৬৬/৯. অধ্যায়ঃ

সূরা ফাতিহার ফজিলত

সূরা ফাতিহা দিয়ে রুকিয়া করার হাদিস

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫০০৭

مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا وَهْبٌ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنْ مَعْبَدٍ عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ كُنَّا فِيْ مَسِيْرٍ لَنَا فَنَزَلْنَا فَجَاءَتْ جَارِيَةٌ فَقَالَتْ إِنَّ سَيِّدَ الْحَيِّ سَلِيْمٌ وَإِنَّ نَفَرَنَا غَيْبٌ فَهَلْ مِنْكُمْ رَاقٍ فَقَامَ مَعَهَا رَجُلٌ مَا كُنَّا نَأْبُنُهُ بِرُقْيَةٍ فَرَقَاهُ فَبَرَأَ فَأَمَرَ لَهُ بِثَلَاثِيْنَ شَاةً وَسَقَانَا لَبَنًا فَلَمَّا رَجَعَ قُلْنَا لَهُ أَكُنْتَ تُحْسِنُ رُقْيَةً أَوْ كُنْتَ تَرْقِيْ قَالَ لَا مَا رَقَيْتُ إِلَّا بِأُمِّ الْكِتَابِ قُلْنَا لَا تُحْدِثُوْا شَيْئًا حَتَّى نَأْتِيَ أَوْ نَسْأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا قَدِمْنَا الْمَدِيْنَةَ ذَكَرْنَاهُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ وَمَا كَانَ يُدْرِيْهِ أَنَّهَا رُقْيَةٌ اقْسِمُوْا وَاضْرِبُوْا لِيْ بِسَهْمٍ وَقَالَ أَبُوْ مَعْمَرٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ حَدَّثَنَا هِشَامٌ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سِيْرِيْنَ حَدَّثَنِيْ مَعْبَدُ بْنُ سِيْرِيْنَ عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ الْخُدْرِيِّ بِهَذَا.

আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একবার আমরা সফরে চলছিলাম। (পথিমধ্যে) অবতরণ করলাম। তখন একটি বালিকা এসে বলল, এখানকার গোত্রের সরদারকে সাপে কেটেছে। আমাদের পুরুষগণ বাড়িতে নেই। অতএব, আপনাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন কি, যিনি ঝাড়-ফুঁক করতে পারেন? তখন আমাদের মধ্য থেকে একজন ঐ বালিকাটির সঙ্গে গেলেন। যদিও আমরা ভাবিনি যে সে ঝাড়-ফুঁক জানে। এরপর সে ঝাড়-ফুঁক করল এবং গোত্রের সরদার সুস্থ হয়ে উঠল। এতে সরদার খুশি হয়ে তাকে ত্রিশটি বকরী দান করলেন এবং আমাদের সকলকে দুধ পান করালেন।ফিরে আসার পথে আমরা জিজ্ঞেস করলাম, তুমি ভালোভাবে ঝাড়-ফুঁক করতে জান (অথবা রাবীর সন্দেহ) তুমি কি ঝাড়-ফুঁক করতে পার? সে উত্তর করল, না, আমি তো কেবল উম্মুল কিতাব- সূরা ফাতিহা দিয়েই ঝাড়-ফুঁক করেছি। আমরা তখন বললাম, যতক্ষণ না আমরা নবী (ﷺ)-এর কাছে পৌঁছে তাঁকে জিজ্ঞেস করি ততক্ষণ কেউ কিছু বলবে না। এরপর আমরা মদিনায় পৌঁছে নবী (ﷺ)-এর কাছে ঘটনাটি বললাম। তিনি বললেন, সে কেমন করে জানল যে, তা (সূরা ফাতিহা) রোগ আরোগ্যের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে? তোমরা নিজেদের মধ্যে এগুলো বণ্টন করে নাও এবং আমার জন্যও একটা ভাগ রেখো। আবূ মা‘মার ..... আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে এ রকমই বর্ণনা করেছেন।

আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৩৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৪১

সহীহ বুখারী হাদিস ৫০০৭-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে সাহাবীদের একটি সফরের ঘটনা এসেছে। তাঁরা এক জায়গায় অবস্থান করছিলেন। তখন এক বালিকা জানাল, গোত্রের সরদারকে সাপে কেটেছে এবং তাদের পুরুষরা বাড়িতে নেই। সাহাবীদের মধ্যে একজন গিয়ে রুকিয়া করলেন, যদিও অন্যরা ভাবেননি যে তিনি রুকিয়া জানেন। তিনি শুধু উম্মুল কিতাব, অর্থাৎ সূরা ফাতিহা দিয়ে রুকিয়া করেছিলেন। এরপর সরদার সুস্থ হয়ে তাঁকে ত্রিশটি বকরী দিলেন এবং সবাইকে দুধ পান করালেন। সাহাবীরা বিষয়টি নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে না জিজ্ঞেস করা পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিতে চাননি। নবী صلى الله عليه وسلم শুনে বললেন, তোমরা এগুলো বণ্টন করো এবং আমার জন্যও একটি ভাগ রেখো। এতে সূরা ফাতিহার রুকিয়া হিসেবে ব্যবহার অনুমোদিত হয়েছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সূরা ফাতিহা দিয়ে রুকিয়া করার দৃষ্টান্ত এই হাদিসে এসেছে।
  • সাহাবীরা নতুন বিষয়ে নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে যাচাই করতেন।
  • কুরআন দিয়ে ঝাড়-ফুঁক করার ক্ষেত্রে সতর্কতা ও শুদ্ধতা দরকার।
  • উপহার গ্রহণের বিষয়টি নবী صلى الله عليه وسلم-এর সামনে তুলে ধরা হয়েছিল।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন