৬৮/১২. অধ্যায়ঃ

খুলার বর্ণনা এবং তালাক হওয়ার নিয়ম।

وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى : ﴿وَلَا يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَأْخُذُوا مِمَّا ءَاتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئًا إِلَّا أَنْ يَخَافَا أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ﴾ إِلَى قَوْلِهِ ﴿الظَّالِمُونَ﴾ وَأَجَازَ عُمَرُ الْخُلْعَ دُونَ السُّلْطَانِ وَأَجَازَ عُثْمَانُ الْخُلْعَ دُونَ عِقَاصِ رَأْسِهَا وَقَالَ طَاوُسٌ إِلَّا أَنْ يَخَافَا أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فِيمَا افْتَرَضَ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا عَلَى صَاحِبِهِ فِي الْعِشْرَةِ وَالصُّحْبَةِ وَلَمْ يَقُلْ قَوْلَ السُّفَهَاءِ لَا يَحِلُّ حَتَّى تَقُولَ لَا أَغْتَسِلُ لَكَ مِنْ جَنَابَةٍ.মহান আল্লাহর বাণী: “তোমাদের পক্ষে তাদেরকে দেয়া মালের কিছুই ফিরিয়ে নেয়া জায়িয হবে না, কিন্তু যদি তারা উভয়ে আশঙ্কা করে যে তারা আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা রক্ষা করে চলতে পারবে না (তাহলে অন্য ব্যবস্থা)। অতঃপর যদি তোমরা (উভয় পক্ষের শালিসগণ) আশঙ্কা কর যে উভয়পক্ষ আল্লাহর আইনসমূহ ঠিক রাখতে পারবে না, তাহলে উভয়ের প্রতি কোনো গুনাহ নেই যদি কোনো কিছুর বিনিময়ে স্ত্রী নিজেকে মুক্ত করতে চায়। এগুলো আল্লাহর আইন, কাজেই তোমরা এগুলোকে লঙ্ঘন করো না, আর যারা আল্লাহর আইনসমূহ লঙ্ঘন করবে, তারাই যালিম।” (সূরা আল-বাকারা ২/২২৯)‘উমার (রা.) কাযীর অনুমতি ব্যতীত খুলা’কে বৈধ বলেছেন। ‘উসমান (রা.) মাথার বেণী ব্যতীত অন্য সকল কিছুর পরিবর্তে খুলা’ করার অনুমতি দিয়েছেন। তাউস (রহ.) বলেন, যদি তারা উভয়ে আল্লাহর সীমা ঠিক না রাখতে পারার আশঙ্কা করে অর্থাৎ সংসার জীবনে তাদের প্রত্যেকের উপর যে দায়িত্ব আল্লাহ অর্পণ করেছেন সে ব্যাপারে। তিনি বোকাদের মাঝে এ কথা বলেননি যে, খুলা ততক্ষণ বৈধ হবে না, যতক্ষণ না মহিলা বলবে আমি জুনবী হয়ে তোমার জন্য গোসল করব না অর্থাৎ যতক্ষণ না মহিলা তাকে সহবাস থেকে বাধা দান করবে।"

খুলা তালাক: সাবিত ইবন কায়সের স্ত্রীর হাদিস

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫২৭৩

أَزْهَرُ بْنُ جَمِيلٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ حَدَّثَنَا خَالِدٌ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ امْرَأَةَ ثَابِتِ بْنِ قَيْسٍ أَتَتْ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُوْلَ اللهِ ثَابِتُ بْنُ قَيْسٍ مَا أَعْتِبُ عَلَيْهِ فِي خُلُقٍ وَلاَ دِينٍ وَلٰكِنِّي أَكْرَهُ الْكُفْرَ فِي الإِسْلاَمِ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَتَرُدِّينَ عَلَيْهِ حَدِيقَتَه“ قَالَتْ نَعَمْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم اقْبَلْ الْحَدِيقَةَ وَطَلِّقْهَا تَطْلِيقَةً قَالَ أَبُو عَبْد اللهِ لاَ يُتَابَعُ فِيهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ .

