৬৭/৯৭. অধ্যায়ঃ
আযল প্রসঙ্গে
আযল ও তাকদীর: যে রূহ সৃষ্টি হওয়ার তা হবেই
সহীহ বুখারী : ৫২১০
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫২১০
عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَسْمَاءَ حَدَّثَنَا جُوَيْرِيَةُ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ ابْنِ مُحَيْرِيزٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ أَصَبْنَا سَبْيًا فَكُنَّا نَعْزِلُ فَسَأَلْنَا رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَوَإِنَّكُمْ لَتَفْعَلُونَ قَالَهَا ثَلاَثًا مَا مِنْ نَسَمَةٍ كَائِنَةٍ إِلٰى يَوْمِ الْقِيَامَةِ إِلاَّ هِيَ كَائِنَةٌ.
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা যুদ্ধকালীন সময়ে গনীমত হিসাবে কিছু দাসী পেয়েছিলাম। আমরা তাদের সঙ্গে ‘আজল করতাম। এরপর আমরা এ সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি উত্তরে বললেনঃ কী! তোমরা কি এমন কাজও কর? একই প্রশ্ন তিনি তিনবার করলেন এবং পরে বললেন, কেয়ামত পর্যন্ত যে রূহ পয়দা হবার, তা অবশ্যই পয়দা হবে।
আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৩০
সহীহ বুখারী হাদিস ৫২১০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে যুদ্ধকালীন বন্দী দাসীদের প্রসঙ্গে আযলের কথা এসেছে। সাহাবারা এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে জিজ্ঞেস করেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) প্রশ্নটি তিনবার করে তাঁদের মনোযোগ টানেন এবং বলেন, কিয়ামত পর্যন্ত যে রূহ পয়দা হওয়ার, তা অবশ্যই পয়দা হবে। হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো, মানুষের চেষ্টা থাকলেও আল্লাহর তাকদীরের বাইরে কিছু ঘটে না। এখানে আযলকে কেন্দ্র করে তাকদীরের বড় সত্যটি মনে করানো হয়েছে। এই নির্দিষ্ট বর্ণনায় যুদ্ধকালীন অবস্থা ও দাসীদের কথা আছে; তাই সাধারণ দাম্পত্য আলোচনার সঙ্গে এক করে ফেলা ঠিক নয়। ব্যাখ্যা করতে হলে ঘটনার সীমা বজায় রাখা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর তাকদীর মানুষের পরিকল্পনার ঊর্ধ্বে।
- এই হাদিসের প্রেক্ষাপট যুদ্ধকালীন দাসীদের বিষয়ে; তা আলাদা করে মনে রাখা দরকার।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) প্রশ্নটি পুনরাবৃত্তি করে বিষয়টির গুরুত্ব বোঝান।
- আযল বিষয়ে কথা বললে হাদিসের সীমা মেনে চলা উচিত।
