১০/৮০. অধ্যায়ঃ
ইমাম ও মুক্তাদীর মধ্যে দেয়াল বা সুতরা থাকলে।
وَقَالَ الْحَسَنُ لَا بَأْسَ أَنْ تُصَلِّيَ وَبَيْنَكَ وَبَيْنَهُ نَهْرٌ وَقَالَ أَبُو مِجْلَزٍ يَأْتَمُّ بِالْإِمَامِ وَإِنْ كَانَ بَيْنَهُمَا طَرِيقٌ أَوْ جِدَارٌ إِذَا سَمِعَ تَكْبِيرَ الْإِمَامِ.হাসান (রহ.) বলেন, তোমার ও ইমামের মধ্যে নহর থাকলেও ইকতিদা করতে অসুবিধা নেই। আবূ মিজলায (রহ.) বলেন, যদি ইমামের তাকবীর শোনা যায় তাহলে ইমাম ও মুক্তাদীর মধ্যে রাস্তা বা দেয়াল থাকলেও ইকতিদা করা যায়।"
রাতের সালাত ও উম্মতের প্রতি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর মমতা
সহীহ বুখারী : ৭২৯
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৭২৯
حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ فِي حُجْرَتِهِ، وَجِدَارُ الْحُجْرَةِ قَصِيرٌ، فَرَأَى النَّاسُ شَخْصَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَامَ أُنَاسٌ يُصَلُّونَ بِصَلاَتِهِ، فَأَصْبَحُوا فَتَحَدَّثُوا بِذَلِكَ، فَقَامَ لَيْلَةَ الثَّانِيَةِ، فَقَامَ مَعَهُ أُنَاسٌ يُصَلُّونَ بِصَلاَتِهِ، صَنَعُوا ذَلِكَ لَيْلَتَيْنِ أَوْ ثَلاَثَةً، حَتَّى إِذَا كَانَ بَعْدَ ذَلِكَ جَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يَخْرُجْ، فَلَمَّا أَصْبَحَ ذَكَرَ ذَلِكَ النَّاسُ فَقَالَ " إِنِّي خَشِيتُ أَنْ تُكْتَبَ عَلَيْكُمْ صَلاَةُ اللَّيْلِ ".
‘আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রসূল (ﷺ) রাতের সালাত তাঁর নিজ কামরায় আদায় করতেন। কামরার দেওয়ালটি ছিল নিচু। ফলে একদা সাহাবীগণ নবী (ﷺ)-এর শরীর দেখতে পেলেন এবং (দেয়ালের অন্য পাশে) সাহাবীগণ দাঁড়িয়ে তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করলেন। সকালে তাঁরা এ কথা বলাবলি করছিলেন।দ্বিতীয় রাতে তিনি (সালাতে) দাঁড়ালেন। সাহাবীগণ দাঁড়িয়ে তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করলেন। দুই বা তিন রাত তাঁরা এরূপ করলেন। এরপরে (রাতে) আল্লাহর রসূল (ﷺ) বসে থাকলেন, আর বের হলেন না। ভোরে সাহাবীগণ এ বিষয়ে আলোচনা করলেন। তখন তিনি বললেনঃ আমার আশঙ্কা হচ্ছিল যে, রাতের সালাত তোমাদের উপর ফরজ করে দেয়া হতে পারে।
সহীহ বুখারী হাদিস ৭২৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দেখা যায়, নবী (صلى الله عليه وسلم) রাতে নিজের কামরায় সালাত আদায় করতেন। কামরার দেয়াল নিচু হওয়ায় সাহাবীরা তাঁকে দেখতে পান এবং তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করতে দাঁড়ান। দুই বা তিন রাত এমন হলো। এরপর নবী (صلى الله عليه وسلم) বের হলেন না। সকালে বিষয়টি আলোচনা হলে তিনি বললেন, তাঁর আশঙ্কা ছিল রাতের সালাত তাদের উপর ফরজ করে দেওয়া হতে পারে। এই হাদিসে রাতের সালাতের প্রতি সাহাবীদের আগ্রহ যেমন দেখা যায়, তেমনি উম্মতের জন্য নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কোমল চিন্তাও বোঝা যায়। তিনি এমন আমল চালু রাখতে চাননি যা পরে উম্মতের জন্য ভারী হয়ে যেতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাহাবীরা রাতের সালাতে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর অনুসরণে আগ্রহী ছিলেন।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) উম্মতের কষ্টের আশঙ্কা করতেন।
- রাতের সালাত মূল্যবান আমল, তবে হাদিসে ফরজ হওয়ার আশঙ্কার কথা এসেছে।
- ধর্মীয় আমলে মানুষের সামর্থ্যের দিকও গুরুত্ব পায়।