ইব্‌নু 'আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

যে, সাবিত ইবন কায়সের স্ত্রী নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! চরিত্রগত বা দ্বীনী বিষয়ে সাবিত ইবন কায়সের উপর আমি দোষারোপ করছি না। তবে আমি ইসলামের ভিতরে থেকে কুফরী করা (অর্থাৎ স্বামীর সঙ্গে অমিল) পছন্দ করছি না।’ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ‘তুমি কি তার বাগানটি ফিরিয়ে দেবে?’ সে বললঃ ‘হ্যাঁ।’ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ‘তুমি বাগানটি গ্রহণ কর এবং মহিলাকে এক তালাক দিয়ে দাও।’

আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৮১খুলা শব্দের অর্থ খুলে ফেলা, মুক্ত করা।যেমন আল্লাহ বলেন,فَاخْلَعْنَعْلَيْكَإِنَّكَبِالْوَادِالْمُقَدَّسِطُوىًঅর্থাৎ ‘‘হে মূসা! তুমি তোমার জুতাজোড়া খুলে নাও, কেননা তুমি এখন তুওয়া নামক পবিত্র উপত্যকায় উপস্থিত।খুলা তালাকঃ স্ত্রী যদি বিশেষ কোন কারণে স্বামীর সাথে বসবাস করতে নারায হয় তাহলে স্বামী তার নিকট থেকে অথবা তার প্রতিনিধির পক্ষ থেকে বিনিময় গ্রহণ করে স্ত্রীকে পৃথক করে দেয়াকে খুলা তালাক বলা হয়।খুলার ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের সম্মতি থাকতে হবে। যদি স্বামী সম্মতি প্রদান না করে তাহলে স্ত্রী বিচারকের শরণাপন্ন হয়ে তার মাধ্যমে খুলা করবে।স্বামী স্ত্রীকে বিদায়ের অনুমতি দেয়ার পর যদি স্ত্রী পুনরায় উক্ত স্বামীর সংসার করতে চায়, তাহলে এ খুলা তালাকের ক্ষেত্রে স্বামী উক্ত স্ত্রীকে গ্রহণ করতে চাইলে পুনরায় বিয়ের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে।আর যদি অন্যত্র বিবাহ করতে চায়, তাহলে এক হায়েয অতিক্রম করার পর অন্যত্র বিবাহ করতে পারবে। [এ মর্মে ইমাম নাসাঈ হাদীস বর্ণনা করেছেন, দেখুন ‘‘সহীহ্ নাসাঈ’’ ৩৪৯৭) এছাড়া দেখুন ‘‘ফিক্হুস সুন্নাহ্’’ খুলা অধ্যায়]।তার জন্য আল্লাহ বিধান প্রদান করেছেনঃفَإِنْخِفْتُمْأَلَّايُقِيمَاحُدُودَاللَّهِفَلاجُنَاحَعَلَيْهِمَافِيمَاافْتَدَتْبِهِ‘‘অতঃপর যদি তোমরা উভয় পক্ষের শালিসগণ) আশঙ্কা কর যে উভয়পক্ষ আল্লাহর আইনসমূহ ঠিক রাখতে পারবে না, তাহলে উভয়ের প্রতি কোন গুনাহ নেই যদি কোন কিছুর বিনিময়ে স্ত্রী নিজেকে মুক্ত করতে চায়।’’ সূরা আল-বাকারাহঃ ২২৯)আর যদি স্বামী বিনা মালে পরিত্যাগ করে তাহলে আরও ভাল।

সহীহ বুখারী হাদিস ৫২৭৩-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে খুলা তালাকের একটি পরিষ্কার ঘটনা এসেছে। সাবিত ইবন কায়সের স্ত্রী রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে বলেন, তিনি সাবিতের চরিত্র বা দ্বীনের বিষয়ে কোনো দোষ দিচ্ছেন না। তবে তিনি ইসলামের মধ্যে থেকে কুফরী করা, অর্থাৎ স্বামীর সঙ্গে অমিল অবস্থায় থাকা, পছন্দ করছেন না। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কি সাবিতের দেওয়া বাগান ফিরিয়ে দেবেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ। এরপর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাবিতকে বলেন, বাগানটি গ্রহণ কর এবং তাকে এক তালাক দাও। এই হাদিসে দেখা যায়, দাম্পত্য অমিল থাকলে বিষয়টি সম্মানজনকভাবে সমাধানের পথ আছে। এখানে অভিযোগ নয়, বরং নিজের অবস্থার কথা পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • খুলার ক্ষেত্রে স্ত্রী নিজের অসামর্থ্য বা অমিলের কথা জানাতে পারে।
  • স্বামীর দীন ও চরিত্রে দোষ না থাকলেও দাম্পত্য অমিল হতে পারে।
  • বাগান ফেরত দিয়ে পৃথক হওয়ার সিদ্ধান্ত এই বর্ণনায় এসেছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন