৬৫/২৯০. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণী: এরপর তারা তাকে অমান্য করে বলে সে তো শিখানো বুলি বলছে, সে এক পাগল। (সূরা আদ-দুখান ৪৪/১৪)
ধোঁয়া ও কুরাইশ: বিপদ কেটে গেলে কী শেখা দরকার
সহীহ বুখারী : ৪৮২৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৮২৪
بِشْرُ بْنُ خَالِدٍ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سُلَيْمَانَ وَمَنْصُوْرٍ عَنْ أَبِي الضُّحَى عَنْ مَسْرُوْقٍ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللهِ إِنَّ اللهَ بَعَثَ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم وَقَالَ {قُلْ مَآ أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ وَّمَآ أَنَا مِنَ الْمُتَكَلِّفِيْنَ} فَإِنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا رَأَى قُرَيْشًا اسْتَعْصَوْا عَلَيْهِ فَقَالَ اللهُمَّ أَعِنِّيْ عَلَيْهِمْ بِسَبْعٍ كَسَبْعِ يُوْسُفَ فَأَخَذَتْهُمْ السَّنَةُ حَتَّى حَصَّتْ كُلَّ شَيْءٍ حَتَّى أَكَلُوا الْعِظَامَ وَالْجُلُوْدَ فَقَالَ أَحَدُهُمْ حَتَّى أَكَلُوا الْجُلُوْدَ وَالْمَيْتَةَ وَجَعَلَ يَخْرُجُ مِنَ الْأَرْضِ كَهَيْئَةِ الدُّخَانِ فَأَتَاهُ أَبُوْ سُفْيَانَ فَقَالَ أَيْ مُحَمَّدُ إِنَّ قَوْمَكَ قَدْ هَلَكُوْا فَادْعُ اللهَ أَنْ يَكْشِفَ عَنْهُمْ فَدَعَا ثُمَّ قَالَ تَعُوْدُوْنَ بَعْدَ هَذَا فِيْ حَدِيْثِ مَنْصُوْرٍ ثُمَّ قَرَأَ {فَارْتَقِبْ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَآءُ بِدُخَانٍ مُّبِيْنٍ} إِلَى {عَآئِدُوْنَ} أَنَكْشِفُ عَنْهُمْ عَذَابَ الآخِرَةِ فَقَدْ مَضَى الدُّخَانُ وَالْبَطْشَةُ وَاللِّزَامُ وَقَالَ أَحَدُهُمْ الْقَمَرُ وَقَالَ الْآخَرُ وَالرُّوْمُ.
‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহ তা‘আলা মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে পাঠিয়ে বলেছেন, “বল, আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না এবং যারা মিথ্যা দাবী করে আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নই।”রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন দেখলেন যে, কুরাইশরা তাঁর নাফরমানী করছে, তখন তিনি বললেন, ইউসুফ (‘আ.)-এর সময়কার সাত বছরের দুর্ভিক্ষের মত দুর্ভিক্ষের দ্বারা তুমি আমাকে তাদের বিরুদ্ধে সাহায্য কর। ফলে দুর্ভিক্ষ তাদের পেয়ে বসল। নিঃশেষ করে দিল তাদের সমস্ত কিছু, এমনকি তারা হাড় এবং চামড়া খেতে আরম্ভ করল।আর একজন রাবী বলেছেন, তারা চামড়া ও মরা খেতে লাগল। তখন যমীন থেকে ধোঁয়ার মত বের হতে লাগল। এ সময় আবূ সুফ্ইয়ান নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বলল, ‘হে মুহাম্মাদ! তোমার কওম তো ধ্বংস হয়ে গেল। আল্লাহর কাছে দু‘আ কর, যেন তিনি তাদের থেকে এ অবস্থা দূর করে দেন।’ তখন তিনি দু‘আ করলেন, এবং বললেন, এরপর তারা আবার নিজেদের আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।মানসূর হতে বর্ণিত হাদীসে আছে, তারপর তিনি এ আয়াত পাঠ করলেন, “অতএব, তুমি অপেক্ষা কর সে দিনের, যে দিন স্পষ্ট ধূম্রাচ্ছন্ন হবে আকাশ, তোমরা তো আগের অবস্থায় ফিরে যাবেই.....পর্যন্ত। (তিনি বলেন) আখিরাতের শাস্তিও কি দূর হয়ে যাবে? ধোঁয়া, প্রবল পাকড়াও এবং ধ্বংস তো অতিক্রান্ত হয়েছে। এক রাবী চন্দ্র এবং অন্য রাবী রোমের পরাজয়ের কথাও উল্লেখ করেছেন।
[১০০৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৬০,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৬২)
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৮২৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কুরাইশদের কঠিন দুর্ভিক্ষ, আবূ সুফিয়ানের আবেদন, নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর দোয়া এবং পরে তাদের আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার কথা এসেছে। দুর্ভিক্ষ এমন ছিল যে তাদের খাবারের অবস্থা খুব কঠিন হয়ে যায়। বর্ণনায় হাড়, চামড়া, মরা বস্তু খাওয়ার কথাও এসেছে। পরে আবূ সুফিয়ান এসে নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে দোয়া করতে বলেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) দোয়া করেন, কিন্তু এটাও বলা হয় যে তারা আবার ফিরে যাবে। এরপর ধোঁয়া, প্রবল পাকড়াও ও লিযাম ঘটে গেছে বলা হয়েছে; এক রাবী চাঁদ এবং অন্য রাবী রোমের পরাজয়ের কথাও বলেন। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, শুধু বিপদে আল্লাহকে ডাকা যথেষ্ট নয়; বিপদ দূর হলে সত্যের পথে থাকা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিপদের সময় আল্লাহর কাছে ফিরে আসা দরকার।
- বিপদ কেটে গেলে আবার ভুলে ফিরে যাওয়া ক্ষতির কারণ।
- দোয়া ও বৃষ্টির ঘটনা আল্লাহর দয়ার কথা মনে করায়।
- ধোঁয়া ও পাকড়াওয়ের বর্ণনা সতর্কতার শিক্ষা দেয়।
