২/৪২. অধ্যায়ঃ
আমলসমূহ সংকল্প ও পুণ্যের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী, প্রতিটি ব্যক্তির প্রাপ্য তার সংকল্প অনুযায়ী।
فَدَخَلَ فِيهِ الْإِيمَانُ وَالْوُضُوءُ وَالصَّلَاةُ وَالزَّكَاةُ وَالْحَجُّ وَالصَّوْمُ وَالْأَحْكَامُ وَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى ﴾قُلْ كُلٌّ يَعْمَلُ عَلَى شَاكِلَتِهِ﴿ عَلَى نِيَّتِهِ نَفَقَةُ الرَّجُلِ عَلَى أَهْلِهِ يَحْتَسِبُهَا صَدَقَةٌ وَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ وَلَكِنْ جِهَادٌ وَنِيَّةٌ.কাজেই ঈমান, ওযু, সালাত, যাকাত, হজ্জ, সিয়াম এবং অন্যান্য বিধানসমূহ সবই এর শামিল। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “বলুন প্রত্যেকেই আপন স্বভাব অনুসারে কর্ম সম্পাদন করে থাকে।” (সূরা আল-ইসরা ১৭/৮৪) অর্থাৎ সংকল্প অনুসারে। মানুষ তার পরিবারবর্গের জন্য পুণ্যের আশায় যা ব্যয় করে, তা সাদাকা। নবী (ﷺ) বলেছেন, (এখন মক্কা হতে হিজরত নেই) তবে কেবল জিহাদ ও নিয়্যত অবশিষ্ট রয়েছে।
নিয়তের গুরুত্ব: আমল নিয়ত অনুযায়ী গণ্য হয়
সহিহ বুখারী : ৫৪
সহিহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫৪
عَبْدُ اللهِ بْنُ مَسْلَمَةَ قَالَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَقَّاصٍ عَنْ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّةِ وَلِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللهِ وَرَسُولِهِ فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللهِ وَرَسُولِهِ وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ لدُنْيَا يُصِيبُهَا أَوْ امْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُهَا فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ.>
‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রসূল (ﷺ) বলেছেন: কর্মসমূহ সংকল্পের সাথে সম্পৃক্ত এবং প্রতিটি মানুষের প্রাপ্য তার সংকল্প অনুযায়ী। কাজেই যার হিজরত হবে আল্লাহ ও তদীয় রসূলের উদ্দেশ্যে, তার হিজরত আল্লাহ ও তদীয় রসূলের উদ্দেশ্যে হয়েছে বলেই ধরা হবে। আর যার হিজরত হয় দুনিয়া অর্জনের জন্য বা কোন নারীকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে, তার হিজরত সে উদ্দেশ্যেই হবে যে উদ্দেশ্যে সে হিজরত করেছে।
(১; মুসলিম ৩৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৫২)
সহিহ বুখারী হাদিস ৫৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় নিয়ত। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কাজগুলো নিয়তের সঙ্গে যুক্ত এবং মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ীই পায়। এরপর তিনি হিজরতের উদাহরণ দিলেন। যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে, তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত দুনিয়া লাভের জন্য বা কোনো নারীকে বিয়ে করার জন্য, তার হিজরত সে উদ্দেশ্যেই হবে। এই হাদিস আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে বদলে দিতে পারে। একই কাজ বাহ্যিকভাবে ভালো দেখাতে পারে, কিন্তু নিয়ত ভিন্ন হলে তার মূল্যও ভিন্ন হতে পারে। তাই ইবাদত, দান, পড়াশোনা, কাজ, পরিবার দেখাশোনা—সব ক্ষেত্রে নিজের অন্তরের উদ্দেশ্য যাচাই করা দরকার। তাই বাহ্যিক কাজের আগে অন্তরের লক্ষ্য ঠিক করা খুব দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আমলের মূল্য নিয়তের সঙ্গে জড়িত।
- আল্লাহর জন্য করা কাজের উদ্দেশ্য পরিষ্কার হওয়া দরকার।
- দুনিয়ার উদ্দেশ্য থাকলে কাজ সেই হিসাবেই গণ্য হতে পারে।
- নিজের নিয়ত বারবার ঠিক করা মুমিনের কাজ।
