৬৮/৫. অধ্যায়ঃ
যে ব্যক্তি তার স্ত্রীদেরকে (পার্থিব সুখ কিংবা পরকালীন সুখ বেছে নেওয়ার) ইখতিয়ার দিল।
وَقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى : ﴿قُلْ لِأَزْوَاجِكَ إِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا فَتَعَالَيْنَ أُمَتِّعْكُنَّ وَأُسَرِّحْكُنَّ سَرَاحًا جَمِيلًا﴾.মহান আল্লাহর বাণী: হে নবী! তুমি তোমার স্ত্রীদের বলে দাও- তোমরা যদি পার্থিব জীবন আর তার শোভাসৌন্দর্য কামনা কর, তাহলে এসো, তোমাদেরকে ভোগসামগ্রী দিয়ে দেই এবং উত্তম পন্থায় তোমাদেরকে বিদায় দেই। (সূরা আহযাব ৩৩/২৮)"
ইখতিয়ার দিলে তালাক হয় কি: সহিহ হাদিসের শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৫২৬২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫২৬২
عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ حَدَّثَنَا أَبِي حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ حَدَّثَنَا مُسْلِمٌ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَائِشَةَ رضى الله عنها قَالَتْ خَيَّرَنَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَاخْتَرْنَا اللهَ وَرَسُوْلَه“ فَلَمْ يَعُدَّ ذ‘لِكَ عَلَيْنَا شَيْئًا.
আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে (দুনিয়ার সুখ শান্তি বা পরকালীন সুখ শান্তি বেছে নেওয়ার) ইখতিয়ার দিলে আমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকেই গ্রহণ করলাম। আর এতে আমাদের প্রতি কিছুই (অর্থাৎ তালাক) সাব্যস্ত হয়নি।
[৫২৬৩; মুসলিম ১৮/৪, হাঃ ১৪৭৭] আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৭২)
সহীহ বুখারী হাদিস ৫২৬২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইখতিয়ার বা বেছে নেওয়ার অধিকার সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এসেছে। আয়িশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁদেরকে দুনিয়ার সুখ-শান্তি বা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে বেছে নেওয়ার সুযোগ দেন। তাঁরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকেই গ্রহণ করেন। এরপর আয়িশা (রাঃ) জানান, এতে তাঁদের প্রতি কোনো তালাক সাব্যস্ত হয়নি। হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো, স্ত্রীকে কোনো বিষয়ে বেছে নেওয়ার সুযোগ দিলেই তা নিজে নিজে তালাক হয়ে যায় না, যদি সে স্বামীকে গ্রহণ করে এবং দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রাখে। এখানে কথা, নিয়ত ও নির্বাচনের বিষয়টি আলাদা করে বোঝা যায়। তাই ইখতিয়ার নিয়ে আলোচনা করতে হলে এই হাদিস খুবই সরাসরি একটি ভিত্তি দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- স্ত্রীকে ইখতিয়ার দেওয়া মানেই সব সময় তালাক নয়।
- আল্লাহ ও রাসূলকে বেছে নেওয়া সাহাবী নারীদের ঈমানী সিদ্ধান্ত ছিল।
- বৈবাহিক বিষয়ে শব্দ ও সিদ্ধান্তের অর্থ বুঝে কথা বলা দরকার।
