৬৫/২৯৭. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণী:
রাতের সালাত: কৃতজ্ঞ বান্দা হওয়ার ভালোবাসা
সহীহ বুখারী : ৪৮৩৭
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৮৩৭
الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيْزِ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يَحْيَى أَخْبَرَنَا حَيْوَةُ عَنْ أَبِي الْأَسْوَدِ سَمِعَ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنَّ نَبِيَّ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُوْمُ مِنْ اللَّيْلِ حَتَّى تَتَفَطَّرَ قَدَمَاهُ فَقَالَتْ عَائِشَةُ لِمَ تَصْنَعُ هَذَا يَا رَسُوْلَ اللهِ وَقَدْ غَفَرَ اللهُ لَكَ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ قَالَ أَفَلَا أُحِبُّ أَنْ أَكُوْنَ عَبْدًا شَكُوْرًا فَلَمَّا كَثُرَ لَحْمُهُ صَلَّى جَالِسًا فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ قَامَ فَقَرَأَ ثُمَّ رَكَعَ.
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর নবী (ﷺ) রাতে এত অধিক সালাত আদায় করতেন যে, তাঁর পদযুগল ফেটে যেত। আয়িশা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ তো আপনার আগের ও পরের ত্রুটিসমূহ ক্ষমা করে দিয়েছেন? তবু আপনি কেন তা করছেন? তিনি বললেন, আমি কি আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা হওয়া পছন্দ করব না? তাঁর মেদ বর্ধিত হলে তিনি বসে সালাত আদায় করতেন। যখন রুকু করার ইচ্ছে করতেন, তখন তিনি দাঁড়িয়ে কিরাত পড়তেন, তারপর রুকু করতেন।
[১১১৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৭১,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৭৪)[১] অর্থাৎ তিনি বার্ধক্যে পৌঁছলে।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৮৩৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর রাতের সালাতের কথা বলেন। তিনি এত বেশি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতেন যে তাঁর পা ফেটে যেত। আয়িশা (রাঃ) প্রশ্ন করেন, আল্লাহ তো তাঁর আগের ও পরের ত্রুটিসমূহ ক্ষমা করেছেন, তাহলে কেন এত কষ্ট? নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তিনি কি আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা হওয়া পছন্দ করবেন না? পরে তাঁর শরীর ভারী হলে তিনি বসে সালাত আদায় করতেন; রুকু করতে চাইলে দাঁড়িয়ে কিরাত পড়ে তারপর রুকু করতেন। এই বর্ণনায় কৃতজ্ঞতা, তাহাজ্জুদ এবং শরীরের অবস্থার সঙ্গে ইবাদতের ভারসাম্য—তিনটি বিষয় আছে। শিক্ষা হলো, ইবাদত ভালোবাসা ও শোকরের সঙ্গে করা, আর অসুবিধা হলে শরীরের অবস্থাও বিবেচনায় রাখা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাতের সালাত কৃতজ্ঞতার সুন্দর প্রকাশ।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) ইবাদতে গভীর ভালোবাসা দেখিয়েছেন।
- শরীরের অবস্থার কারণে বসে সালাত আদায় করার বিষয় এসেছে।
- ইবাদতে শোকর ও সামর্থ্যের ভারসাম্য রাখা যায়।
