১০/১২৮. অধ্যায়ঃ

সিজদায় যাওয়ার সময় তাকবীর বলতে বলতে নত হওয়া।

وَقَالَ نَافِعٌ كَانَ ابْنُ عُمَرَ يَضَعُ يَدَيْهِ قَبْلَ رُكْبَتَيْهِ.নাফি (রহ.) বলেন, ইবন ‘উমার (রা.) সিজদায় যাওয়ার সময় হাঁটু রাখার পূর্বে হাত রাখতেন।"

ইমামের অনুসরণ: জামাতে সালাতের শৃঙ্খলা

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৮০৫

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، غَيْرَ مَرَّةٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ سَقَطَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ فَرَسٍ ـ وَرُبَّمَا قَالَ سُفْيَانُ مِنْ فَرَسٍ ـ فَجُحِشَ شِقُّهُ الأَيْمَنُ، فَدَخَلْنَا عَلَيْهِ نَعُودُهُ، فَحَضَرَتِ الصَّلاَةُ، فَصَلَّى بِنَا قَاعِدًا وَقَعَدْنَا ـ وَقَالَ سُفْيَانُ مَرَّةً صَلَّيْنَا قُعُودًا ـ فَلَمَّا قَضَى الصَّلاَةَ قَالَ ‏ "‏ إِنَّمَا جُعِلَ الإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ، فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا وَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا، وَإِذَا رَفَعَ فَارْفَعُوا، وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ‏.‏ فَقُولُوا رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ‏.‏ وَإِذَا سَجَدَ فَاسْجُدُوا ‏"‏‏.‏ قَالَ سُفْيَانُ كَذَا جَاءَ بِهِ مَعْمَرٌ قُلْتُ نَعَمْ‏.‏ قَالَ لَقَدْ حَفِظَ، كَذَا قَالَ الزُّهْرِيُّ وَلَكَ الْحَمْدُ‏.‏ حَفِظْتُ مِنْ شِقِّهِ الأَيْمَنِ‏.‏ فَلَمَّا خَرَجْنَا مِنْ عِنْدِ الزُّهْرِيِّ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ ـ وَأَنَا عِنْدَهُ ـ فَجُحِشَ سَاقُهُ الأَيْمَنُ‏.‏

আনাস ইব্‌নু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একবার আল্লাহর রসূল (ﷺ) ঘোড়া হতে পড়ে যান। কোন কোন সময় সুফিয়ান (রহঃ) হাদীস বর্ণনা করার সময় عن فرس শব্দের স্থলে من فرس শব্দ বলতেন। ফলে তাঁর ডান পাঁজর আহত হয়ে পড়ে। আমরা তাঁর শুশ্রূষা করার জন্য সেখানে গেলাম। এ সময় সালাতের ওয়াক্ত হলো। তিনি আমাদের নিয়ে বসে সালাত আদায় করলেন, আমরাও বসেই আদায় করলাম। সুফিয়ান (রহঃ) আর একবার বলেছেন, আমরা বসে সালাত আদায় করলাম। সালাতের পর নবী (ﷺ) বললেনঃ ইমাম নির্ধারণ করা হয় তাঁকে অনুসরণ করার জন্য। তিনি যখন তাকবির বলেন, তখন তোমরাও তাকবির বলবে, তিনি যখন রুকু করেন তখন তোমরাও রুকু করবে। তিনি যখন রুকু হতে উঠেন, তখন তোমরাও উঠবে, তিনি যখন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলেন, তখন তোমরা رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ বলবে। তিনি যখন সিজদা করেন, তখন তোমরাও সিজদা করবে। সুফিয়ান (রহঃ) বলেন, মামারও কি এরূপ বর্ণনা করেছেন? [আলী (রাঃ) বলেন] আমি বললাম হ্যাঁ। সুফিয়ান (রহঃ) বলেন, তিনি ঠিকই স্মরণ রেখেছেন, এরূপই যুহরী (রহঃ) وَلَكَ الْحَمْدُ বর্ণনা করেছেন। সুফিয়ান (রহঃ) বলেন, (যুহরীর কাছ হতে) ডান পাঁজর যখম হওয়ার কথা মুখস্ত করেছিলাম। কিন্তু যখন তাঁর কাছ হতে বেরিয়ে আসলাম, তখন ইবনু জুরাইয (রহঃ) বললেন, আমিও তাঁর নিকট ছিলাম। (তিনি বলেছেন) নবী (ﷺ) এর ডান পায়ের নলা যখম হয়েছিল।

সহীহ বুখারী হাদিস ৮০৫-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে জামাতে সালাতের শৃঙ্খলার একটি পরিষ্কার শিক্ষা আছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) ঘোড়া থেকে পড়ে আহত হন। সাহাবীরা তাঁকে দেখতে গেলে সালাতের সময় হয়। তিনি বসে সালাত আদায় করেন এবং সাহাবীরাও বসে সালাত আদায় করেন। সালাত শেষে তিনি বলেন, ইমাম নির্ধারণ করা হয় তাঁকে অনুসরণ করার জন্য। তাই ইমাম তাকবির বললে মুক্তাদিরাও তাকবির বলবে; ইমাম রুকু করলে তারাও রুকু করবে; ইমাম উঠলে তারাও উঠবে; ইমাম “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” বললে মুক্তাদিরা “রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ” বলবে; ইমাম সিজদা করলে তারাও সিজদা করবে। এই হাদিসে ইমামের অনুসরণ, জামাতে নামাজের আদব এবং সালাতে একসঙ্গে চলার শিক্ষা খুব সহজভাবে এসেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • জামাতে সালাতে ইমামকে অনুসরণ করা মূল নিয়ম।
  • ইমাম তাকবির বললে মুক্তাদিরা তাকবির বলবে।
  • ইমাম রুকু ও সিজদা করলে মুক্তাদিরা তার অনুসরণ করবে।
  • সালাতে শৃঙ্খলা রাখার জন্য ইমামের সঙ্গে মিল রেখে চলা দরকার।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন