৬৭/১. অধ্যায়ঃ
বিয়ে করার অনুপ্রেরণা দান। এ ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা বলেন : ‘তোমরা নারীদের মধ্য হতে নিজেদের পছন্দ মত বিয়ে কর।’ (আন-নিসা ৪ : ২)
ইয়াতীম নারীর প্রতি সুবিচার: কম মাহর নয়, পূর্ণ অধিকার
সহিহ বুখারী : ৫০৬৪
সহিহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫০৬৪
عَلِيٌّ سَمِعَ حَسَّانَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ عَنْ يُوْنُسَ بْنِ يَزِيدَ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ أَنَّه“ سَأَلَ عَائِشَةَ عَنْ قَوْلِه„ تَعَالٰى : {وَإِنْ خِفْتُمْ أَنْ لاَ تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنَ النِّسَاءِ مَثْنَى وَثُلاَثَ وَرُبَاعَ فَإِنْ خِفْتُمْ أَنْ لاَ تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ذَلِكَ أَدْنَى أَنْ لاَ تَعُولُوا}. (سورة النساء : 3)قَالَتْ يَا ابْنَ أُخْتِي الْيَتِيمَةُ تَكُوْنُ فِي حَجْرِ وَلِيِّهَا فَيَرْغَبُ فِي مَالِهَا وَجَمَالِهَا يُرِيدُ أَنْ يَتَزَوَّجَهَا بِأَدْنٰى مِنْ سُنَّةِ صَدَاقِهَا فَنُهُوْا أَنْ يَنْكِحُوْهُنَّ إِلاَّ أَنْ يُقْسِطُوْا لَهُنَّ فَيُكْمِلُوْا الصَّدَاقَ وَأُمِرُوْا بِنِكَاحِ مَنْ سِوَاهُنَّ مِنَ النِّسَاءِ.
যুহরী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
‘উরওয়া (রহঃ) আমাকে অবহিত করেছেন যে, তিনি আয়েশা (রাঃ)-কে আল্লাহর এ বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেনঃ “যদি তোমরা আশংকা কর যে, ইয়াতীমদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে নারীদের মধ্য হতে নিজেদের পছন্দমত দুই-দুই, তিন-তিন ও চার-চার জনকে বিয়ে কর, কিন্তু যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, তোমরা সুবিচার করতে পারবে না, তাহলে একজনকে কিংবা তোমাদের অধীনস্থ দাসীকে; এটাই হবে অবিচার না করার কাছাকাছি।” (সূরা আন-নিসা: ৩)আয়েশা (রাঃ) বলেন, হে ভাগ্নে! এক ইয়াতীম বালিকা এমন একজন অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে ছিল, যে তার সম্পদ ও রূপের প্রতি আকৃষ্ট ছিল। সে তাকে যথোচিতের চেয়ে কম মাহর দিয়ে বিয়ে করার ইচ্ছা করে। তখন লোকদেরকে নিষেধ করা হল ঐসব ইয়াতীমদের বিয়ে করার ব্যাপারে। তবে যদি তারা সুবিচার করে ও পূর্ণ মাহর আদায় করে (তাহলে বিয়ে করতে পারবে)। (অন্যথায়) তাদের বাদ দিয়ে অন্য নারীদের বিয়ে করার আদেশ করা হল।
আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৯১, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৯৪
সহিহ বুখারী হাদিস ৫০৬৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সূরা আন-নিসার ৩ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা এসেছে। আয়েশা (রাঃ) বলেন, কোনো ইয়াতীম বালিকা যদি তার অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে থাকে, আর অভিভাবক তার সম্পদ ও রূপ দেখে তাকে কম মাহর দিয়ে বিয়ে করতে চায়, তাহলে এমন বিয়ে থেকে নিষেধ করা হয়েছে। তবে যদি সে সুবিচার করে এবং পূর্ণ মাহর দেয়, তখন বিষয়টি ভিন্ন। অন্যথায় তাদের বাদ দিয়ে অন্য নারীদের বিয়ে করার আদেশ করা হয়েছে। এখানে মূল বিষয় হলো ইয়াতীমের অধিকার, মাহর এবং ন্যায়বিচার। হাদিসটি আমাদের শেখায়, বিয়ের নামে কারও দুর্বল অবস্থার সুযোগ নেওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে ইয়াতীম নারীর প্রতি সুবিচার করা খুব জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইয়াতীম নারীর সম্পদ বা রূপের সুযোগ নেওয়া উচিত নয়।
- বিয়েতে মাহর পূর্ণ ও ন্যায্যভাবে দেওয়ার শিক্ষা আছে।
- অভিভাবক হলে দায়িত্ব হলো সুবিচার করা, নিজের সুবিধা খোঁজা নয়।
- দুর্বল মানুষের অধিকার রক্ষার গুরুত্ব এই হাদিসে স্পষ্ট।
