৬৬/৩. অধ্যায়ঃ

কুরআন সংকলনের অধ্যায়

কুরআন সংকলন: আবু বকর রাঃ, উমর রাঃ ও যায়দ রাঃ-এর কাজ

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৯৮৬

مُوْسَى بْنُ إِسْمَاعِيْلَ عَنْ إِبْرَاهِيْمَ بْنِ سَعْدٍ حَدَّثَنَا ابْنُ شِهَابٍ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ السَّبَّاقِ أَنَّ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ أَرْسَلَ إِلَيَّ أَبُوْ بَكْرٍ مَقْتَلَ أَهْلِ الْيَمَامَةِ فَإِذَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ عِنْدَهُ قَالَ أَبُوْ بَكْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ إِنَّ عُمَرَ أَتَانِيْ فَقَالَ إِنَّ الْقَتْلَ قَدْ اسْتَحَرَّ يَوْمَ الْيَمَامَةِ بِقُرَّاءِ الْقُرْآنِ وَإِنِّيْ أَخْشَى أَنْ يَسْتَحِرَّ الْقَتْلُ بِالْقُرَّاءِ بِالْمَوَاطِنِ فَيَذْهَبَ كَثِيْرٌ مِنَ الْقُرْآنِ وَإِنِّيْ أَرَى أَنْ تَأْمُرَ بِجَمْعِ الْقُرْآنِ قُلْتُ لِعُمَرَ كَيْفَ تَفْعَلُ شَيْئًا لَمْ يَفْعَلْهُ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ عُمَرُ هَذَا وَاللهِ خَيْرٌ فَلَمْ يَزَلْ عُمَرُ يُرَاجِعُنِيْ حَتَّى شَرَحَ اللهُ صَدْرِيْ لِذَلِكَ وَرَأَيْتُ فِيْ ذَلِكَ الَّذِيْ رَأَى عُمَرُ قَالَ زَيْدٌ قَالَ أَبُوْ بَكْرٍ إِنَّكَ رَجُلٌ شَابٌّ عَاقِلٌ لَا نَتَّهِمُكَ وَقَدْ كُنْتَ تَكْتُبُ الْوَحْيَ لِرَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَتَتَبَّعْ الْقُرْآنَ فَاجْمَعْهُ فَوَاللهِ لَوْ كَلَّفُوْنِيْ نَقْلَ جَبَلٍ مِنَ الْجِبَالِ مَا كَانَ أَثْقَلَ عَلَيَّ مِمَّا أَمَرَنِيْ بِهِ مِنْ جَمْعِ الْقُرْآنِ قُلْتُ كَيْفَ تَفْعَلُوْنَ شَيْئًا لَمْ يَفْعَلْهُ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ هُوَ وَاللهِ خَيْرٌ فَلَمْ يَزَلْ أَبُوْ بَكْرٍ يُرَاجِعُنِيْ حَتَّى شَرَحَ اللهُ صَدْرِيْ لِلَّذِيْ شَرَحَ لَهُ صَدْرَ أَبِيْ بَكْرٍ وَعُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا فَتَتَبَّعْتُ الْقُرْآنَ أَجْمَعُهُ مِنَ الْعُسُبِ وَاللِّخَافِ وَصُدُوْرِ الرِّجَالِ حَتَّى وَجَدْتُ آخِرَ سُوْرَةِ التَّوْبَةِ مَعَ أَبِيْ خُزَيْمَةَ الْأَنْصَارِيِّ لَمْ أَجِدْهَا مَعَ أَحَدٍ غَيْرِهِ{لَقَدْ جَآءَكُمْ رَسُوْلٌ مِّنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيْزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ} حَتَّى خَاتِمَةِ بَرَاءَةَ فَكَانَتْ الصُّحُفُ عِنْدَ أَبِيْ بَكْرٍ حَتَّى تَوَفَّاهُ اللهُ ثُمَّ عِنْدَ عُمَرَ حَيَاتَهُ ثُمَّ عِنْدَ حَفْصَةَ بِنْتِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُما.

যায়দ ইব্‌নু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

ইয়ামামার যুদ্ধে বহু লোক শহীদ হবার পর আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) আমাকে ডেকে পাঠালেন। এ সময় উমর (রাঃ)–ও তাঁর কাছে উপস্থিত ছিলেন। আবু বকর (রাঃ) বললেন, উমর (রাঃ) আমার কাছে এসে বললেন, ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদদের মধ্যে কারীদের সংখ্যা অনেক। আমি আশংকা করছি, এমনিভাবে যদি কারীগণ শহীদ হয়ে যান, তাহলে কুরআন মাজীদের বহু অংশ হারিয়ে যাবে। অতএব আমি মনে করি যে, আপনি কুরআন সংকলনের নির্দেশ দিন।উত্তরে আমি উমর (রাঃ)–কে বললাম, যে কাজ আল্লাহর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) করেননি, সে কাজ তুমি কীভাবে করবে? উমর (রাঃ) জবাবে বললেন, আল্লাহর কসম! এটা একটি উত্তম কাজ। উমর (রাঃ) এ কথাটি আমার কাছে বার বার বলতে থাকলে অবশেষে আল্লাহ তা’আলা এ কাজের জন্য আমার বক্ষকে উন্মোচন করে দিলেন এবং এ ব্যাপারে উমর যা ভাল মনে করলেন আমিও তাই করলাম।জায়েদ (রাঃ) বলেন, আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) আমাকে বললেন, তুমি একজন বুদ্ধিমান যুবক। তোমার ব্যাপারে আমার কোন সংশয় নেই। তদুপরি তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ওহী লেখক ছিলে। সুতরাং তুমি কুরআন মাজীদের অংশগুলোকে তালাশ করে একত্রিত কর।আল্লাহর শপথ! তারা যদি আমাকে একটি পর্বত এক স্থান হতে অন্যত্র সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিত, তাহলেও তা আমার কাছে কুরআন সংকলনের নির্দেশের চেয়ে কঠিন বলে মনে হত না। আমি বললাম, যে কাজ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) করেননি, আপনারা সে কাজ কীভাবে করবেন? তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! এটা একটা কল্যাণকর কাজ। এ কথাটি আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) আমার কাছে বার বার বলতে থাকেন, অবশেষে আল্লাহ আমার বক্ষকে উন্মোচন করে দিলেন সে কাজের জন্য, যে কাজের জন্য তিনি আবু বকর এবং উমর (রাঃ)–এর বক্ষকে উন্মোচন করে দিয়েছিলেন।এরপর আমি কুরআন অনুসন্ধানের কাজে লেগে গেলাম এবং খেজুর পাতা, প্রস্তরখণ্ড ও মানুষের বক্ষ থেকে আমি তা সংগ্রহ করতে থাকলাম। এমন কি আমি সূরা তাওবার শেষাংশ আবূ খুযাইমা আনসারী (রাঃ) থেকে সংগ্রহ করলাম। এ অংশটুকু তিনি বাদে আর কারো কাছে আমি পাইনি। আয়াতগুলো হচ্ছে এইঃ ‘‘তোমাদের মধ্যে হতে তোমাদের কাছে এক রসূল এসেছেন। তোমাদেরকে যা বিপন্ন করে তাঁর জন্য তা কষ্টদায়ক। সে তোমাদের মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি সে দয়ার্দ্র ও পরম দয়ালু। এরপর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তুমি বলো, আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নেই। আমি তাঁরই উপর নির্ভর করি এবং তিনি মহা আরশের অধিপতি।’’ (১২৮-১২৯)তারপর সঙ্কলিত সহীফাসমূহ মৃত্যু পর্যন্ত আবু বকর (রাঃ)–এর কাছে রক্ষিত ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর তা উমর (রাঃ)-এর কাছে সংরক্ষিত ছিল, যতদিন তিনি জীবিত ছিলেন। অতঃপর তা উমর (রাঃ)-এর কন্যা হাফসা (রাঃ)-এর কাছে সংরক্ষিত ছিল।

আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬১৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৬২১

সহীহ বুখারী হাদিস ৪৯৮৬-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আবু বকর রাঃ-এর সময়ে কুরআন সংকলনের বিস্তারিত ঘটনা এসেছে। ইয়ামামার যুদ্ধে অনেক কারী শহীদ হওয়ায় উমর রাঃ আশঙ্কা করেন যে, কুরআনের অনেক অংশ হারিয়ে যেতে পারে। তিনি আবু বকর রাঃ-কে কুরআন একত্র করার পরামর্শ দেন। প্রথমে আবু বকর রাঃ দ্বিধা করেন, কারণ রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم এ কাজ করেননি। পরে তিনি এটিকে কল্যাণকর মনে করেন। এরপর যায়দ ইবনু সাবিত রাঃ-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়, যিনি নবী صلى الله عليه وسلم-এর ওহী লিখতেন। তিনি খেজুর পাতা, পাথরখণ্ড এবং মানুষের বক্ষ থেকে কুরআন সংগ্রহ করেন। পরে সহীফাগুলো আবু বকর রাঃ, তারপর উমর রাঃ, তারপর হাফসা রাঃ-এর কাছে থাকে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কুরআন সংরক্ষণে সাহাবীরা গভীর দায়িত্ববোধ দেখিয়েছেন।
  • উমর রাঃ বিপদের আশঙ্কা দেখে কুরআন সংকলনের পরামর্শ দেন।
  • যায়দ রাঃ সতর্কভাবে বিভিন্ন উৎস থেকে কুরআন সংগ্রহ করেন।
  • সংকলিত সহীফাগুলো নির্দিষ্ট সাহাবীদের কাছে সংরক্ষিত ছিল।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন