৬৫/৩২৭. অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সূরা তাওবাহ, আনফাল ও হাশর সম্পর্কে ইবন আব্বাসের ব্যাখ্যা
সহীহ বুখারী : ৪৮৮২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৮৮২
مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيْمِ حَدَّثَنَا سَعِيْدُ بْنُ سُلَيْمَانَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَخْبَرَنَا أَبُوْ بِشْرٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ قُلْتُ لِابْنِ عَبَّاسٍ سُوْرَةُ التَّوْبَةِ قَالَ التَّوْبَةُ هِيَ الْفَاضِحَةُ مَا زَالَتْ تَنْزِلُ وَمِنْهُمْ وَمِنْهُمْ حَتَّى ظَنُّوْا أَنَّهَا لَنْ تُبْقِيَ أَحَدًا مِنْهُمْ إِلَّا ذُكِرَ فِيْهَا قَالَ قُلْتُ سُوْرَةُ الْأَنْفَالِ قَالَ نَزَلَتْ فِيْ بَدْرٍ قَالَ قُلْتُ سُوْرَةُ الْحَشْرِ قَالَ نَزَلَتْ فِيْ بَنِي النَّضِيْرِ.
সা‘ঈদ ইব্নু যুবায়র (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে সূরা তাওবাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এ তো লাঞ্ছনাকারী সূরা। وَمِنْهُمْ وَمِنْهُمْ অর্থাৎ তাদের একদল এই করেছে, আরেক দল ওই করেছে, এ বলে একাধারে এ সূরা অবতীর্ণ হতে থাকলে লোকেরা ধারণা করতে লাগল যে, এ সূরায় উল্লেখ করা হবে না, এমন কেউ আর তাদের মধ্যে বাকি থাকবে না। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাঁকে সূরা আনফাল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এ সূরাটি 'বদর' যুদ্ধের সময় অবতীর্ণ হয়েছে। আমি তাকে সূরা হাশর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এটি বনি নযীর সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে।
[৪০২৯; মুসলিম ৫৪/৬, হাঃ ৩০৩১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫১৪,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৫১৭)
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৮৮২-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় সাঈদ ইবনু জুবাইর (রহঃ) ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে তিনটি সূরা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। ইবন আব্বাস (রাঃ) সূরা তাওবাহকে লাঞ্ছনাকারী সূরা বলেন, কারণ এতে একাধিক দলের কাজ ও আচরণের কথা বারবার এসেছে। তিনি সূরা আনফাল সম্পর্কে বলেন, এটি বদর যুদ্ধের সময় অবতীর্ণ হয়েছে। আবার সূরা হাশর সম্পর্কে বলেন, এটি বনি নযীর সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। এই হাদিসের মূল বিষয় হলো কুরআনের সূরাগুলোর নাযিলের বিষয় জানা। এতে বোঝা যায়, সাহাবীগণ কুরআন বুঝতে সরাসরি জিজ্ঞেস করতেন এবং সংক্ষিপ্ত কিন্তু স্পষ্ট উত্তর দিতেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআন বোঝার জন্য সাহাবীদের ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ।
- প্রতিটি সূরার আলোচ্য বিষয় জানা তাফসীর বুঝতে সাহায্য করে।
- প্রশ্ন করে জ্ঞান নেওয়া সাহাবীদের আমলের অংশ ছিল।
- সূরার নাম জানার পাশাপাশি তার নাযিলের বিষয়ও জানা দরকার।
