يَتَحَادَرُ عَلَى لِحْيَتِهِ صلى الله عليه وسلم فَمُطِرْنَا يَوْمَنَا ذَلِكَ، وَمِنَ الْغَدِ، وَبَعْدَ الْغَدِ وَالَّذِي يَلِيهِ، حَتَّى الْجُمُعَةِ الأُخْرَى، وَقَامَ ذَلِكَ الأَعْرَابِيُّ ـ أَوْ قَالَ غَيْرُهُ ـ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، تَهَدَّمَ الْبِنَاءُ وَغَرِقَ الْمَالُ، فَادْعُ اللَّهَ لَنَا. فَرَفَعَ يَدَيْهِ، فَقَالَ " اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا، وَلاَ عَلَيْنَا ". فَمَا يُشِيرُ بِيَدِهِ إِلَى نَاحِيَةٍ مِنَ السَّحَابِ إِلاَّ انْفَرَجَتْ، وَصَارَتِ الْمَدِينَةُ مِثْلَ الْجَوْبَةِ، وَسَالَ الْوَادِي قَنَاةُ شَهْرًا، وَلَمْ يَجِئْ أَحَدٌ مِنْ نَاحِيَةٍ إِلاَّ حَدَّثَ بِالْجَوْدِ.
আনাস ইব্নু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ)-এর যুগে একবার দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। সে সময় কোন এক জুমু’আর দিন নবী (ﷺ) খুতবা দিচ্ছিলেন। তখন এক বেদুঈন উঠে দাঁড়াল এবং আরয করল, হে আল্লাহর রসূল! (বৃষ্টির অভাবে) সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। পরিবার পরিজনও অনাহারে রয়েছে। তাই আপনি আল্লাহর নিকট আমাদের জন্য দোয়া করুন। তিনি দুহাত তুললেন। সে সময় আমরা আকাশে এক খণ্ড মেঘও দেখিনি। যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ (করে বলছি)! (দোয়া শেষে) তিনি দুহাত (এখনও) নামাননি, এমন সময় পাহাড়ের ন্যায় মেঘের বিরাট বিরাট খণ্ড উঠে আসল। অতঃপর তিনি মিম্বার হতে নীচে নামেননি, এমন সময় দেখতে পেলাম তাঁর দাড়ির উপর ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি পড়ছে। সে দিন আমাদের এখানে বৃষ্টি হল। এর পরে ক্রমাগত দুদিন এবং পরবর্তী জুমু’আ পর্যন্ত প্রতিদিন।(পরবর্তী জুমু’আর দিন) সে বেদুঈন অথবা অন্য কেউ উঠে দাঁড়াল এবং আরয করল, হে আল্লাহর রসূল! (বৃষ্টির কারণে) এখন আমাদের বাড়ি ঘর ধ্বসে পড়ছে, সম্পদ ডুবে যাচ্ছে। তাই আপনি আমাদের জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করুন। তখন তিনি দুহাত তুললেন এবং বললেন: “হে আল্লাহ আমাদের পার্শ্ববর্তী এলাকায় (বৃষ্টি দাও), আমাদের উপর নয়।” (দোয়ার সময়) তিনি মেঘের এক একটি খণ্ডের দিকে ইশারা করছিলেন, আর সেখানকার মেঘ কেটে যাচ্ছিল। এর ফলে চতুর্দিকে মেঘ পরিবেষ্টিত অবস্থায় ঢালের ন্যায় মদীনার আকাশ পরিষ্কার হয়ে গেলে এবং 'কানাত' উপত্যকার পানি এক মাস ধরে প্রবাহিত হতে লাগল, তখন (মদীনার) চারপাশের যে কোন অঞ্চল হতে যে কেউ এসেছে, সে এ প্রবল বৃষ্টির কথা আলোচনা করেছে।
সহীহ বুখারী হাদিস ৯৩৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো বৃষ্টির দোয়া ও ভারসাম্য। নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সময়ে দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে এক বেদুঈন জুমার খুতবার সময় বলল, সম্পদ ধ্বংস হচ্ছে এবং পরিবার অনাহারে আছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) দুই হাত তুলে দোয়া করলেন। আকাশে মেঘ না থাকলেও বৃষ্টি শুরু হলো এবং পরবর্তী জুমা পর্যন্ত বৃষ্টি চলল। পরে আবার বলা হলো, ঘরবাড়ি ভেঙে যাচ্ছে, সম্পদ ডুবে যাচ্ছে। তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) দোয়া করলেন, হে আল্লাহ, আমাদের চারপাশে বৃষ্টি দাও, আমাদের উপর নয়। এরপর মেঘ সরে গেল। এই হাদিস দোয়ার শক্তি, আল্লাহর দান এবং প্রয়োজনের ভারসাম্য শেখায়। মানুষ কখনও অভাবে কষ্ট পায়, আবার অতিরিক্ততাতেও কষ্ট হতে পারে। তাই আল্লাহর কাছে চাওয়া উচিত কল্যাণকর ও উপকারীভাবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুর্ভিক্ষ ও কষ্টে আল্লাহর কাছে বৃষ্টির দোয়া করা হয়েছে।
- অতিরিক্ত বৃষ্টি ক্ষতির কারণ হলে তা সরিয়ে দেওয়ার দোয়াও করা হয়েছে।
- দোয়ায় প্রয়োজন ও কল্যাণের ভারসাম্য চাওয়া উচিত।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) মানুষের বাস্তব কষ্ট শুনে আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন।
