৬৫/৩০৮. অধ্যায়ঃ

পরিচ্ছেদ নাই।

নবী (صلى الله عليه وسلم) কি রবকে দেখেছিলেন? আয়িশা (রাঃ)-এর স্পষ্ট জবাব

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৮৫৫

يَحْيَى حَدَّثَنَا وَكِيْعٌ عَنْ إِسْمَاعِيْلَ بْنِ أَبِيْ خَالِدٍ عَنْ عَامِرٍ عَنْ مَسْرُوْقٍ قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا يَا أُمَّتَاهْ هَلْ رَأَى مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم رَبَّهُ فَقَالَتْ لَقَدْ قَفَّ شَعَرِيْ مِمَّا قُلْتَ أَيْنَ أَنْتَ مِنْ ثَلَاثٍ مَنْ حَدَّثَكَهُنَّ فَقَدْ كَذَبَ مَنْ حَدَّثَكَ أَنَّ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم رَأَى رَبَّهُ فَقَدْ كَذَبَ ثُمَّ قَرَأَتْ {لَا تُدْرِكُهُ الْأَبْصَارُ زوَهُوَ يُدْرِكُ الْأَبْصَارَ جوَهُوَ اللَّطِيْفُ الْخَبِيْرُوَمَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُّكَلِّمَهُ اللهُ إِلَّا وَحْيًا أَوْ مِنْ وَّرَآءِ حِجَابٍ} وَمَنْ حَدَّثَكَ أَنَّهُ يَعْلَمُ مَا فِيْ غَدٍ فَقَدْ كَذَبَ ثُمَّ قَرَأَتْ {وَمَا تَدْرِيْ نَفْسٌ مَّاذَا تَكْسِبُ غَدًا} وَمَنْ حَدَّثَكَ أَنَّهُ كَتَمَ فَقَدْ كَذَبَ ثُمَّ قَرَأَتْ {يَٰٓأَيُّهَا الرَّسُوْلُ بَلِّغْ مَآ أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَّبِّكَ} الْآيَةَ وَلَكِنَّهُ رَأَى جِبْرِيْلَ عَلَيْهِ السَّلَام فِيْ صُوْرَتِهِ مَرَّتَيْنِ.

মাসরূক (রহ.) হতে বর্ণিতঃ

আমি আয়িশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, “আম্মা! মুহাম্মাদ (ﷺ) কি তাঁর রবকে দেখেছিলেন?”তিনি বললেন, “তোমার কথায় আমার গায়ের পশম কাঁটা দিয়ে খাড়া হয়ে গেছে। তিনটি কথা সম্পর্কে তুমি কি জানো না যে, তোমাকে এ তিনটি কথা বলবে সে মিথ্যা বলবে। যদি কেউ তোমাকে বলে যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর প্রতিপালককে দেখেছেন, তাহলে সে মিথ্যাচারী।”তারপর তিনি পাঠ করলেন, “তিনি দৃষ্টিশক্তির অধিগম্য নন, কিন্তু দৃষ্টিশক্তি তাঁর অধিগত; এবং তিনিই সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক পরিজ্ঞাত।” (সূরা আল-আনআম ৬:১০৩)। “মানুষের এমন মর্যাদা নেই যে, আল্লাহ তাঁর সঙ্গে কথা বলবেন ওহীর মাধ্যম ব্যতীত অথবা পর্দার আড়াল ছাড়া।” (সূরা আশ-শূরা ৪২:৫১)।আর যে ব্যক্তি তোমাকে বলবে যে, আগামীকাল কী হবে সে তা জানে, তাহলে সে মিথ্যাচারী। তারপর তিনি তিলাওয়াত করলেন, “কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে।” (সূরা লুকমান ৩১:৩৪)।এবং তোমাকে যে বলবে, মুহাম্মাদ (ﷺ) কোন কথা গোপন রেখেছেন, তাহলেও সে মিথ্যাচারী। এরপর তিনি পাঠ করলেন, “হে রসূল! তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, তা প্রচার কর।” (সূরা আল-মায়িদাহ ৫:৬৭)।হ্যাঁ, তবে রাসূল (ﷺ) জিবরীল (আঃ)-কে তাঁর নিজস্ব আকৃতিতে দুইবার দেখেছেন।

[৩২৩৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৮৮,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৯১)

সহীহ বুখারী হাদিস ৪৮৫৫-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে মাসরূক (রহঃ) আয়িশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেন, মুহাম্মাদ (صلى الله عليه وسلم) কি তাঁর রবকে দেখেছিলেন? আয়িশা (রাঃ) কঠোরভাবে বলেন, যে এমন বলবে সে মিথ্যা বলবে। তিনি কুরআনের আয়াত পাঠ করেন যে দৃষ্টি তাঁকে ধরতে পারে না এবং আল্লাহ মানুষের সঙ্গে ওহী বা পর্দার আড়াল ছাড়া কথা বলেন না। এরপর তিনি আরও দুইটি দাবি খণ্ডন করেন: কেউ যদি বলে নবী (صلى الله عليه وسلم) আগামীকাল কী হবে জানেন, অথবা তিনি কোনো ওহী গোপন রেখেছেন, তাও মিথ্যা। শেষে তিনি বলেন, নবী (صلى الله عليه وسلم) জিবরীল (আঃ)-কে তাঁর নিজ আকৃতিতে দুইবার দেখেছেন। হাদিসটি “নবী কি আল্লাহকে দেখেছেন”, “গায়েবের জ্ঞান” ও “ওহী প্রচার” বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • আয়িশা (রাঃ) রবকে দেখার দাবিকে স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছেন।
  • আগামীকাল কী হবে—এ জ্ঞান মানুষের কাছে নেই বলে আয়াত উল্লেখ করেছেন।
  • নবী (صلى الله عليه وسلم) ওহী গোপন করেছেন—এ দাবি তিনি মিথ্যা বলেছেন।
  • নবী (صلى الله عليه وسلم) জিবরীল (আঃ)-কে নিজ আকৃতিতে দুইবার দেখেছেন।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন