৬৭/৩৭. অধ্যায়ঃ

যারা বলে, ওয়ালী বা অভিভাবক ছাড়া বিয়ে শুদ্ধ হয় না, তারা আল্লাহ তা'আলার কালাম দলিল হিসাবে পেশ করে:

﴿فَلاَ تَعْضُلُوهُنَّ﴾ فَدَخَلَ فِيهِ الثَّيِّبُ وَكَذَلِكَ الْبِكْرُ وَقَالَ ﴿وَلاَ تَنْكِحُوا الْمُشْرِكَاتِ حَتَّى يُؤْمِنَّ﴾ وَقَالَ ﴿وَأَنْكِحُوا الأَيَامَى مِنْكُمْ﴾“যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দাও, তারপর তাদের ইদ্দত পূর্ণ হয়ে যায়, সে অবস্থায় তারা স্বামীদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চাইলে তাদেরকে বাধা দিও না” (সূরা আল-বাকারা ২/২৩২)-এ নির্দেশের আওতায় বয়স্কা বিবাহিতা মহিলারা যেমন, তেমনি কুমারী মেয়েরাও এসে গেছে। মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “তোমরা মুশরিক মহিলাদেরকে কখনও বিয়ে করবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা ঈমান না আনবে” (সূরা আল-বাকারা ২/২২১)। আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন, “তোমাদের ভিতরে যারা অবিবাহিতা আছে তাদের বিয়ে দিয়ে দাও” (সূরা আন-নূর ২৪/৩২)।"

হাফসা রাঃ-এর বিয়ের প্রস্তাব: অভিভাবকের দায়িত্বের শিক্ষা

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫১২৯

عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ قَالَ أَخْبَرَنِي سَالِمٌ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ أَخْبَرَه“ أَنَّ عُمَرَ حِينَ تَأَيَّمَتْ حَفْصَةُ بِنْتُ عُمَرَ مِنْ ابْنِ حُذَافَةَ السَّهْمِيِّ وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ أَهْلِ بَدْرٍ تُوُفِّيَ بِالْمَدِينَةِ فَقَالَ عُمَرُ لَقِيتُ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ فَعَرَضْتُ عَلَيْهِ فَقُلْتُ إِنْ شِئْتَ أَنْكَحْتُكَ حَفْصَةَ فَقَالَ سَأَنْظُرُ فِي أَمْرِي فَلَبِثْتُ لَيَالِيَ ثُمَّ لَقِيَنِي فَقَالَ بَدَا لِي أَنْ لاَ أَتَزَوَّجَ يَوْمِي هٰذَا قَالَ عُمَرُ فَلَقِيتُ أَبَا بَكْرٍ فَقُلْتُ إِنْ شِئْتَ أَنْكَحْتُكَ حَفْصَةَ.

‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

উমর (রাঃ)-এর কন্যা হাফসা (রাঃ) যখন তাঁর স্বামী খুনায়স ইবন হুযাফা আস-সহ্‌মীর মৃত্যুর ফলে বিধবা হলেন, ইনি নবী (ﷺ)-এর সাহাবী ছিলেন এবং বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং মদিনায় ইন্তিকাল করেন। উমর (রাঃ) বলেন, আমি উসমান ইবন ‘আফ্‌ফান (রাঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁর কাছে হাফসার বিয়ের প্রস্তাব করলাম এই বলে যে, যদি আপনি ইচ্ছা করেন, তবে হাফসাকে আপনার সঙ্গে বিয়ে দিব। তিনি বললেন, আমি এ ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করে দেখি। আমি কয়েকদিন অপেক্ষা করলাম। তারপর তিনি আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললেন, আমি বর্তমানে বিয়ে না করার জন্য মনস্থির করেছি। উমর (রাঃ) আরো বলেন, আমি আবু বকর (রাঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললাম, আপনি যদি চান, তাহলে হাফসাকে আপনার সঙ্গে বিয়ে দিব।

আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৫৩

সহীহ বুখারী হাদিস ৫১২৯-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে উমর রাঃ-এর কন্যা হাফসা রাঃ বিধবা হওয়ার পর তাঁর বিয়ে নিয়ে উমর রাঃ-এর উদ্যোগের কথা এসেছে। তাঁর স্বামী খুনায়স ইবন হুযাফা রাঃ বদরের সাহাবি ছিলেন এবং মদিনায় ইন্তিকাল করেন। এরপর উমর রাঃ উসমান রাঃ-এর সঙ্গে দেখা করে বলেন, চাইলে তিনি হাফসাকে তাঁর সঙ্গে বিয়ে দেবেন। উসমান রাঃ ভেবে দেখার কথা বলেন এবং পরে জানান, তিনি এখন বিয়ে করবেন না। এরপর উমর রাঃ আবু বকর রাঃ-এর কাছে একইভাবে প্রস্তাব দেন। এই সংক্ষিপ্ত বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, বিধবা কন্যার কল্যাণে অভিভাবক বিয়ের উপযুক্ত ব্যবস্থা খোঁজার চেষ্টা করতে পারেন। এই বর্ণনায় আবু বকর রাঃ-এর নীরবতার পরের ব্যাখ্যা নেই; সেটি অন্য বর্ণনায় বিস্তারিত এসেছে। তাই এই হাদিসকে সংক্ষিপ্ত অংশ হিসেবে বুঝতে হবে। এখানে মূল ফোকাস হলো, উমর রাঃ দায়িত্ব নিয়ে উপযুক্ত ব্যক্তিদের কাছে প্রস্তাব দিয়েছেন।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • বিধবা নারীর বিয়ে নিয়ে পরিবারের দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকতে পারে।
  • বিয়ের প্রস্তাব ভদ্রভাবে দেওয়া ও ভেবে দেখার সুযোগ রাখা উচিত।
  • কেউ প্রস্তাব গ্রহণ না করলে ধৈর্য রাখা দরকার।
  • সাহাবিদের জীবনে বিয়ের আলোচনা সরল ও দায়িত্বশীল ছিল।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন