১০/৯৫. অধ্যায়ঃ
সব সালাতেই ইমাম ও মুক্তাদীর কিরাআত পড়া জরুরি, মুকীম অবস্থায় হোক বা সফরে, সশব্দে কিরাআতের সালাত হোক বা নিঃশব্দে সব সালাতেই ইমাম ও মুক্তাদীর কিরাআত পড়া জরুরি
সূরা ফাতিহা: সালাতের অপরিহার্য কিরাআত
সহিহ বুখারী : ৭৫৬
সহিহ বুখারীহাদিস নম্বর ৭৫৬
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ الرَّبِيعِ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ ".
‘উবাদাহ ইব্নু সমিত (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সালাতে সূরা আল-ফাতিহা পড়ল না তার সালাত হলো না। [১]
[১] আমাদের দেশের হানাফী ভাইয়েরা ইমামের পেছনে সূরা আল-ফাতিহা পাঠ করেন না, এটা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ‘আমলের বিপরীত। ইমামের পিছনে মুক্তাদীকে অবশ্যই সূরা আল-ফাতিহা পাঠ করতে হবে। মুক্তাদী ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা না পড়লে তার সালাত, সালাত বলে গণ্য হবে না ।বুখারীর অন্য বর্ণনায় জুযউল ক্বিরাআতের মধ্যে আছে- ‘আমর্ বিন শুয়াইব তাঁর পিতা হতে, তাঁর পিতা তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করে বলেছেন যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন তোমরা কি আমার পেছনে কিছু পড়ে থাক? তাঁরা বললেন, হাঁ আমরা খুব তাড়াহুড়া করে পাঠ করে থাকি। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন তোমরা উম্মুল কুরআন অর্থাৎ সূরা ফাতিহা ব্যতিত কিছুই পড়বে না। (বুখারী ১ম ১০৪ পৃষ্ঠা। জুযউল কিরায়াত। মুসলিম ১৬৯, ১৭০ পৃষ্ঠা। আবূ দাউদ ১০১ পৃষ্ঠা। তিরমিযী ১ম খণ্ড ৫৭, ৭১ পৃষ্ঠা। নাসাঈ ১৪৬ পৃষ্ঠা। ইব্নু মাজাহ ৬১ পৃষ্ঠা। মুয়াত্তা মুহাম্মাদ ৯৫ পৃষ্ঠা। মুয়াত্তা মালিক ১০৬ পৃষ্ঠা। সহীহ ইব্নু খুযায়মাহ ১ম খণ্ড ২৪৭ পৃষ্ঠা। মুসলিম ইসলামিক ফাউন্ডেশন হাদীস নং ৭৫৮-৭৬৭ ও ৮২০-৮২৪। হাদীস শরীফ, মাওঃ আবদুর রহীম, ২য় খণ্ড ১৯৩-১৯৬ পৃষ্ঠা, ইসলামিয়াত বি-এ, হাদীস পর্ব ১৪৪-১৬১ পৃষ্ঠা। হিদায়াহ দিরায়াহ ১০৬ পৃষ্ঠা। মেশকাত ৭৮ পৃষ্ঠা। বুখারী আযীযুল হক ১ম হাদীস নং ৪৪১। বুখারী- আধুনিক প্রকাশনী ১ম খণ্ড হাদীস নং ৭১২। বুখারী-ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২য় খণ্ড হাদীস নং ৭১৮। তিরমিযী- ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১ম খণ্ড হাদীস নং ২৪৭। মিশকাত- নূর মোহাম্মদ আযমী ২য় খণ্ড ও মাদ্রাসা পাঠ্য হাদীস নং ৭৬৫, ৭৬৬, ৭৯৪। বুলূগুল মারাম ৮৩ পৃষ্ঠা। কিমিয়ায়ে সায়াদাত ১ম খণ্ড ২০৪ পৃষ্ঠা ।)
সহিহ বুখারী হাদিস ৭৫৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) খুব পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন, যে ব্যক্তি সালাতে সূরা আল-ফাতিহা পড়ল না, তার সালাত হলো না। হাদিসটি ছোট, কিন্তু এর শিক্ষা অত্যন্ত সরাসরি। সালাতে কিরাআতের মধ্যে সূরা ফাতিহা বিশেষ স্থান রাখে। এখানে কোনো দীর্ঘ ব্যাখ্যা নেই, কোনো গল্প নেই; বরং সরাসরি একটি নির্দেশমূলক কথা আছে। তাই একজন মুসলিম যখন নামাজ শেখে, তখন সূরা ফাতিহা শুদ্ধভাবে শেখা ও সালাতে পড়ার বিষয়ে যত্নবান হওয়া দরকার। এই হাদিসের মূল বিষয় হলো সূরা ফাতিহা ও সালাত। নামাজের গঠন শুধু দাঁড়ানো, রুকু ও সিজদা নয়; কুরআন পাঠও তার অংশ। বিশেষ করে ফাতিহা ছাড়া সালাত না হওয়ার কথা হাদিসে স্পষ্ট এসেছে। তাই সালাতের কিরাআতকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতে সূরা ফাতিহা পড়ার গুরুত্ব সরাসরি বলা হয়েছে।
- নামাজ শেখার সময় ফাতিহা শুদ্ধভাবে শেখা দরকার।
- সালাতের কিরাআতকে অবহেলা করা ঠিক নয়।
