৩/৬. অধ্যায়ঃ
হাদিস অধ্যয়ন ও মুহাদ্দিসের নিকট বর্ণনা করা
الْقِرَاءَةُ وَالْعَرْضُ عَلَى الْمُحَدِّثِ وَرَأَى الْحَسَنُ وَالثَّوْرِيُّ وَمَالِكٌ الْقِرَاءَةَ جَائِزَةً وَاحْتَجَّ بَعْضُهُمْ فِي الْقِرَاءَةِ عَلَى الْعَالِمِ بِحَدِيثِ ضِمَامِ بْنِ ثَعْلَبَةَ قَالَ لِلنَّبِيِّ ﷺ اللَّهُ أَمَرَكَ أَنْ نُصَلِّيَ الصَّلَوَاتِ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَهَذِهِ قِرَاءَةٌ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ أَخْبَرَ ضِمَامٌ قَوْمَهُ بِذَلِكَ فَأَجَازُوهُ وَاحْتَجَّ مَالِكٌ بِالصَّكِّ يُقْرَأُ عَلَى الْقَوْمِ فَيَقُولُونَ أَشْهَدَنَا فُلَانٌ وَيُقْرَأُ ذَلِكَ قِرَاءَةً عَلَيْهِمْ وَيُقْرَأُ عَلَى الْمُقْرِئِ فَيَقُولُ الْقَارِئُ أَقْرَأَنِي فُلَانٌ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَامٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ الْوَاسِطِيُّ عَنْ عَوْفٍ عَنِ الْحَسَنِ قَالَ لَا بَأْسَ بِالْقِرَاءَةِ عَلَى الْعَالِمِ وَأَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ الْفِرَبْرِيُّوَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ سُفْيَانَ قَالَ إِذَا قُرِئَ عَلَى الْمُحَدِّثِ فَلَا بَأْسَ أَنْ يَقُولَ حَدَّثَنِي قَالَ وَسَمِعْتُ أَبَا عَاصِمٍ يَقُولُ عَنْ مَالِكٍ وَسُفْيَانَ الْقِرَاءَةُ عَلَى الْعَالِمِ وَقِرَاءَتُهُ سَوَاءٌ.হাসান (বাসরী), সুফইয়ান সাওরী এবং মালিক (রহ.)-এর মতে মুহাদ্দিসের সম্মুখে পাঠ করা বৈধ। কতিপয় মুহাদ্দিস উস্তাদের সামনে পাঠ করার স্বপক্ষে যিমাম ইবন সা‘লাবা (রা.)-এর হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে বলেছিলেন, ‘আমাদের পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করার সম্বন্ধে আল্লাহ আপনাকে কী নির্দেশ দিয়েছেন?’ তিনি বললেন: ‘হ্যাঁ’। রাবী বলেন, এগুলো আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর সম্মুখে পাঠ করা। যিমাম (রা.) তাঁর গোত্রের নিকট এ নির্দেশগুলো অবগত করেন এবং তাঁরা তা গ্রহণ করেন। (ইমাম) মালিক (রহ.) তাঁর মতের সমর্থনে লিখিত দলীলকে প্রমাণ হিসেবে বর্ণনা করেন, যা লোকদের সামনে পাঠ করা হলে তারা বলে, ‘অমুক আমাদের সাক্ষী বানিয়েছেন।’ শিক্ষকের সামনে পাঠ করে পাঠক বলে, ‘অমুক আমাকে পড়িয়েছেন।’হাসান বাসরী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, শিক্ষকের সামনে শিষ্যদের পাঠ করাতে কোনো দ্বিধা নেই। ‘উবায়দুল্লাহ ইবন মূসা (রহ.) সুফইয়ান (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, যখন মুহাদ্দিসের সম্মুখে (কোনো হাদীস) পাঠ করা হয় তখন হাদ্দাসানী (তিনি আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন) বলায় কোনো আপত্তি নেই। বর্ণনাকারী বলেন, আমি আবূ ‘আসিমকে মালিক ও সুফইয়ান (রহ.) হতে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, ‘শিক্ষকের সামনে পাঠ করা এবং শিক্ষকের নিজে পাঠ করা একই পর্যায়ভুক্ত।’
যিমাম ইবন সা’লাবার হাদিস: ঈমান, সালাত, সিয়াম ও যাকাতের শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৬৩
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৬৩
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ سَعِيدٍ ـ هُوَ الْمَقْبُرِيُّ ـ عَنْ شَرِيكِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي نَمِرٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ بَيْنَمَا نَحْنُ جُلُوسٌ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَسْجِدِ، دَخَلَ رَجُلٌ عَلَى جَمَلٍ فَأَنَاخَهُ فِي الْمَسْجِدِ، ثُمَّ عَقَلَهُ، ثُمَّ قَالَ لَهُمْ أَيُّكُمْ مُحَمَّدٌ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مُتَّكِئٌ بَيْنَ ظَهْرَانَيْهِمْ. فَقُلْنَا هَذَا الرَّجُلُ الأَبْيَضُ الْمُتَّكِئُ. فَقَالَ لَهُ الرَّجُلُ ابْنَ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " قَدْ أَجَبْتُكَ ". فَقَالَ الرَّجُلُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِنِّي سَائِلُكَ فَمُشَدِّدٌ عَلَيْكَ فِي الْمَسْأَلَةِ فَلاَ تَجِدْ عَلَىَّ فِي نَفْسِكَ. فَقَالَ " سَلْ عَمَّا بَدَا لَكَ ". فَقَالَ أَسْأَلُكَ بِرَبِّكَ وَرَبِّ مَنْ قَبْلَكَ، آللَّهُ أَرْسَلَكَ إِلَى النَّاسِ كُلِّهِمْ فَقَالَ " اللَّهُمَّ نَعَمْ ". قَالَ أَنْشُدُكَ بِاللَّهِ، آللَّهُ أَمَرَكَ أَنْ نُصَلِّيَ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ قَالَ " اللَّهُمَّ نَعَمْ ". قَالَ أَنْشُدُكَ بِاللَّهِ، آللَّهُ أَمَرَكَ أَنْ نَصُومَ هَذَا الشَّهْرَ مِنَ السَّنَةِ قَالَ " اللَّهُمَّ نَعَمْ ". قَالَ أَنْشُدُكَ بِاللَّهِ، آللَّهُ أَمَرَكَ أَنْ تَأْخُذَ هَذِهِ الصَّدَقَةَ مِنْ أَغْنِيَائِنَا فَتَقْسِمَهَا عَلَى فُقَرَائِنَا فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " اللَّهُمَّ نَعَمْ ". فَقَالَ الرَّجُلُ آمَنْتُ بِمَا جِئْتَ بِهِ، وَأَنَا رَسُولُ مَنْ وَرَائِي مِنْ قَوْمِي، وَأَنَا ضِمَامُ بْنُ ثَعْلَبَةَ أَخُو بَنِي سَعْدِ بْنِ بَكْرٍ. رَوَاهُ مُوسَى وَعَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا.
আনাস ইব্নু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা আমরা মসজিদে আল্লাহর রসূল (ﷺ)-এর সাথে উপবিষ্ট ছিলাম। তখন জনৈক ব্যক্তি সওয়ার অবস্থায় প্রবেশ করল। মসজিদে (প্রাঙ্গণে) সে তার উটটি বসিয়ে (বেঁধে) দিল। অতঃপর সাহাবীদের লক্ষ্য করে বলল, 'তোমাদের মধ্যে মুহাম্মাদ (ﷺ) কোন ব্যক্তি?' আল্লাহর রসূল (ﷺ) তখন তাদের সামনেই হেলান দিয়ে উপবিষ্ট ছিলেন। আমরা বললাম, 'এই হেলান দিয়ে উপবিষ্ট ফর্সা ব্যক্তিটিই হলেন তিনি।'অতঃপর লোকটি তাঁকে লক্ষ্য করে বলল, 'হে আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র!' নবী (ﷺ) তাকে বললেন: 'আমি তোমার উত্তর দিচ্ছি?' লোকটি বলল, 'আমি আপনাকে কিছু জিজ্ঞেস করব এবং সে প্রশ্ন করার ব্যাপারে কঠোর হব, এতে আপনি আমার প্রতি অসন্তুষ্ট হবেন না।' 'তিনি বললেন, 'তোমার যা মনে চায় জিজ্ঞেস কর।'সে বলল, 'আমি আপনাকে স্বীয় প্রতিপালক এবং আপনার পূর্ববর্তীদের প্রতিপালকের শপথ দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, আল্লাহ কি আপনাকে সমগ্র মানবকুলের প্রতি রসূলরূপে প্রেরণ করেছেন?' তিনি বললেন: 'আল্লাহ সাক্ষী, হ্যাঁ।' সে বলল, 'আমি আপনাকে আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি, আল্লাহই কি আপনাকে দিনে রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়ের আদেশ দিয়েছেন?' তিনি বললেন: 'আল্লাহ সাক্ষী, হ্যাঁ।' সে বলল, 'আমি আপনাকে আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি, আল্লাহই কি আপনাকে বছরের এ মাসে (রমজান) সিয়াম পালনের আদেশ দিয়েছেন?' তিনি বললেন: 'আল্লাহ সাক্ষী, হ্যাঁ।' সে বলল, 'আমি আপনাকে আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি, আল্লাহই কি আপনাকে আদেশ দিয়েছেন, আমাদের ধনীদের থেকে এসব সদকা (যাকাত) আদায় করে দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করে দিতে?' নবী (ﷺ) বললেন: 'আল্লাহ সাক্ষী, হ্যাঁ।'অতঃপর লোকটি বলল, 'আমি বিশ্বাস স্থাপন করলাম আপনি যা (যে শরীয়ত) এনেছেন তার উপর। আর আমি আমার গোত্রের রেখে আসা লোকজনের পক্ষে প্রতিনিধি, আমার নাম যিমাম ইবন সা'লাবা, বনী সা'দ ইবন বকর গোত্রের একজন।'মূসা ও আলী ইবন আবদুল হামিদ (রহঃ).....আনাস (রাঃ) নবী (ﷺ) হতে এরূপ বর্ণনা করেছেন।
আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৬২
সহীহ বুখারী হাদিস ৬৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে যিমাম ইবন সা’লাবা (রাঃ)-এর প্রশ্ন করার ঘটনা এসেছে। তিনি মসজিদে এসে প্রথমে জানতে চাইলেন, তাঁদের মধ্যে মুহাম্মাদ (صلى الله عليه وسلم) কে। এরপর তিনি সরাসরি ও শক্তভাবে কয়েকটি প্রশ্ন করলেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে প্রশ্নের সুযোগ দিলেন এবং অসন্তুষ্ট হলেন না। প্রশ্নগুলো ছিল রিসালাত, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, রমজানের সিয়াম এবং ধনীদের থেকে সদকা নিয়ে দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করা সম্পর্কে। প্রতিটি প্রশ্নে নবী (صلى الله عليه وسلم) “আল্লাহ সাক্ষী, হ্যাঁ” বলে উত্তর দিলেন। এরপর তিনি ঈমান গ্রহণের কথা জানালেন এবং বললেন, তিনি নিজের গোত্রের প্রতিনিধি। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, মৌলিক ফরজ বিষয়ে পরিষ্কার জ্ঞান নেওয়া জরুরি। “পাঁচ ওয়াক্ত সালাত হাদিস”, “রমজানের সিয়াম” এবং “যাকাত বণ্টন” এখানে একই ধারায় এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দ্বীনের মূল বিষয় জানতে প্রশ্ন করা যায়।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) কঠিন প্রশ্নের জবাবও ধৈর্যসহকারে দিয়েছেন।
- সালাত, সিয়াম ও যাকাত ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে এসেছে।
- জেনে-বুঝে ঈমানের ঘোষণা দেওয়া প্রশংসনীয়।
