৬৫/৩০৪. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণী: সে বলবে, আরও কিছু আছে কি? (সূরা কাফ ৫০/৩০)
জান্নাত ও জাহান্নামের বিতর্ক: রহমত, আযাব ও আল্লাহর ন্যায়
সহীহ বুখারী : ৪৮৫০
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৮৫০
عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنْ هَمَّامٍ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم تَحَاجَّتْ الْجَنَّةُ وَالنَّارُ فَقَالَتْ النَّارُ أُوْثِرْتُ بِالْمُتَكَبِّرِيْنَ وَالْمُتَجَبِّرِيْنَ وَقَالَتْ الْجَنَّةُ مَا لِيْ لَا يَدْخُلُنِيْ إِلَّا ضُعَفَاءُ النَّاسِ وَسَقَطُهُمْ قَالَ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى لِلْجَنَّةِ أَنْتِ رَحْمَتِيْ أَرْحَمُ بِكِ مَنْ أَشَاءُ مِنْ عِبَادِيْ وَقَالَ لِلنَّارِ إِنَّمَا أَنْتِ عَذَابِيْ أُعَذِّبُ بِكِ مَنْ أَشَاءُ مِنْ عِبَادِيْ وَلِكُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا مِلْؤُهَا فَأَمَّا النَّارُ فَلَا تَمْتَلِئُ حَتَّى يَضَعَ رِجْلَهُ فَتَقُوْلُ قَطْ قَطْ قَطْ فَهُنَالِكَ تَمْتَلِئُ وَيُزْوَى بَعْضُهَا إِلَى بَعْضٍ وَلَا يَظْلِمُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ مِنْ خَلْقِهِ أَحَدًا وَأَمَّا الْجَنَّةُ فَإِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ يُنْشِئُ لَهَا خَلْقًا.
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, জান্নাত ও জাহান্নাম পরস্পর বিতর্ক করে। জাহান্নাম বলে, ‘দাম্ভিক ও পরাক্রমশালীদের দ্বারা আমাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।’ জান্নাত বলে, ‘আমার কী হলো? আমাতে কেবলমাত্র দুর্বল এবং নিরীহ ব্যক্তিরাই প্রবেশ করছে।’তখন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা‘আলা জান্নাতকে বলবেন, ‘তুমি আমার রহমত। তোমার দ্বারা আমার বান্দাদের যাকে ইচ্ছে আমি অনুগ্রহ করব।’ আর তিনি জাহান্নামকে বলবেন, ‘তুমি হলে আযাব। তোমার দ্বারা আমার বান্দাদের যাকে ইচ্ছে শাস্তি দেব। জান্নাত ও জাহান্নাম প্রত্যেকের জন্যই রয়েছে পূর্ণতা। তবে জাহান্নাম পূর্ণ হবে না যতক্ষণ না তিনি তাঁর পা তাতে রাখবেন। তখন সে বলবে, ‘বাস, বাস, বাস।’ তখন জাহান্নাম পূর্ণ হয়ে যাবে এবং এর এক অংশ অপর অংশের সঙ্গে মুড়িয়ে দেয়া হবে। আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির কারো প্রতি জুলুম করবেন না। অবশ্য আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতের জন্য অন্য মাখলুক সৃষ্টি করবেন।
[৪৮৪৯; মুসলিম ৫১/১৩, হাঃ ২৮৪৬, আহমাদ ৮১৭০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৮৩,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৮৬)
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৮৫০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জান্নাত ও জাহান্নামের কথোপকথন এসেছে। জাহান্নাম বলে, দাম্ভিক ও পরাক্রমশালীদের দ্বারা তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। জান্নাত বলে, তার মধ্যে কেবল দুর্বল ও নিরীহ মানুষ প্রবেশ করছে। আল্লাহ জান্নাতকে বলেন, “তুমি আমার রহমত”; আর জাহান্নামকে বলেন, “তুমি আমার আযাব।” হাদিসে আরও বলা হয়েছে, প্রত্যেকটির পূর্ণতা আছে। জাহান্নাম পূর্ণ হবে আল্লাহর ইচ্ছায়, আর আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির কারো প্রতি জুলুম করবেন না। জান্নাতের জন্য আল্লাহ অন্য মাখলুক সৃষ্টি করবেন। “জান্নাত ও জাহান্নামের বিতর্ক”, “আল্লাহর রহমত” এবং “আল্লাহ জুলুম করেন না”—এসব মূল কীওয়ার্ডের সঙ্গে এই হাদিস সরাসরি যুক্ত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দাম্ভিকতা ও শক্তির অহংকার জাহান্নামের প্রসঙ্গে এসেছে।
- জান্নাতকে আল্লাহ তাঁর রহমত বলেছেন।
- জাহান্নাম আল্লাহর আযাব হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
- আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির কারো প্রতি জুলুম করেন না।
