১০/৩৪. অধ্যায়ঃ
ইশার সালাত জামাআতে আদায় করার ফজিলত।
ফজর ও ইশা জামাআত: মুনাফিকদের জন্য ভারী সালাতের হাদিস
সহীহ বুখারী : ৬৫৭
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৬৫৭
حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ صَلاَةٌ أَثْقَلَ عَلَى الْمُنَافِقِينَ مِنَ الْفَجْرِ وَالْعِشَاءِ، وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا، لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ الْمُؤَذِّنَ فَيُقِيمَ، ثُمَّ آمُرَ رَجُلاً يَؤُمُّ النَّاسَ، ثُمَّ آخُذَ شُعَلاً مِنْ نَارٍ فَأُحَرِّقَ عَلَى مَنْ لاَ يَخْرُجُ إِلَى الصَّلاَةِ بَعْدُ ".
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ মুনাফিকদের জন্য ফজর ও ইশা সালাত অপেক্ষা অধিক ভারী সালাত আর নেই। এ দুই সালাতের কী ফজিলত, তা যদি তারা জানত, তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা উপস্থিত হতো। (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন) আমি ইচ্ছে করেছিলাম যে, মুয়াজ্জিনকে ইকামত দিতে বলি এবং কাউকে লোকদের ইমামত করতে বলি, আর আমি নিজে একটি আগুনের মশাল নিয়ে গিয়ে অতঃপর যারা সালাতে আসেনি, তাদের উপর আগুন ধরিয়ে দেই।
সহীহ বুখারী হাদিস ৬৫৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, মুনাফিকদের জন্য ফজর ও ইশা সালাতের চেয়ে ভারী সালাত আর নেই। তিনি আরও বলেন, তারা যদি এ দুই সালাতের ফজিলত জানত, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও উপস্থিত হতো। এরপর তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, তাঁর ইচ্ছে হয়েছিল মুয়াজ্জিনকে ইকামত দিতে বলেন, একজনকে ইমামত করতে বলেন, আর তিনি আগুনের মশাল নিয়ে যারা সালাতে আসে না তাদের ওপর আগুন ধরিয়ে দেন। এই বর্ণনা ফজর ও ইশা জামাআতের গুরুত্ব খুব স্পষ্টভাবে দেখায়। তবে ব্যাখ্যায় এটিকে হাদিসের সতর্ক ভাষা হিসেবেই রাখা উচিত। মূল শিক্ষা হলো, ফজর ও ইশা সালাতকে হালকা করে দেখা বিপজ্জনক মনোভাবের লক্ষণ হতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফজর ও ইশা সালাত মুনাফিকদের জন্য ভারী বলা হয়েছে।
- এ দুই সালাতের ফজিলত জানলে উপস্থিত হওয়ার আগ্রহ বাড়ত—হাদিসে তা এসেছে।
- জামাআতে অনুপস্থিতির ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
- ফজর ও ইশা সালাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
