১০/১৬১. অধ্যায়ঃ

শিশুদের ওযু করা, কখন তাদের উপর গোসল ও পবিত্রতা অর্জন আবশ্যক হয় এবং সালাতের জামাআতে, দুই ঈদে এবং জানাজায় তাদের উপস্থিতি এবং কাতারবন্দী হওয়া।

রাতের সালাত: ইমামের ডান পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৮৫৯

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، قَالَ أَخْبَرَنِي كُرَيْبٌ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ بِتُّ عِنْدَ خَالَتِي مَيْمُونَةَ لَيْلَةً، فَنَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا كَانَ فِي بَعْضِ اللَّيْلِ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَتَوَضَّأَ مِنْ شَنٍّ مُعَلَّقٍ وُضُوءًا خَفِيفًا ـ يُخَفِّفُهُ عَمْرٌو وَيُقَلِّلُهُ جِدًّا ـ ثُمَّ قَامَ يُصَلِّي، فَقُمْتُ فَتَوَضَّأْتُ نَحْوًا مِمَّا تَوَضَّأَ، ثُمَّ جِئْتُ فَقُمْتُ عَنْ يَسَارِهِ، فَحَوَّلَنِي فَجَعَلَنِي عَنْ يَمِينِهِ، ثُمَّ صَلَّى مَا شَاءَ اللَّهُ، ثُمَّ اضْطَجَعَ فَنَامَ حَتَّى نَفَخَ، فَأَتَاهُ الْمُنَادِي يُؤْذِنُهُ بِالصَّلاَةِ فَقَامَ مَعَهُ إِلَى الصَّلاَةِ، فَصَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ‏.‏ قُلْنَا لِعَمْرٍو إِنَّ نَاسًا يَقُولُونَ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَنَامُ عَيْنُهُ وَلاَ يَنَامُ قَلْبُهُ‏.‏ قَالَ عَمْرٌو سَمِعْتُ عُبَيْدَ بْنَ عُمَيْرٍ يَقُولُ إِنَّ رُؤْيَا الأَنْبِيَاءِ وَحْىٌ ثُمَّ قَرَأَ ‏{‏إِنِّي أَرَى فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ‏}‏‏.‏

ইব্‌নু 'আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি এক রাতে আমার খালা (উম্মুল মু'মিনীন) মাইমূনা (রাঃ) এর নিকট রাত কাটালাম। সে রাতে নবী (ﷺ)-ও সেখানে নিদ্রা যান। রাতের কিছু অংশ অতিবাহিত হলে তিনি উঠলেন এবং একটি ঝুলন্ত মশক হতে পানি নিয়ে হালকা উযু করলেন। আমর (বর্ণনাকারী) এটাকে হালকা এবং অতি কম বুঝলেন। অতঃপর তিনি সালাতে দাঁড়ালেন।ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি উঠে তাঁর মতই সংক্ষিপ্ত উযু করলাম, অতঃপর এসে নবী (ﷺ)-এর বামপাশে দাঁড়িয়ে গেলাম। তখন তিনি আমাকে ঘুরিয়ে তাঁর ডানপাশে করে দিলেন। অতঃপর যতক্ষণ আল্লাহর ইচ্ছা সালাত আদায় করলেন, অতঃপর বিছানায় শুয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। এমনকি শ্বাস-প্রশ্বাসের আওয়াজ হতে লাগল, অতঃপর মুয়াজ্জিন এসে সালাতের কথা জানালে তিনি উঠে সালাতের জন্য চলে গেলেন এবং সালাত আদায় করলেন। কিন্তু (নতুন) উযু করলেন না।সুফিয়ান (রহঃ) বলেন, আমি আমর (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, লোকজন বলে থাকেন, নবী (ﷺ)-এর চোখ নিদ্রায় যেত কিন্তু তাঁর কালব (হৃদয়) জাগ্রত থাকত। আমর (রহঃ) বললেন, উবাইদ ইবন উমাইর (রহঃ)-কে আমি বলতে শুনেছি যে, নিশ্চয়ই নবীগণের স্বপ্ন ওহী। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন:إِنِّي أَرَى فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ‘‘ইন্নি আরা ফিল মানামি আন্নি আজবাহুকা’’ [ইব্রাহিম (আঃ), ইসমাইল (আঃ)-কে বললেন] ''আমি স্বপ্ন দেখলাম, তোমাকে কুরবানী করছি।'' (সূরা সাফফাত ৩৭/১০২)।

সহীহ বুখারী হাদিস ৮৫৯-এর সারসংক্ষেপ

এই দীর্ঘ হাদিসে ইবন আব্বাস রাঃ এক রাতের ঘটনা বর্ণনা করেন। তিনি তাঁর খালা মাইমূনা রাঃ-এর ঘরে ছিলেন। রাতের কিছু অংশ পরে নবী صلى الله عليه وسلم উঠলেন, ঝুলন্ত মশক থেকে পানি নিয়ে হালকা উযু করলেন এবং সালাতে দাঁড়ালেন। ইবন আব্বাস রাঃও একইভাবে উযু করে এসে নবী صلى الله عليه وسلم-এর বাম পাশে দাঁড়ালেন। তখন নবী صلى الله عليه وسلم তাঁকে ঘুরিয়ে ডান পাশে দাঁড় করালেন। এরপর যতক্ষণ আল্লাহ ইচ্ছা করেন, তিনি সালাত আদায় করেন। পরে ঘুমালেন এবং মুয়াজ্জিন এলে সালাতে গেলেন, নতুন উযু করলেন না। হাদিসের শেষে নবীদের স্বপ্ন ওহী হওয়ার কথাও এসেছে। মূল শিক্ষা হলো রাতের সালাত, হালকা উযু, এবং এক ব্যক্তির ইমামের ডান পাশে দাঁড়ানো।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নবী صلى الله عليه وسلم রাতের কিছু অংশে উঠে সালাত আদায় করেছেন।
  • ইবন আব্বাস রাঃ বাম পাশে দাঁড়ালে তাঁকে ডান পাশে দাঁড় করানো হয়।
  • নবী صلى الله عليه وسلم ঘুমের পর সালাতে গেলেন, কিন্তু নতুন উযু করলেন না—এটি বর্ণনায় এসেছে।
  • হাদিসের শেষে নবীদের স্বপ্ন ওহী হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন