১১/৬. অধ্যায়ঃ
জুমু'আর জন্য তৈল ব্যবহার করা।
জুমার আদব: গোসল, সুগন্ধি, নীরবতা ও খুতবা শোনা
সহীহ বুখারী : ৮৮৩
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৮৮৩
حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنِ ابْنِ وَدِيعَةَ، عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَغْتَسِلُ رَجُلٌ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، وَيَتَطَهَّرُ مَا اسْتَطَاعَ مِنْ طُهْرٍ، وَيَدَّهِنُ مِنْ دُهْنِهِ، أَوْ يَمَسُّ مِنْ طِيبِ بَيْتِهِ ثُمَّ يَخْرُجُ، فَلاَ يُفَرِّقُ بَيْنَ اثْنَيْنِ، ثُمَّ يُصَلِّي مَا كُتِبَ لَهُ، ثُمَّ يُنْصِتُ إِذَا تَكَلَّمَ الإِمَامُ، إِلاَّ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ الأُخْرَى ".
সালমান ফারসী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলছেনঃ যে ব্যক্তি জুমুয়ার দিন গোসল করে এবং যথাসাধ্য ভালরূপে পবিত্রতা অর্জন করে ও নিজের তেল হতে ব্যবহার করে বা নিজ ঘরের সুগন্ধি ব্যবহার করে, অতঃপর বের হয় এবং দুইজন লোকের মাঝে ফাঁক না করে, অতঃপর তার নির্ধারিত সালাত আদায় করে এবং ইমামের খুতবা দেয়ার সময় চুপ থাকে, তা হলে তার সে জুমুয়া হতে আরেক জুমুয়া পর্যন্ত সময়ের যাবতীয় গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।
সহীহ বুখারী হাদিস ৮৮৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জুমার দিনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আদব একসঙ্গে এসেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে, সাধ্য অনুযায়ী ভালোভাবে পবিত্রতা অর্জন করে, নিজের তেল বা ঘরের সুগন্ধি ব্যবহার করে, তারপর মসজিদে যায়, দুইজন মানুষের মাঝে ফাঁক করে না, যতটুকু সালাত তার জন্য লেখা আছে তা আদায় করে, এবং ইমাম কথা বলা শুরু করলে চুপ থাকে—তার জন্য এক জুমা থেকে আরেক জুমা পর্যন্ত গুনাহ মাফের কথা বলা হয়েছে। এখানে শর্তগুলো খুবই স্পষ্ট। শুধু মসজিদে যাওয়া নয়; পরিচ্ছন্নতা, সুন্দর ব্যবহার, অন্যদের বিরক্ত না করা, নফল সালাত এবং খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা—সব মিলিয়ে জুমার পূর্ণ আদব তৈরি হয়। তাই জুমার দিনের ফজিলত পেতে হলে এই কাজগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জুমার দিন গোসল ও পবিত্রতার যত্ন নেওয়া উচিত।
- মসজিদে গিয়ে দুইজনের মাঝে ফাঁক করে বসা ঠিক নয়।
- ইমাম খুতবা দিলে চুপ থেকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি।
- জুমার আদব মানা গুনাহ মাফের কারণ হতে পারে।
