৩/১৯. অধ্যায়ঃ
জ্ঞান অন্বেষণের উদ্দেশ্যে বের হওয়া।
وَرَحَلَ جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ مَسِيرَةَ شَهْرٍ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُنَيْسٍ فِي حَدِيثٍ وَاحِدٍ.জাবির ইবন ‘আবদুল্লাহ (রা.) একটি মাত্র হাদীসের জন্য ‘আবদুল্লাহ ইবন উনাইস (রা.)-এর নিকট এক মাসের পথ সফর করে গিয়েছিলেন।
মূসা খিজিরের হাদিস: জ্ঞান অন্বেষণ ও মাছের নিদর্শন
সহীহ বুখারী : ৭৮
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৭৮
حَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ، خَالِدُ بْنُ خَلِيٍّ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ قَالَ الأَوْزَاعِيُّ أَخْبَرَنَا الزُّهْرِيُّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ تَمَارَى هُوَ وَالْحُرُّ بْنُ قَيْسِ بْنِ حِصْنٍ الْفَزَارِيُّ فِي صَاحِبِ مُوسَى، فَمَرَّ بِهِمَا أُبَىُّ بْنُ كَعْبٍ، فَدَعَاهُ ابْنُ عَبَّاسٍ فَقَالَ إِنِّي تَمَارَيْتُ أَنَا وَصَاحِبِي هَذَا فِي صَاحِبِ مُوسَى الَّذِي سَأَلَ السَّبِيلَ إِلَى لُقِيِّهِ، هَلْ سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَذْكُرُ شَأْنَهُ فَقَالَ أُبَىٌّ نَعَمْ، سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَذْكُرُ شَأْنَهُ يَقُولُ " بَيْنَمَا مُوسَى فِي مَلإٍ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ، إِذْ جَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ أَتَعْلَمُ أَحَدًا أَعْلَمَ مِنْكَ قَالَ مُوسَى لاَ. فَأَوْحَى اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ إِلَى مُوسَى بَلَى، عَبْدُنَا خَضِرٌ، فَسَأَلَ السَّبِيلَ إِلَى لُقِيِّهِ، فَجَعَلَ اللَّهُ لَهُ الْحُوتَ آيَةً، وَقِيلَ لَهُ إِذَا فَقَدْتَ الْحُوتَ فَارْجِعْ، فَإِنَّكَ سَتَلْقَاهُ، فَكَانَ مُوسَى صلى الله عليه وسلم يَتَّبِعُ أَثَرَ الْحُوتِ فِي الْبَحْرِ. فَقَالَ فَتَى مُوسَى لِمُوسَى أَرَأَيْتَ إِذْ أَوَيْنَا إِلَى الصَّخْرَةِ فَإِنِّي نَسِيتُ الْحُوتَ، وَمَا أَنْسَانِيهِ إِلاَّ الشَّيْطَانُ أَنْ أَذْكُرَهُ. قَالَ مُوسَى ذَلِكَ مَا كُنَّا نَبْغِي. فَارْتَدَّا عَلَى آثَارِهِمَا قَصَصًا، فَوَجَدَا خَضِرًا، فَكَانَ مِنْ شَأْنِهِمَا مَا قَصَّ اللَّهُ فِي كِتَابِهِ
ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইবনু ’আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি এবং হুর ইবন কায়স ইবন হিসন আল-ফাযারীর মধ্যে মূসা (আঃ)-এর সম্পর্কে বাদানুবাদ হলো। ইবন আব্বাস (রাঃ) বললেন, তিনি ছিলেন খিজির। ঘটনাক্রমে তখন তাদের পাশ দিয়ে উবাই ইবন কা’ব (রাঃ) যাচ্ছিলেন। ইবন আব্বাস (রাঃ) তাঁকে ডাক দিয়ে বললেনঃ আমি ও আমার এ ভাই মূসা (আঃ)-এর সেই সহচর সম্পর্কে বাদানুবাদ করছি যাঁর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য মূসা (আঃ) আল্লাহর নিকট পথের সন্ধান চেয়েছিলেন। আপনি নবী (ﷺ)-কে তাঁর সম্পর্কে কিছু বলতে শুনেছেন কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি আল্লাহর রসূল (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, একদা মূসা (আঃ) বনি ইসরাইলের কোন এক মজলিসে উপস্থিত ছিলেন। তখন তাঁর নিকট জনৈক ব্যক্তি এসে বলল, ‘আপনি কাউকে আপনার চেয়ে অধিক জ্ঞানী বলে মনে করেন কি?’ মূসা (আঃ) বললেন, ‘না।’ তখন আল্লাহ তাআলা মূসা (আঃ)-এর নিকট ওহী প্রেরণ করলেন : ‘হ্যাঁ, আমার বান্দা খিজির।’ অতঃপর মূসা (আঃ) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য পথের সন্ধান চাইলেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা মাছকে তাঁর জন্য নিদর্শন বানিয়ে দিলেন এবং তাঁকে বলা হল, যখন তুমি মাছটি হারিয়ে ফেলবে তখন ফিরে যাবে। কারণ, কিছুক্ষণের মধ্যেই তুমি তাঁর সাথে মিলিত হবে। তখন তিনি সমুদ্রে সে মাছের নিদর্শন অনুসরণ করতে লাগলেন। মূসা (আঃ)-কে তাঁর সঙ্গী যুবক (ইউশা ইবন নুন) বললেন, (কুরআন মজিদের ভাষায়) আপনি কি লক্ষ্য করেছেন আমরা যখন পাথরের নিকট বিশ্রাম নিচ্ছিলাম তখন আমি মাছের কথা (বলতে) ভুলে গিয়েছিলাম। আর শয়তান তার কথা আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল’ মূসা (আঃ) বললেনঃ তো সেটিরই সন্ধান করছিলাম। অতঃপর তারা নিজেদের পদচিহ্ন অনুসরণ করে ফিরে চলল। (সূরা কাহ্ফ ১৮/৬৩-৬৪) তাঁরা খিজিরকে পেলেন। এ হল তাদের দু’জনের ঘটনা, যা আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে বিবৃত করেছেন।
আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৭৮
সহীহ বুখারী হাদিস ৭৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মূসা (আঃ) ও খিজিরের ঘটনা আরেকবার এসেছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) ও হুর ইবন কায়স মূসা (আঃ)-এর সহচর সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। উবাই ইবন কা’ব (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর বর্ণনা শুনিয়েছেন। মূসা (আঃ)-এর কাছে একজন জানতে চেয়েছিল, তাঁর চেয়ে বেশি জ্ঞানী কেউ আছেন কি না। তিনি না বললে আল্লাহ জানালেন, তাঁর বান্দা খিজির আছেন। মূসা (আঃ) তাঁর সাক্ষাতের পথ চান। মাছকে নিদর্শন করা হয়; মাছ হারালে ফিরে যেতে বলা হয়। যুবক সঙ্গী ভুলে যাওয়ার কথা বলেন, আর মূসা (আঃ) বলেন, সেটিই তো তাঁরা খুঁজছিলেন। এরপর তাঁরা পদচিহ্ন ধরে ফিরে খিজিরকে পান। “মূসা খিজিরের হাদিস” জ্ঞান অন্বেষণের বড় উদাহরণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জ্ঞান বিষয়ে মতভেদ হলে জানাশোনা ব্যক্তির কাছে জিজ্ঞেস করা যায়।
- মূসা (আঃ) খিজিরের সাক্ষাতের পথ চেয়েছিলেন।
- মাছ হারানো ছিল সাক্ষাতের জায়গার নিদর্শন।
- ভুলে যাওয়ার কথা সঙ্গী স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন।
