৬৭/৮৬. অধ্যায়ঃ
কোন মহিলা তার স্বামীর বিছানা ছেড়ে রাত কাটালে।
স্বামীর শয্যার ডাক অস্বীকার: দাম্পত্য অধিকারের হাদিস
সহীহ বুখারী : ৫১৯৩
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫১৯৩
مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذَا دَعَا الرَّجُلُ امْرَأَتَه“ إِلٰى فِرَاشِه„ فَأَبَتْ أَنْ تَجِيءَ لَعَنَتْهَا الْمَلاَئِكَةُ حَتّٰى تُصْبِحَ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, যদি কোন পুরুষ তার স্ত্রীকে তার সঙ্গে একই বিছানায় শোয়ার জন্য ডাকে, আর সে আসতে অস্বীকার করে, তাহলে সকাল পর্যন্ত ফেরেশতাগণ ঐ মহিলার ওপর লা‘নত বর্ষণ করতে থাকে।
আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮১৪
সহীহ বুখারী হাদিস ৫১৯৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো দাম্পত্য অধিকার এবং অকারণ বিরোধ থেকে সতর্কতা। নবীজি صلى الله عليه وسلم বলেছেন, কোনো পুরুষ তার স্ত্রীকে বিছানায় ডাকলে, আর স্ত্রী আসতে অস্বীকার করলে সকাল পর্যন্ত ফেরেশতারা তার ওপর লা‘নত করতে থাকে। হাদিসের ভাষা কঠোর, তাই এটিকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়। একই সঙ্গে ইসলামী স্কলারদের মতে, এই ধরনের হাদিস দাম্পত্য অধিকারের কথা বলে; অসুস্থতা, ক্ষতি বা অন্যায় আচরণের মতো আলাদা অবস্থার আলোচনা ফিকহের অন্য জায়গায় করা হয়। এখানে সরাসরি শিক্ষা হলো, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে জেদ, অবহেলা বা কষ্ট দেওয়ার জায়গা বানানো উচিত নয়। দাম্পত্য অধিকার, স্বামীর শয্যা, ফেরেশতার লানত, স্ত্রী অস্বীকার করলে—এসব এই হাদিসের মূল সার্চ শব্দ। পরিবারে শান্তি চাইলে পারস্পরিক হককে গুরুত্ব দিতে হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দাম্পত্য সম্পর্কে অকারণ অবহেলা গুরুতর বিষয় হতে পারে।
- স্বামী-স্ত্রীর অধিকারকে জেদ বা কষ্ট দেওয়ার মাধ্যম বানানো উচিত নয়।
- হাদিসে ফেরেশতার লা‘নতের কথা এসেছে, তাই বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে বোঝা দরকার।
- দাম্পত্য জীবনে দায়িত্বশীল আচরণ সম্পর্ককে রক্ষা করে।
