১০/১০৫. অধ্যায়ঃ
ফজরের সালাতে সশব্দে কিরাআত।
وَقَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ طُفْتُ وَرَاءَ النَّاسِ وَالنَّبِيُّ ﷺ يُصَلِّي وَيَقْرَأُ بِـ ﴿الطُّورِ﴾.উম্মু সালামা (রা.) বলেন, আমি লোকদের পিছনে তাওয়াফ করছিলাম। নবী (ﷺ) তখন সালাত আদায় করছিলেন এবং সূরা তূর পাঠ করছিলেন।"
কিরাআত ও নীরবতায় রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর আদর্শ অনুসরণ
সহিহ বুখারী : ৭৭৪
সহিহ বুখারীহাদিস নম্বর ৭৭৪
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَرَأَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِيمَا أُمِرَ، وَسَكَتَ فِيمَا أُمِرَ {وَمَا كَانَ رَبُّكَ نَسِيًّا} {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ}.
ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) যেখানে কিরাআত পাঠের জন্য আদেশ পেয়েছেন, সেখানে পড়েছেন। আর যেখানে চুপ থাকতে আদেশ পেয়েছেন সেখানে চুপ থেকেছেন [২]। (আল্লাহ তা‘আলার বাণী): “তোমার প্রতিপালক ভুল করেন না”-(সূরা মারইয়াম ১৯/৬৪)। “নিশ্চয় তোমাদের জন্য আল্লাহর রসূল-এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।” (সূরা আল-আহযাব ৩৩/২১)।
(আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুচ্ছেদ পৃষ্ঠা ৩৩৬,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ অনুচ্ছেদ ৪৯৮ )[১] অর্থাৎ সশব্দে পড়ার।[২] নিঃশব্দে পড়ার।
সহিহ বুখারী হাদিস ৭৭৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো নবী صلى الله عليه وسلم-এর অনুসরণ। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, নবী صلى الله عليه وسلم যেখানে কিরাআত পাঠের আদেশ পেয়েছেন, সেখানে পড়েছেন। আর যেখানে চুপ থাকতে আদেশ পেয়েছেন, সেখানে চুপ থেকেছেন। এরপর দুটি আয়াতের অর্থ উল্লেখ করা হয়েছে: আল্লাহ ভুল করেন না এবং আল্লাহর রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে। তাই হাদিসটি সালাতে কিরাআত ও নীরবতার বিষয়ে নিজের ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত না নিয়ে নবী صلى الله عليه وسلم-এর পথ অনুসরণ করতে শেখায়। এখানে বিস্তারিত বিধান নয়, বরং মূল নীতি এসেছে—যেখানে পাঠের নির্দেশ, সেখানে পাঠ; যেখানে নীরবতার নির্দেশ, সেখানে নীরবতা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী পড়েছেন ও নীরব থেকেছেন।
- সালাতে কিরাআত ও নীরবতার ক্ষেত্রে নবী صلى الله عليه وسلم আদর্শ।
- আল্লাহর নির্দেশে কোনো ভুল নেই—এই বিশ্বাস জরুরি।
- ইবাদতে নিজের পছন্দের আগে রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর অনুসরণকে রাখা উচিত।
