৬৫/২৯৬. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণী: নিশ্চয় আমি আপনাকে এক প্রকাশ্য বিজয় দান করেছি (সূরা আল-ফাতহ ৪৮/১)
সূরা ফাতহ নাজিল: সুস্পষ্ট বিজয়ের আনন্দ
সহিহ বুখারী : ৪৮৩৩
সহিহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৮৩৩
عَبْدُ اللهِ بْنُ مَسْلَمَةَ عَنْ مَالِكٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ أَبِيْهِ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَسِيْرُ فِيْ بَعْضِ أَسْفَارِهِ وَعُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يَسِيْرُ مَعَهُ لَيْلًا فَسَأَلَهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ عَنْ شَيْءٍ فَلَمْ يُجِبْهُ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ سَأَلَهُ فَلَمْ يُجِبْهُ ثُمَّ سَأَلَهُ فَلَمْ يُجِبْهُ فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ ثَكِلَتْ أُمُّ عُمَرَ نَزَرْتَ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم ثَلَاثَ مَرَّاتٍ كُلَّ ذَلِكَ لَا يُجِيْبُكَ قَالَ عُمَرُ فَحَرَّكْتُ بَعِيْرِيْ ثُمَّ تَقَدَّمْتُ أَمَامَ النَّاسِ وَخَشِيْتُ أَنْ يُنْزَلَ فِيَّ قُرْآنٌ فَمَا نَشِبْتُ أَنْ سَمِعْتُ صَارِخًا يَصْرُخُ بِيْ فَقُلْتُ لَقَدْ خَشِيْتُ أَنْ يَكُوْنَ نَزَلَ فِيَّ قُرْآنٌ فَجِئْتُ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَقَالَ لَقَدْ أُنْزِلَتْ عَلَيَّ اللَّيْلَةَ سُوْرَةٌ لَهِيَ أَحَبُّ إِلَيَّ مِمَّا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ ثُمَّ قَرَأَ {إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُّبِيْنًا}.
আসলাম (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতের বেলা কোন এক সফরে ছিলেন। তাঁর সঙ্গে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-ও চলছিলেন। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) তাঁকে কোন বিষয়ে প্রশ্ন করলেন, কিন্তু রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে কোন উত্তর দিলেন না। তিনি আবার তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, কিন্তু তিনি কোন উত্তর দিলেন না। তারপর তিনি আবার তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, এবারও তিনি কোন উত্তর দিলেন না।তখন উমর (রাঃ) (নিজেকে) বললেন, “উমরের মা হারিয়ে যাক। তুমি তিনবার রাসূল (ﷺ)-কে প্রশ্ন করলে, কিন্তু একবারও তিনি তোমার জবাব দিলেন না।”উমর (রাঃ) বলেন, “তারপর আমি আমার উটটি দ্রুতবেগে চালিয়ে লোকদের আগে চলে গেলাম এবং আমার ব্যাপারে কুরআন নাজিলের আশংকা করলাম। অধিকক্ষণ হয়নি, তখন শুনলাম এক আহ্বানকারী আমাকে ডাকছে। আমি (মনে মনে) বললাম, আমি তো আশংকা করছিলাম যে, আমার ব্যাপারে কোন আয়াত অবতীর্ণ হতে পারে।”তারপর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে তাঁকে সালাম করলাম। তিনি বললেন, “আজ রাতে আমার উপর এমন একটি সূরা নাজিল হয়েছে, যা আমার কাছে এই পৃথিবী, যার ওপর সূর্য উদিত হয়, তা থেকেও অধিক প্রিয়।” তারপর তিনি পাঠ করলেন, নিশ্চয়ই আমি তোমাকে দিয়েছি সুস্পষ্ট বিজয়।
[৪১৭৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৬৮,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৭০)
সহিহ বুখারী হাদিস ৪৮৩৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক সফরের রাতের ঘটনা এসেছে। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে তিনবার একটি বিষয়ে প্রশ্ন করেন, কিন্তু তিনি উত্তর দেন না। উমর (রাঃ) নিজের ব্যাপারে আশঙ্কিত হন এবং লোকদের আগে চলে যান। কিছুক্ষণ পর তাঁকে ডাকা হলে তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে সালাম করেন। তখন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, আজ রাতে তাঁর ওপর এমন একটি সূরা নাজিল হয়েছে, যা তাঁর কাছে সূর্য উদিত হওয়া সব কিছুর চেয়েও প্রিয়। এরপর তিনি পড়েন: “নিশ্চয়ই আমি তোমাকে সুস্পষ্ট বিজয় দিয়েছি।” এই হাদিসে সূরা ফাতহ, ওহী নাজিল এবং নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর আনন্দের কথা এসেছে। শিক্ষা হলো, ওহী আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে এবং মুমিনের জন্য কুরআনের সুসংবাদ গভীর আনন্দের বিষয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআনের নাজিল হওয়া নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর জন্য গভীর আনন্দের বিষয় ছিল।
- উমর (রাঃ)-এর আচরণে নিজের ভুলের ভয় দেখা যায়।
- নবীর নীরবতাও সাহাবীদের কাছে গুরুত্ব পেত।
- সূরা ফাতহে সুস্পষ্ট বিজয়ের সুসংবাদ এসেছে।
