৬৭/৮০. অধ্যায়ঃ
নারীদের প্রতি সদ্ব্যবহার।
وَقَوْلِ النَّبِيُّ ﷺ إِنَّمَا الْمَرْأَةُ كَالضِّلَعِ.আর নবী (ﷺ) এর বাণী, নারীরা পাঁজরের হাড়ের মত।"
নারীরা পাঁজরের হাড়ের ন্যায়: দাম্পত্যে ধৈর্যের হাদিস
সহীহ বুখারী : ৫১৮৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫১৮৪
عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللهِ قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنِالأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ الْمَرْأَةُ كَالضِّلَعِ إِنْ أَقَمْتَهَا كَسَرْتَهَا وَإِنْ اسْتَمْتَعْتَ بِهَا اسْتَمْتَعْتَ بِهَا وَفِيهَا عِوَجٌ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, নারীরা হচ্ছে পাঁজরের হাড়ের ন্যায়। যদি একেবারে সোজা করতে চাও, তাহলে ভেঙে যাবে। সুতরাং, যদি তোমরা তাদের থেকে উপকার লাভ করতে চাও, তাহলে ঐ বাঁকা অবস্থাতেই লাভ করতে হবে।
[৩৩৩১; মুসলিম ১৭/১৭, হাঃ ১৪৬৮](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮০৬)[১৭] এ প্রসঙ্গে রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর একটি হাদীস উল্লেখ করা হচ্ছে। এ হাদীসে তিনি স্ত্রীলোকদের প্রকৃতিগত এক মৌলিক দুর্বলতার প্রতি বিশেষ খেয়াল রেখে চলার জন্যে স্বামীদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন - মেয়েলোক সাধারণত স্বামীদের অকৃতজ্ঞ হয়ে থাকে এবং তাদের অনুগ্রহকে অস্বীকার করে। তুমি যদি জীবন ভরেও কোন স্ত্রীর প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শন কর আর কোন এক সময় যদি সে তার মর্জি মেজাজের বিপরীত কোন ব্যবহার তোমার মাঝে দেখতে পায় তাহলে তখনি বলে উঠবে- আমি তোমার কাছে কোনদিনই সামান্য কল্যাণ দেখতে পাইনি- বুখারী। রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর এ কথা থেকে একদিকে যেমন নারীদের মৌলিক প্রকৃতিগত দোষের কথা জানা গেল। তেমনি এ হাদীস স্বামীদের জন্যে এক বিশেষ সাবধান বাণী। স্বামীরা যদি নারীদের এ প্রকৃতিগত দোষের কথা স্মরণ না রাখে, তাহলে পারিবারিক জীবনে অতি তাড়াতাড়ি ভাঙ্গন ও বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। এ জন্য পুরুষদের অবিচল নিষ্ঠা ও অপরিসীম ধৈয্য ধারণের প্রয়োজন রয়েছে এবং এ ধরনের নাজুক পরিস্থিতিতে ধৈয্য ধারণ করে পারিবারিক জীবনের মাধুর্য ও মিলমিশকে অক্ষুণ্ন রাখতে পুরুষদেরকেই প্রধান ভূমিকা রাখতে হবে।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫১৮৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো দাম্পত্য জীবন, ধৈর্য এবং নারীর সঙ্গে বাস্তব বোঝাপড়া। নবীজি صلى الله عليه وسلم বলেছেন, নারীরা পাঁজরের হাড়ের ন্যায়। কেউ যদি তাকে একেবারে সোজা করতে চায়, তাহলে তা ভেঙে যাবে। আর যদি উপকার নিতে চায়, তাহলে তার স্বভাবের কিছু বাঁক থাকা অবস্থাতেই উপকার নিতে হবে। এখানে উদ্দেশ্য কাউকে হেয় করা নয়; বরং দাম্পত্য সম্পর্কে কঠোরতা, অতিরিক্ত চাপ এবং সবকিছু নিজের মতো বানানোর চেষ্টা থেকে সতর্ক করা। ইসলামী স্কলারদের মতে, ভেঙে যাওয়ার ইঙ্গিত দাম্পত্য সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার দিকেও বুঝতে সাহায্য করে। তাই নারীর সঙ্গে সদ্ব্যবহার, স্ত্রীকে বোঝা, স্বামী-স্ত্রীর অধিকার, দাম্পত্য ধৈর্য—এসব এই হাদিসের প্রধান সার্চ শব্দ। হাদিসটি স্বামীকে নরম আচরণ, ধৈর্য এবং বাস্তব মন নিয়ে সম্পর্ক সামলাতে শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দাম্পত্য জীবনে সবকিছু জোর করে নিজের মতো করতে গেলে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
- নারীর সঙ্গে আচরণে ধৈর্য, কোমলতা ও বোঝাপড়া দরকার।
- স্বভাবের পার্থক্য মেনে নিয়ে ভালোভাবে চলা এই হাদিসের মূল শিক্ষা।
- কঠোরতা নয়, সুন্দর ব্যবহারের পথেই পারিবারিক শান্তি বাড়ে।
