৬৫/৩৮৩. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণী: এবং কেউ কার্পণ্য করলে ও নিজকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করলে। (সূরা আল-লাইল ৯২/৮)
তাকদীর ও মানুষের আমল: নবী صلى الله عليه وسلم-এর সরল দিকনির্দেশনা
সহীহ বুখারী : ৪৯৪৭
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৯৪৭
يَحْيَى حَدَّثَنَا وَكِيْعٌ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ عَنْ أَبِيْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَلِيٍّ عَلَيْهِ السَّلَام قَالَ كُنَّا جُلُوْسًا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا وَقَدْ كُتِبَ مَقْعَدُهُ مِنَ الْجَنَّةِ وَمَقْعَدُهُ مِنْ النَّارِ فَقُلْنَا يَا رَسُوْلَ اللهِ أَفَلَا نَتَّكِلُ قَالَ لَا اعْمَلُوْا فَكُلٌّ مُيَسَّرٌ ثُمَّ قَرَأَ {فَأَمَّا مَنْ أَعْطٰى وَاتَّقٰى لا (5) وَصَدَّقَ بِالْـحُسْنٰى لا (6) فَسَنُيَسِّرُه” لِلْيُسْرٰى} إِلَى قَوْلِهِ {فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْعُسْرٰى}.
‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা নবী (ﷺ)-এর কাছে উপবিষ্ট ছিলাম। এ সময় তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার স্থান জান্নাতে বা জাহান্নামে নির্দিষ্ট হয়নি। এ কথা শুনে আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল! তাহলে কি আমরা ভাগ্যের উপর নির্ভর করে বসে থাকব? তিনি বললেন, না, তোমরা আমল করতে থাক। কারণ, যাকে যে আমলের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে তার জন্য সে আমলকে সহজ করে দেয়া হবে। এরপর তিনি পাঠ করলেন, কাজেই কেউ দান করলে, মুত্তাকি হলে এবং যা উত্তম তা গ্রহণ করলে আমি তার জন্য সুগম করে দেব সহজ পথ এবং কেউ কার্পণ্য করলে, নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করলে, আর যা উত্তম তা ত্যাগ করলে, তার জন্য আমি সুগম করে দেব কঠোর পরিণামের পথ।
[১৩৬২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৭৯,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৮৪)
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৯৪৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আলী (রাঃ) বলেন, তারা নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে বসে ছিলেন। তখন নবী صلى الله عليه وسلم জানান, প্রত্যেক মানুষের জান্নাত ও জাহান্নামের স্থান লিখে রাখা হয়েছে। এই কথা শুনে সাহাবিরা জানতে চান, তাহলে কি তারা ভাগ্যের উপর ভরসা করে বসে থাকবে। নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, না, তোমরা আমল করতে থাক। এরপর তিনি বলেন, যাকে যে আমলের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য সে আমল সহজ করা হবে। তিনি সূরা আল-লাইলের আয়াত পাঠ করেন, যেখানে দান করা, তাকওয়া অবলম্বন করা এবং উত্তম বিষয় গ্রহণের কথা আছে। বিপরীতে কার্পণ্য করা, নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করা এবং উত্তম বিষয় ত্যাগ করার কথাও আছে। তাই এই হাদিসে তাকদীরের সঙ্গে আমলের ভারসাম্য খুব পরিষ্কারভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم সরাসরি আমল করতে বলেছেন, ভাগ্যের উপর বসে থাকতে বলেননি।
- দান, তাকওয়া ও উত্তম বিষয় গ্রহণ সহজ পথের সঙ্গে যুক্ত।
- কার্পণ্য ও আত্মনির্ভর অহংকার কঠিন পরিণামের দিকে নিতে পারে।
