১০/৪১. অধ্যায়ঃ

যারা উপস্থিত হয়েছে তাদের নিয়েই কি সালাত আদায় করবে এবং বৃষ্টির দিনে কি জুমুয়ার খুতবা পড়বে?

কাদা-বৃষ্টিতে ঘরে সালাত: মানুষের কষ্ট কমানোর শিক্ষা

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৬৬৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ، صَاحِبُ الزِّيَادِيِّ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الْحَارِثِ، قَالَ خَطَبَنَا ابْنُ عَبَّاسٍ فِي يَوْمٍ ذِي رَدْغٍ، فَأَمَرَ الْمُؤَذِّنَ لَمَّا بَلَغَ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ‏.‏ قَالَ قُلِ الصَّلاَةُ فِي الرِّحَالِ، فَنَظَرَ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ، فَكَأَنَّهُمْ أَنْكَرُوا فَقَالَ كَأَنَّكُمْ أَنْكَرْتُمْ هَذَا إِنَّ هَذَا فَعَلَهُ مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنِّي ـ يَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ـ إِنَّهَا عَزْمَةٌ، وَإِنِّي كَرِهْتُ أَنْ أُحْرِجَكُمْ‏.‏ وَعَنْ حَمَّادٍ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ نَحْوَهُ، غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ كَرِهْتُ أَنْ أُؤَثِّمَكُمْ، فَتَجِيئُونَ تَدُوسُونَ الطِّينَ إِلَى رُكَبِكُمْ‏.‏

‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু হারিস (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

এক ঝড়-বৃষ্টির দিনে ইবনু আব্বাস (রাঃ) আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিচ্ছিলেন। মুয়াজ্জিন যখন حَيَّ عَلَى الصَّلاَةِ পর্যন্ত পৌঁছল, তখন তিনি তাকে বললেন, ঘোষণা করে দাও যে, “সালাত যার যার আবাসস্থলে।” এ শুনে লোকেরা একে অন্যের দিকে তাকাতে লাগলো- যেন তারা বিষয়টাকে অপছন্দ করলো। তিনি তাদের লক্ষ্য করে বললেন, মনে হয় তোমরা বিষয়টি অপছন্দ করছ। তবে, আমার চেয়ে যিনি উত্তম ছিলেন অর্থাৎ আল্লাহর রসূল (ﷺ) তিনিই এরূপ করেছেন। একথা সত্য যে, জুম্মার সালাত ওয়াজিব। তবে তোমাদের অসুবিধায় ফেলা আমি পছন্দ করি না। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও অনুরূপ বর্ণিত আছে। তবে এ সূত্রে এমন উল্লেখ আছে, আমি তোমাদের গুনাহর অভিযোগে ফেলতে পছন্দ করি না যে, তোমরা হাঁটু পর্যন্ত কাদা মাড়িয়ে আসবে।

সহীহ বুখারী হাদিস ৬৬৮-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর একটি ঘটনা এসেছে। ঝড়-বৃষ্টির দিনে তিনি খুতবা দিচ্ছিলেন। মুয়াজ্জিন যখন “হাইয়া আলাস সালাহ” পর্যন্ত পৌঁছল, তখন তিনি তাকে বললেন, ঘোষণা করে দাও যে সালাত যার যার আবাসস্থলে। লোকেরা বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে করলে তিনি ব্যাখ্যা করলেন, তাঁর চেয়ে উত্তম যিনি—অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)—তিনিও এমন করেছেন। তিনি আরও বলেন, জুমার সালাত ওয়াজিব, তবে তিনি লোকদের কষ্টে ফেলতে চান না। অন্য বর্ণনায় হাঁটু পর্যন্ত কাদা মাড়িয়ে আসার কষ্টের কথা এসেছে। এই হাদিসে জামাআত ও জুমার গুরুত্ব অস্বীকার করা হয়নি; বরং প্রবল কাদা-বৃষ্টি ও কষ্টের অবস্থায় সহজতার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কাদা-বৃষ্টির কষ্টে মানুষের ওপর অযথা চাপ দেওয়া উচিত নয়।
  • জুমার গুরুত্ব থাকলেও বাস্তব অসুবিধা বিবেচনা করা হয়েছে।
  • মুয়াজ্জিন পরিস্থিতি অনুযায়ী ঘোষণা দিতে পারেন।
  • রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর আমলকে সাহাবীরা দিকনির্দেশনা হিসেবে গ্রহণ করতেন।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন